• শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads

শিক্ষা

মেডিকেলে ভর্তি

নতুন নীতিমালায় শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৪ আগস্ট ২০১৯

মেডিকেলে ভর্তিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নতুন নীতিমালা নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। মন্ত্রণালয় প্রণীত নীতিমালা ২০১১ পাল্টে নীতিমালা ২০১৭-এ ভর্তির ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম করার পর থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিপাকে রয়েছেন।

এই নীতিমালার ফলে মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে কমপক্ষে জিপিএ দরকার ৯ পয়েন্ট। অন্যদিকে নীতিমালা ২০১১-এর ক্ষেত্রে কমপক্ষে জিপিএ-৮ হলেই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যেত।

এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গত বছরে আট শিক্ষার্থী হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর যৌথ বেঞ্চ গত মে মাসে রিটকারীদের পক্ষে রায় দেন।

আদেশে বলা হয়, নীতিমালা ২০১৭-এর ২.২ অনুচ্ছেদ অবৈধ। অনুচ্ছেদটিতে ভর্তির ক্ষেত্রে জিপিএ ৯.০০ লাগবে বলে নিয়ম করেছিল স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

এদিকে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে বিএমডিসি। পরে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন। আগামীকাল এ আপিলের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

কিন্তু বিএমডিসি তড়িঘড়ি করে ইতোমধ্যে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের জন্য ভর্তির বিজ্ঞাপন দিয়েছে। আর তাতে জিপিএ ৯-এর কম কিন্তু ৮-এর বেশি পেয়েছে বিজ্ঞান বিভাগের এমন শিক্ষার্থীরা বেকাদায় পড়েছেন। আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখলে বেকাদায় পড়া শিক্ষার্থীরা কীভাবে পরীক্ষা দেবেন এবং দিতে পারলেও প্রস্তুতির ঘাটতির কথা বলছেন অনেকে।

এছাড়া বাংলাদেশে বিদেশি শিক্ষার্থীদের মেডিকেল কলেজে পড়তে জিপিএ দরকার ৭ বা সমান নম্বর। দেশি ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্র দুই নিয়মকে বৈষম্য হিসেবে দেখছেন অনেকে। অথচ বিদেশি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ থেকে এমবিবিএস পড়ে গিয়ে নিজ দেশে চিকিৎসক নিবন্ধন পরীক্ষায় প্রথম ধাপেই পাস করছেন।

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনে জিপিএ ৬ বা ৫০ শতাংশ নম্বর হলেই মেডিকেল কলেজে পড়ার জন্য ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে। আর পাকিস্তানে দরকার হয় জিপিএ ৮ বা ৭০ শতাংশ নম্বর।

গত বছর ভারতে ১৪ লাখ শিক্ষার্থী এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ পান। তা থেকে ৮ লাখ জনকে নির্বাচিত করা হয়। আর ১ লাখ ভর্তির সুযোগ পান। এছাড়া ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদেরও দরকার হয় জিপিএ ৯। যেটা খুবই দুরূহ ব্যাপার। বিএমডিসি, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্তে দেশের অনেক শিক্ষার্থী বিদেশে এমবিবিএস পড়তে চলে যাচ্ছে। পাশাপাশি আমাদের দেশে বসবাস করে শিক্ষার্থীরা ভালো কোচিং এবং টিচারের কাছে পড়ার সুযোগ পায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রামের তুলনায় শহরের ছেলেমেয়েরা জিপিএ ৯-এর বেশি পায়। দেশের তৃণমূল পর্যায়ে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর অনেকে ভালো শিক্ষক বা কোচিং করার সুযোগ পান না। প্রত্যেন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা জিপিএ ৮ পেলে মেডিকেল কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় যেন অংশ নিতে পারে এজন্য ৮ শিক্ষার্থী এ রিট করেন। তাতে অধিকসংখ্যক ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাবীদের যাচাই-বাচাইয়ের সুযোগ হবে। অন্যথায় জিপিএ ৯ হওয়াতে বিদেশে মেধাবীদের চলে যাওয়ার পাশাপাশি অর্থও চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে জিপিএ ৮ প্রাপ্তরা যেন এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা অংশ নিতে পারেন এবং এ সুযোগের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

উন্নত স্বাস্থ্যসেবায় বিশ্বের ভারতের সুনাম রয়েছে। তারা যদি ৫০ শতাংশ নম্বরপ্রাপ্তদের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়, তাহলে বাংলাদেশ কেন দেবে না, এমন প্রশ্ন অনেক শিক্ষার্থীর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল অফিসার ডা. আশরাফুল হক বলেন, মেডিকেল সেক্টরে আসলে মেধাবীদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। নতুন এ নীতিমালার কারণে প্রথম সারির মেধাবীরাই মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাবেন। তবে মেডিকেলের শিক্ষার্থীদের জন্য মেধার পাশাপাশি পরিশ্রম করার মানসিকতাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি স্বীকার করেন, নতুন নীতিমালার কারণে হয়তো কিছু পরিশ্রমী শিক্ষার্থী মেডিকেল পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তবে সব মিলিয়ে মেধাবীদেরই এ সেক্টরে আসার পথ সুগম করে দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাবিদ্যায় উচ্চতর ডিগ্রিপ্রাপ্ত এ চিকিৎসক।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads