• বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
পাসে সেরা কুমিল্লা, জিপিএ ৫-এ ঢাকা

ছবি : সংগৃহীত

শিক্ষা

পাসে সেরা কুমিল্লা, জিপিএ ৫-এ ঢাকা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৮ জুলাই ২০১৯

চলতি বছরের এইচএসসিতে সাধারণ আট শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে ভালো ফল করেছে কুমিল্লা ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে কুমিল্লা বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। অপরদিকে, সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে অন্য বছরের মতো এবারো দেশ সেরা ঢাকা বোর্ড। এ বোর্ডে ১৮ হাজার ১৮৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

গত বছর ৭০ শতাংশ ৫৫ পাসের হার নিয়ে আট বোর্ডে শীর্ষে ছিল বরিশাল বোর্ড। এবার ৭০ দশমিক ৬৫ শতাংশ পাসের হার নিয়ে বরিশাল বোর্ড ষষ্ঠ অবস্থানে নেমে গেছে। এবার পাসের হারে সবার নিচে রয়েছে চট্টগ্রাম বোর্ড, এই বোর্ডে পাসের হার মাত্র ৬২ দশমিক ১৯ শতাংশ। এইচএসসি ও সমমানের প্র্রকাশিত ফলের পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা যায়।

এবারো আট বোর্ডের মধ্যে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে সেরা ঢাকা বোর্ড। এ বোর্ডে ১৮ হাজার ১৮৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রকাশিত ফলের পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে গড় পাসের হার, বিভাগভিত্তিক পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে ছেলেদের পেছনে ফেলে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। এ বোর্ডে এবার পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৩৭৫ জন পরীক্ষার্থী। বোর্ড সূত্র জানায়, এ বছর গড় পাসের হারের দিক থেকে ছেলেরা পিছিয়ে রয়েছে। ছেলেদের গড় পাসের হার ৭৭ দশমিক ১২ শতাংশ এবং মেয়েদের পাসের হার ৭৮ দশমিক ২৭ শতাংশ। এ বছর বিজ্ঞান বিভাগের পাসের হার ৮৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ, মানবিক বিভাগে ৭২ দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের পাসের হার ৭৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতেও মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। মেয়েদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৩৮৪ জন এবং ছেলেদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৯১ জন।

এ বছর যশোর শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার শতকরা ৭৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এবার এই বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৩১২ জন। এ বোর্ডের ১০ জেলার মধ্যে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে খুলনা। খুলনা জেলা থেকে ৮৩ দশমিক ২৫ ভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়ে প্রথম স্থান দখলে রেখেছে। গতবারও তারা শীর্ষস্থানে ছিল। এবার তলানিতে নেমে গেছে নড়াইল জেলা। এখান থেকে ৬৯ দশমিক ৪০ ভাগ ছাত্রছাত্রী পাস করেছে। গতবার নড়াইল ছিল ৯ম স্থানে। আর গতবার তলানিতে থাকা মাগুরা জেলা এবার উঠে এসেছে ৫ম স্থানে। এ জেলা থেকে পাস করেছে ৭৩ দশমিক ৫১ ভাগ শিক্ষার্থী। এ ছাড়া পাসের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাগেরহাট জেলা। এখান থেকে পাস করেছে ৭৬ দশমিক ১১ ভাগ শিক্ষার্থী। তৃতীয় অবস্থানে থাকা যশোর জেলার পাসের হার ৭৫ দশমিক ৮৭ ভাগ। চতুর্থ অবস্থানে আছে সাতক্ষীরা জেলা। এ জেলা থেকে ৭৫ দশমিক ৭৮ ভাগ ছাত্রছাত্রী পাস করেছে। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে মেহেরপুর জেলা। এ জেলার পাসের হার ৭৩ দশমিক ১৫ ভাগ। বোর্ডের ৭ম স্থানে রয়েছে ঝিনাইদহ জেলা। তাদের পাসের হার ৭২ দশমিক ৫৭। আর ৭২ দশমিক ৫৩ ভাগ পাস করে ৮ম স্থানে রয়েছে কুষ্টিয়া জেলা। বোর্ডের তালিকায় নবম স্থানে ঠাঁই হয়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলার। এখান থেকে পাস করেছে ৭১ দশমিক ৪২ ভাগ ছাত্রছাত্রী।

সিলেটে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করেছে ৬৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৯৪ জন। গত বছর পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ১১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৮৭৩ জন। এ বছর পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটিই বেড়েছে সিলেটে। সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. কবির আহমদ এ তথ্য জানান। চলতি বছর সিলেট বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৭৬ হাজার ২৫১ জন। এর মধ্যে পাস করেছেন ৫১ হাজার ১২৪ জন। পাসের হারে ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। মেয়েদের পাসের হার ৬৮ দশমিক ৮৩ এবং ছেলেদের পাসের হার ৬৪ দশমিক ৯১ শতাংশ।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার আগের বছরের চেয়ে ‘সামান্য’ কমেছে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের পরীক্ষার্থীরা ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে খারাপ ফল করায় সামগ্রিক ফলাফলে প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার ৬২ দশমিক ১৯ শতাংশ। গত বছর পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ৭৩ শতাংশ। পাসের হার কমেছে দশমিক ৫৪ শতাংশ। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৯৬ হাজার ৮৫৮ জন ছাত্রছাত্রী। এবার অংশ নিয়েছে ৯৮ হাজার ৯২৬ জন। গতবারের চেয়ে এবার কলেজের সংখ্যাও বেড়েছে। গতবার ছিল ২৫৩টি, এবার ২৬০টি কলেজের ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলে এ বছর ৯৯ হাজার ৭৯৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬১ হাজার ৫২৩ জন। গত বছর পাস করেছিল ৬০ হাজার ৭৫৫ জন। এ ছাড়া, এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৮৬০ জন পরীক্ষার্থী। গত বছর পেয়েছিলেন ১ হাজার ৬১৩ জন। পাসের ক্ষেত্রে এবারো ছাত্রীরা ছাত্রদের চেয়ে পিছিয়ে আছেন। এবার ৬৫ দশমিক ১১ শতাংশ ছাত্র পাস করেছে। ছাত্রী পাস করেছেন ৫৯ দশমিক ২১ শতাংশ। বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮০ দশমিক ০৯ শতাংশ। মানবিক বিভাগে পাসের হার ৪৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৬৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ব‌রিশাল শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার শতকরা ৭০ দশমিক ৬৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ২০১ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭০.৫৫ শতাংশ ও ৬৭০ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল। এ বছর এ বোর্ডে মোট ৬৩ হাজার ৫৩৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে ৪৪ হাজার ৮৮৭ পরীক্ষার্থী পাস করে। জেলাভিত্তিক পাসের হারে বরিশাল জেলা প্রথম স্থানে আর দ্বিতীয় স্থানে ভোলা জেলার অবস্থান। এ বোর্ডের ৫টি কলেজ থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষায় এবার পাস করেছে ৭৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৭২৯ জন শিক্ষার্থী। গত বছর পাসের হার ছিল ৬৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৪ হাজার ১৩৮ জন। এ বছর পাসের হার এবং জিপিএ দুটিই বেড়েছে। এবার রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে শতভাগ পাস করেছে ৩৪টি প্রতিষ্ঠানে। কেউ পাস করতে পারেনি এমন কলেজের সংখ্যা ৭টি। ছাত্রদের চেয়ে পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। এ বছর শতকরা ৭২ দশমিক ৩২ শতাংশ ছাত্র পাস করেছে আর ছাত্রীদের পাসের হার শতকরা ৮১ দশমিক ২১ শতাংশ।

দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটিই বেড়েছে। কমেছে শূন্য পাসের কলেজের সংখ্যাও। মেয়েরা পাসের হারে এগিয়ে থাকলেও জিপিএ-৫-এ ছেলেরা এগিয়ে রয়েছে। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার ৭১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। যা গতবারের চেয়ে ১১ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেশি। গত বছর পাসের হার ছিল ৬০ দশমিক ২১ শতাংশ। এ বছর দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ২৪ হাজার ৩১৫ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। পাস করেছে ৮৯ হাজার ২৩৩ জন। এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৪৯ জন। এর মধ্যে ২ হাজার ২৭২ জন ছেলে ও ১ হাজার ৭৭৭ জন মেয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। মেয়েদের চেয়ে ৪৯৫ জন ছেলে জিপিএ-৫ বেশি পেয়েছে। তবে পাসের হারে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। মেয়েদের পাসের হার ৭৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ। অপরদিকে ছেলেদের পাসের হার ৬৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ। যা ছেলেদের চেয়ে ৭ দশমিক ০২ শতাংশ মেয়ে বেশি পাস করেছে।

এদিকে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় বিদেশি কেন্দ্রের পাসের হারও বেড়েছে। গতকাল প্রকাশিত ফলাফলে এ তথ্য জানা গেছে। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, বিদেশে অবস্থিত আটটি কেন্দ্রে মোট ২৭০ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ২৫৪ জন। পাসের হার ৯৪ দশমিক ০৭ শতাংশ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৬ জন। গত বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় বিদেশি কেন্দ্রে ২৮৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিলেন ২৬৩ জন। পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ২৮ শতাংশ। বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল সাতটি। এর মধ্যে একটি কেন্দ্রে শতভাগ পাস করে।

এ ছাড়া এইচএসসিতে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এ বছর পাসের হার ৮২ দশমিক ৬২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ২৩৬ জন। তবে চলতি বছরে উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় এ বছর ১০টি শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার সর্বোচ্চ। এবার সারা দেশে গড় পাসের হার যেখানে ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ, সেখানে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৮৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ। মাদরাসা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২ হাজার ২৪৩ জন শিক্ষার্থী। মাদরাসা বোর্ডের অধীনে এবার মোট পরীক্ষা দিয়েছে ৮৬ হাজার ১৩৮ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৯৭ হাজার ৭৯৩ জন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads