• শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৫
ads
সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিল দাবি

ছবি : সংগৃহীত

শিক্ষা

সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিল দাবি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৮ জুলাই ২০১৯

সাত কলেজ অধিভুক্তি বাতিলসহ ৪ দফা দাবিতে ফের আন্দোলনে নেমেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার দুপরে টানা আড়াই ঘণ্টা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। এ সময় আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন লেখাসংবলিত ফেস্টুন প্রদর্শন করেন এবং ‘সাত কলেজের রেজাল্টে গলদ, ঢাবি হলো কলুর বলদ’, ‘ঢাবির বাস আটকায় কে? প্রশাসন জবাব চাই’, ‘শোন বোন শোন ভাই, ঢাবির কোনো শাখা নাই’, ‘রাখতে ঢাবির সম্মান সাত কলেজ বেমানান’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

শিক্ষার্থীদের অবরোধে শাহবাগের আশপাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। তারা টিএসসিতে রাজু ভাস্কর্য মোড়ও সড়ক অবরোধ করে। এতে নগরবাসীর সাধারণ চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং সংলগ্ন বিএসএমএমইউ ও বারডেম এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে বিপাকে পড়েছেন অনেক রোগী ও স্বজনরা।

বেলা ১১টা থেকে তারা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করে সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে স্লে­াগান দিতে দিতে প্রথমে রাজু ভাস্কর্য এলাকায় এবং পরে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকেই অধিভুক্তি বাতিলের দাবি তোলার পাশাপাশি এর আগ পর্যন্ত ভিন্ন রং ও নকশাসহ কলেজের নাম উল্লেখ করে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের আলাদা সার্টিফিকেট দেওয়ার দাবি জানান বিক্ষোভরতরা।

আগের দিনই খাতা মূল্যায়ন যথাযথ না হওয়ার অভিযোগে ও মানোন্নয়নের নিয়ম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সাড়ে তিন ঘণ্টা নিউ মার্কেট মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা।

এর আগেও সেশনজট নিরসন, একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশসহ পাঁচ দফা দাবিতে তারা কয়েকবার আন্দোলনে নামলেও উপাচার্যের আশ্বাসে পরে তা স্থগিত করে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, কর্তৃপক্ষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করতে পারে না। কীভাবে তারা সরকারি সাত কলেজের দুই লাখ শিক্ষার্থীর দায়িত্ব নেবে? গত মঙ্গলবার অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত মোড়ে ঢাবির ঐতিহ্যবাহী লাল বাস ফিরিয়ে দিয়েছে। এটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দিতে পারে। কিন্তু আমরা সকাল থেকে অবস্থান করেছি অথচ প্রশাসনের কেউ যোগাযোগ করেনি।

বিক্ষোভরতদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র মোস্তাকিম আহমেদ আশিক বলেন, সাত কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও একাডেমিক কার্যক্রমে ধীর গতি দেখা দিয়েছে। নিয়মিত পাঠদান, ফলাফল প্রকাশ ব্যাহত হওয়ার সঙ্গে সেশনজট সমস্যায় পড়ছি আমরা। এমনকি এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিচয় সংকটেও ভুগতে হতে পারে।

আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র শাকিল আহমেদ আরো বলেন, আমাদের এই আন্দোলন ২০১৮ থেকে করে আসা সত্ত্বেও প্রশাসন এই ব্যাপারে কোনো কর্ণপাত করছে না। গত মঙ্গলবার ছিল আমাদের আল্টিমেটামের শেষ দিন। কিন্তু প্রশাসন আমাদের দাবি মানেনি। ডাকসু আমাদের আশ্বাস দিলেও কথা রাখেনি। তাই আমরা মাঠে নামতে বাধ্য হয়েছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।

এই আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সাধারণ শিক্ষার্থীরা আমাদের সঙ্গে আছে। আমরা চাই এই অধিভুক্তি খুব দ্রুত বাতিল করে ঢাবি তার সম্মান এবং গৌরব ফিরিয়ে আনবে। সাত কলেজের কারণে মাঝে মাঝে নিজেদের পরিচয় সংকটে পড়তে হয় বলে জানান আরেক শিক্ষার্থী।

তিনি বলেন, অনেকে জিজ্ঞাসা করে ঢাবির কোন শাখায় পড়ি। এটা আমাদের জন্য খুবই লজ্জাজনক এবং হূদয়ে রক্তক্ষরণের মতো। ঢাকা কলেজ থেকে শুরু করে অন্যান্য কলেজের শিক্ষার্থীরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে বিনোদনস্থল এবং মাদকের রুট হিসেবে ব্যবহার করে। প্রশাসনিক কাজ করার জন্য আমাদের রেজিস্ট্রার ভবন আমাদের জন্যই যথেষ্ট নয়। সেখানে সাত কলেজ কীভাবে সামলাব আমরা?

কারুশিল্প বিভাগের শিক্ষার্থী মিফতু মৌ বলেন, আমাদের প্রথম ও প্রাণের দাবি সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিল। দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা কঠোর আন্দোলন চালিয়ে যাব। প্রশাসন কেন আমাদের কথা না শুনে সাত কলেজের প্রতি এত প্রেম দেখাচ্ছে, সেটাই আমরা বুঝি না।

আমরা প্রশাসনকে অনেক বার এই বিষয়ে জানিয়েছি। কিন্তু প্রশাসন আমাদের কথা কানে নিচ্ছে না। ডাকসু শুধু আমাদের আশ্বাস দিচ্ছে, কিন্তু কোনো কাজ করছেন না।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, ‘আমাদের ডাকসু আছে। ডাকসুতে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি আছে। তারা প্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারে। প্রশাসন সবসময় উন্মুক্ত।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads