• বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮

ধর্মপাশায় সমাপনী পরীক্ষায় আনন্দ স্কুলের ৯৮জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত

ছবি : প্রতীকী

শিক্ষা

ধর্মপাশায় সমাপনী পরীক্ষায় আনন্দ স্কুলের ৯৮জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত

  • ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২১ নভেম্বর ২০১৮

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার তৃতীয় দিন গতকাল মঙ্গলবার ১৯টি পরীক্ষা কেন্দ্রে ৯৮ জন পরীক্ষার্থী রহস্যজনক কারনে অনুপস্থিত ছিল। পরীক্ষার শুরু থেকে এ নিয়ে উপজেলায় মোট অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫৫ জনে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওবায়দুর রহমানের হাতে সোমবার উপজেলা সদরের জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও উপজেলার সৈয়দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ‘আনন্দ স্কুলের’ ২০ জন ভুয়া পরীক্ষার্থী ধরা পড়ার খবরেই মঙ্গলবারের পরীক্ষায় ওই ৯৮ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। আর অনুপস্থিত ওইসব পরীক্ষার্থীরা সকলেই উপজেলার রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন (রক্স) প্রকল্পের ‘আনন্দ স্কুলেরই’ ভুয়া পরীক্ষার্থী বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবারের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় এ উপজেলায় ১৯টি কেন্দ্রে মোট ৫৭৯৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করার কথা। এর মধ্যে উপজেলার ১৯৩টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ৫১৫৬ জন ১৩টি ইবতেদায়ি মাদরাসার থেকে ১১৪ জন ও উপজেলার রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন (রস্ক) প্রকল্পের ৪৫টি ‘আনন্দ স্কুল’ থেকে ৫২৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করার কথা। কিন্তু পরীক্ষার প্রথম দিনেই অনুপস্থিত থাকে ৫৫৭ জন পরীক্ষার্থী। এরমধ্যে পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনে ২টি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ‘আনন্দ স্কুলের’ ২০ পরীক্ষার্থী ধরা পড়ার পর পরীক্ষার তৃতীয় দিন মঙ্গলবার ভুয়া হিসেবে ধরা পড়ার ভয়ে আরো ৯৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

আনন্দ স্কুলের ভুয়া পরীক্ষার্থীরা জানায়, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় থেকে তাদেরকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য জন প্রতি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা করে পরিশোধ করা হবে জানানো হয়েছিল। প্রথম পরীক্ষার দিন অনেকেই ১০০ টাকা করে পেয়েছিল বলে জানায় তারা।

রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন (রস্ক) প্রকল্পের ট্রেনিং কো-অর্ডিনেটর (টিসি) সোহেলী আক্তার তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ভূয়া পরীক্ষার্থী শনাক্ত করার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। কোনো প্রকার অনিয়মের সাথে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও জানান তিনি।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল বলেন, মঙ্গলবারের পরীক্ষায় হটাৎ করে ৯৮ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি সত্যিই রহস্যজনক। তবে অনুপস্থিত ওইসব পরীক্ষার্থীরা ভুয়া কিনা এবং তারা কোন-কোন বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে তা আমরা খুঁজে বের করার কাজ করছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘এ ব্যাপারে টিসি, অভিযুক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads