• রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬
ads
হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজে শিক্ষক সংকট

হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ

সংরক্ষিত ছবি

শিক্ষা

কর্মরত ১৫, প্রেষণে ৭ জন

হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজে শিক্ষক সংকট

  • ফয়সল চৌধুরী, হবিগঞ্জ
  • প্রকাশিত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

শিক্ষক সঙ্কটে হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। ১০২ শিক্ষার্থীর জন্য গেজেট অনুযায়ী ৫৫ শিক্ষক প্রয়োজন হলেও আছেন অধ্যক্ষসহ মাত্র ১৫ জন। এর মাঝে প্রফেসর নেই একজনও। আবার যারা রয়েছেন তাদের মাঝে ৭ জনই প্রেষণে রয়েছেন। তাদের জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে চিকিৎসাসেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া মেডিকেল কলেজে রয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারী সঙ্কট।

জানা গেছে, ২০১৭ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে জনবলের চাহিদা অনুযায়ী প্রস্তাবনায় মাত্র একজন শিক্ষকের নাম পাঠানো হয়। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ ডা. আবু সুফিয়ান জানান, এখানে শিক্ষক সঙ্কট নেই। সিভিল সার্জন ডা. সুচিন্ত চৌধুরী জানান, শিক্ষক সঙ্কটের কারণে তো শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে না। এ অবস্থায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ আছে কিছু ডাক্তার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রেষণে দেওয়ার জন্য। এর প্রেক্ষিতে কয়েকজন শিক্ষক ক্লাস নিচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রেষণে শিক্ষক দেওয়ায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কিছু সমস্যা বিরাজ করছে। কর্মরতদের বেশ কষ্ট করতে হচ্ছে।

জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর হবিগঞ্জ সফরে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন জনসভায় অ্যাডভোকেট আবু জাহির এমপির দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ অনুমোদন লাভ করে। একই সাথে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অস্থায়ী ক্যাম্পাস নির্ধারণ করা হয়েছিল নির্মাণাধীন ২৫০ শয্যা ভবনকে। সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবু সফিয়ানকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।  কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় ওই শিক্ষাবর্ষেও শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়নি। অবশেষে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ৫১ শিক্ষার্থী ভর্তির মাধ্যমে মেডিকেল কলেজের যাত্রা শুরু করে। আর আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৮ সালের ১০ জানুয়ারি।

বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছেন ১০২ জন। এদিকে ২০১৭ সালের ২৯ নভেম্বর তৎকালীন উপসচিব শাহানারা ইয়াসমিন লিলি স্বাক্ষরিত এক পত্রে জনবলের চাহিদাপত্রে বলা হয়, জনবল কাঠামো অপ্রতুল বিবেচিত হলে প্রয়োজনীয়তার নিরিখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগের পদ সৃজনের চেকলিস্ট অনুযায়ী প্রস্তাব প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। ২০১৮ সালের ১৯ এপ্রিল অধ্যক্ষ ডা. আবু সুফিয়ান চিঠির জবাব দেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, এ মেডিকেল কলেজে বিদ্যমান অনুমোদিত জনবলের কোনো পদ নেই। ফলে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাস্থ্য অধিদফতরের আওতাধীন বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান থেকে প্রেষণে কর্মরত কর্মকর্তা, কর্মচারী দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে ফিজিওলজি বিভাগে একজন সহকারী অধ্যাপক প্রয়োজন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে গেজেট অনুযায়ী ১০০ শিক্ষার্থীর জন্য ৫৫ শিক্ষক প্রয়োজন। কিন্তু কর্মরত আছেন অধ্যক্ষসহ মাত্র ১৫ জন।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads