• সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬
ads
তদন্ত হয়, বিচার হয় না

ছবি : সংগৃহীত

শিক্ষা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

তদন্ত হয়, বিচার হয় না

  • মহিউদ্দিন রিফাত, জবি
  • প্রকাশিত ১৭ মে ২০১৯

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত অপরাধ তদন্তে কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তদন্তের পর প্রতিবেদনও জমা দেয় কমিটি। কিন্তু প্রতিবেদন অনুযায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনায় দেখা যায়, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে শুধু আশ্বাসই দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, তা বাস্তবায়নের নজির নেই।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে লোক দেখানোর জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রশাসন। কোনো বিচার হয় না। তদন্ত কমিটিতেই সব বিচার শেষ। প্রতিবারই শুধু তদন্ত কমিটি গঠন করে দায় সারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। স্বাভাবিকভাবেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর আস্থা হারিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক হালিম প্রামাণিকের বিরুদ্ধে দুই ছাত্রীর করা যৌন হয়রানির অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয় তদন্তে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৭তম সিন্ডিকেট সভায় দুই বছরের জন্য তার পদোন্নতি আটকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তাকে তিরস্কার করে এ শাস্তি দেওয়া হয়। কিন্তু অপরাধের সঙ্গে শাস্তি সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় ৩০ এপ্রিল ঘটনা পুনঃতদন্ত করে কঠোর শাস্তির দাবিতে উপাচার্য বরাবর চিঠি দেন ভুক্তভোগী দুই ছাত্রী। পরে ওই দুই ছাত্রী ছাড়াও হালিম প্রামাণিকের বিরুদ্ধে আরো কয়েকটি যৌন হয়রানির অভিযোগ পাওয়া যায়। এ অবস্থায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৭৭তম সিন্ডিকেট সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১/১০ ধারা অনুযায়ী উপাচার্যের নিজস্ব ক্ষমতাবলে বাতিল করা হয় এবং তার সাময়িক বহিষ্কার বহাল রাখা হয়। পরে ঘটনাগুলো সম্পর্কে অভিযোগকারীদের আনা সব অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি করে দেওয়া হয়। কিন্তু ওই কমিটি এখন পর্যন্ত তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে কি না তা কেউ জানে না।

এ বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দিনভর ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে দৈনিক সমকালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি লতিফুল ইসলাম, দৈনিক সংবাদের রাকিবুল ইসলাম, খবরপত্রের সোহাগ রাসিফের ওপর হামলা করে ছাত্রলীগকর্মীরা। পরে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেন তারা। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি প্রশাসনকে।

গত ৭ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ায় ফরহাদ হোসাইন ফাহাদ নামে বাংলা বিভাগের এক শিক্ষার্থীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে ইসলামিক শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন (ইশা) এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় ফরহাদকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানায় তারা। এর কিছুক্ষণ পর ক্যাম্পাসে ধর্মভিত্তিক সংগঠন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কর্মীদের অবস্থান নিয়ে আপত্তি ‍তুলে পাল্টা মিছিল করে বাম ছাত্র সংগঠনগুলো। বিশ্ববিদ্যালয়কে মৌলবাদের আগ্রাসনমুক্ত করার দাবিতে ক্যাম্পাসে মিছিল করেন তারা। পরে মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে উপাচার্যের ভবনের সামনে সমাবেশে মিলিত হলে একদল তরুণ সেখানে তাদের ওপর হামলা চালায় এবং তাতে কয়েকজন আহত হন বলে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাদের অভিযোগ। এতে দুই নারী শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৮ জন আহত হন বলে দাবি করেন প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতারা। ঘটনার পরপরই হামলার শিকার শিক্ষার্থীরা হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের অভিযোগ দেন। এ ঘটনায়ও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ক্যাম্পাসে অনাকাঙ্ক্ষিত অনেক ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয় লোক দেখানোর জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করে। কোনো শাস্তি হয় না। কোনো রকম কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দায় সারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তদন্ত কমিটিতেই সব বিচার শেষ।’

সাংবাদিক মারধরের ঘটনা এবং বাম সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ বলেন, এই ঘটনাগুলোর তদন্ত চলমান। শিগগিরই আমরা এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেব।

শিক্ষক হালিম প্রামাণিকের বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, হালিম প্রামাণিকের ঘটনায় আমরা তিন অনুষদের ডিন, অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে একজন এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের পক্ষ থেকে একজনকে দিয়ে পাঁচ সদস্যের কমিটি করে দিয়েছিলাম। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এখন পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। তবে এ বিষয়ে তারা খোঁজখবর নিচ্ছেন। শিগগিরই প্রতিবেদন জমা দেবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads