• বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৫
ads
ফের ছিনতাইয়ের শিকার জাবি শিক্ষার্থী

প্রতীকী ছবি

শিক্ষা

ফের ছিনতাইয়ের শিকার জাবি শিক্ষার্থী

  • জাবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৫ মে ২০১৯

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মীর মশাররফ হোসেন হল গেট সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ফের ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছে এক শিক্ষার্থী। ছিনতাইয়ের শিকার ওই শিক্ষার্থীর নাম সাব্বির হোসেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭তম ব্যাচের ইংরেজি বিভাগ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ছাত্র। 

গত বৃহস্পতিবার (২৩ মে) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।

ছিনতাইয়ের শিকার ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর নাম বলেন, “গত বৃহস্পতিবার ইফতার করার পর টিউশনিতে যাওয়ার জন্য সাইকেল নিয়ে বের হই। যখন ডেইরি গেট পার হলাম তখন মীর মশাররফ হোসেন হল সংলগ্ন গেইটের একটু আগের জঙ্গল থেকে ৩ জন ছিনতাইকারী চাপাতি হাতে আমার সাইকেল আটকায়। আমার কাছে থাকা মোবাইলসহ মানিব্যাগ নিয়ে নিতে চায়। আমি মোবাইল না দিতে চাওয়ায় তারা আমাকে চাপাতি দিয়ে কোপাতে চাইলে আমি মাটিতে পড়ে যাই। পরবর্তীতে চিৎকার শুনে একটা বাস থামাতে চাইলে ওরা একজন বাসের কাঁচে কোপ মারে। পরে বাসটি না থাকিয়ে চলে যায়। তখন আমার কাছ থেকে মোবাইলসহ মানিব্যাগ নিয়ে ছিনতাইকারীরা জঙ্গলে ঢুকে পড়ে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের একধিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়, মাঝেমধ্যে সন্ধ্যা নামলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেইন গেট থেকে মীর মশাররফ হোসেন হল গেট সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সর্বশান্ত হতে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারীদের। মোবাইল, টাকাসহ সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র নিয়ে ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। আবার অনেক সময় তাদের হাতে থাকা ধাঁরালো অস্ত্রের আঘাতে জখম হতে হয় অনেকের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতবছর ৫ সেপ্টেম্বর একই জায়গায় ছিনতাইয়ের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা রংপুরের আশিক, ৩ আগষ্ট বিশ্বদ্যালয়ের ৪৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হাফিজ উদ্দিন, ২৪ অক্টোবর ৪৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী প্রিয়াংকা প্রিয়া, ১২ ডিসেম্বর ৩ জন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, ১৪ ডিসেম্বর ৩৬তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী নাজিম উদ্দিন, ১৬ অক্টোবর ড্যাফডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সফটওয়্যার বিভাগের ২য় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ফাহিম ছিনতাইকারীদের হাতে গুরুতর জখম হয় এবং এবছর ১৬ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সৌরভ সিদ্দিকিসহ গত কয়েক বছরে এ জায়গায় অজানা অগনিত ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরপত্তা কর্মকর্তা সুদিপ্ত শাহীন বলেন, “যেহেতু জায়গাটা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বাইরে তাই ওখানে যাওয়া আমাদের জন্য আইন বর্হিভূত। আমরা এ বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ঢাকা জেলা পুলিশের সঙ্গে বসে মিটিং করেছি। এছাড়াও একাধিকবার চিঠি দিয়েছি ঢাকা জেলা পুলিশকে। আশা করি সমাধান হবে।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, “ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বাইরে। তাই পুলিশকে জানানো ছাড়া আমাদের কিছুই করার থাকে না। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বাইরে হওয়ায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গার্ডদের ওই জায়গায় পাহারার দ্বায়িত্ব দিতেও পারি না। ছিনতাই প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে একাধিকবার আমরা পুলিশকে অবহিত করেছি। এমনকি আমি পুলিশকে জায়গাটিতে পাহারা দিতে দেখেছি কিন্তু তারপরেও শুনি যে ছিনতাই হচ্ছে।”

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মো. রেজাউল হক বলেন, “এই এলাকায় আমাদের পুলিশ টহলে সবসময় থাকে। আমরা একাধিকবার ছিনতাইকারী ধরেছি। কিন্তু কিছুদিন পরে ছাড়া পেয়ে তারা আবার ছিনতাই করা শুরু করে।

তিনি বলেন, গত একমাসে কোন ছিনতাইয়ের ঘটনা আমরা জানতে পারিনি। তবে ভবিষ্যতে আমাদের পুলিশের টিম আরও বেশী তৎপর থাকবে। যাতে ওই স্থানে কাউকে ছিনতাইয়ের শিকার না হতে হয়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads