• রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৫
ads
ঢাবি প্রশাসন : ২৪টি প্রধান পদের ১৭টিতেই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা

সংগৃহীত ছবি

শিক্ষা

ঢাবি প্রশাসন : ২৪টি প্রধান পদের ১৭টিতেই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা

  • সৈয়দ ফয়জুল আল আমীন
  • প্রকাশিত ২২ জুলাই ২০১৯

হাইকোর্টে এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের মনোনীত প্যানেল অবৈধ ঘোষিত হলে ২০১৭ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সাময়িকভাবে উপাচার্যের দায়িত্ব পান অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। কথা ছিল, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সিনেট পূর্ণাঙ্গ করে উপাচার্য নির্বাচন করার; কিন্তু গত দুই বছরেও তা হয়নি। ফলে স্থায়ী না হয়ে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রধান নির্বাহী।

জানা গেছে, শুধু উপাচার্য নন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ২৪টি পদের ১৭টিই চলছে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দিয়ে। ভারপ্রাপ্ত হিসেবে নিয়োগ পেলেও পরবর্তী সময়ে এসব পদ আর স্থায়ী করা হয়নি। এমনকি স্থায়ী করার কোনো উদ্যোগও নেওয়া হয়নি। যে কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, গ্রন্থাগারিক, জনসংযোগ কর্মকর্তা, হিসাব পরিচালক, প্রধান চিকিৎসক, পরিবহন ম্যানেজারসহ গুরুত্বপূর্ণ ১৭টি পদ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিয়ে চলছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এসব পদে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থাকলে যেকোনো সময় পদ হারানোর ভয় থাকে। আর এই ভয়কে কাজে লাগিয়ে উপাচার্য তাদের নিজের অনুগত করে রাখেন। এই সুযোগ কাজে লাগাতেই উপাচার্য এই পদগুলোতে স্থায়ী কর্মকর্তা নিয়োগ দেন না।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, বিভিন্ন দপ্তরে কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে অনেক বিষয় খেয়াল রাখতে হয়। হুট করেই কাউকে বড় কোনো দায়িত্ব দেওয়াটা সমীচীন নয়। এ জন্য পদগুলো খালি হলে সাময়িকভাবে ভারপ্রাপ্ত কাউকে দিয়ে কাজ চালানো হয়। কর্মকর্তাদের নিজের প্রতি অনুগত রাখতে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে কাজ চালানো হয়—এ বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. এনামউজ্জামান। কয়েক বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০০৭ সালের ৩০ জুন রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পান সৈয়দ রেজাউর রহমান। ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্বে থেকে চাকরির মেয়াদ শেষ করেন তিনি। বর্তমান রেজিস্ট্রারকেও স্থায়ী করার কোনো উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের।

ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে রয়েছেন এ এম এম মহিউজ্জামান চৌধুরী। পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন জীবন কুমার মিশ্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছেন এ কে আফজালুল হক। এ ছাড়া ছাত্র-নির্দেশনা ও পরামর্শদান দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন অধ্যাপক মেহজাবীন হক। বিশ্ববিদ্যালয় মুদ্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপকের (ম্যানেজার) দায়িত্বে রয়েছেন মো. সামছুল আলম। অধ্যাপক ড. এ টি এম নরুর রহমান খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা সংস্থার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন। ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক হিসেবে আছেন মো. মোস্তাফিজুর রহমান। ডা. সরওয়ার জাহান মুক্তাফী ভারপ্রাপ্ত প্রধান চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক ড. এম জিয়াউল হক মামুন, ভারপ্রাপ্ত পরিবহন ম্যানেজার মো. সামছুল আলম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে অধ্যাপক ড. এস এম জাবেদ আহমদ ভারপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন। এই বিভাগের আরেক গুরুত্বপূর্ণ পদ গ্রন্থাগারিক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) শাখায় ভারপ্রাপ্ত হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন সৈয়দা ফরিদা পারভীন। হিসাব বিভাগে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন মুহাম্মদ আবদুল কুদ্দুস মোল্লা। এর আগে ২০০৮ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে এই বিভাগে নিয়োগ পান মো. আশরাফ উদ্দিন। তারও চাকরির মেয়াদ শেষ হয় ভারপ্রাপ্ত হিসেবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে আছেন মাহমুদ আলম। ২০১৮ সালের ১১ নভেম্বর থেকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এর আগে দায়িত্বে থাকা ড. নূর-ই-ইসলামও (সেলু বাসিত) ভারপ্রাপ্ত হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।

উপাচার্যসহ এত পদ ভারপ্রাপ্ত থাকার বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক উপাচার্য গণমাধ্যমকে বলেন, যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, তাই এ বিষয়ে কিছু বলার নেই। হতে পারে এটা বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো কৌশল। তবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ এত পদে একইসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থাকাটা বেমানান।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads