• শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ads
মেধার ব্যবহার করাটাই চ্যালেঞ্জ

ছবি: বাংলাদেশের খবর

শিক্ষা

মেধার ব্যবহার করাটাই চ্যালেঞ্জ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

বাংলাদেশ অনেক সূচকে ভালো করছে। তবে এই প্রবৃদ্ধি ও অগ্রযাত্রাকে সামনে এগিয়ে নিতে বিশ্বের অগ্রযাত্রার সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমরা এখন বিশ্বায়নের যুগে রয়েছি। এখন বিশ্ব একটি গ্রামের মতো। বিশ্বের ভালো দিকগুলো আমাদের নিতে হবে। আমাদের দেশে মেধা আছে, তবে তার ব্যবহারটাই করাটাই বড় চ্যালেঞ্জ।  বাংলাদেশের খবরের ‘সুবর্ণ রেখায় বাংলাদেশ’ ব্যানারে আয়োজিত আপন ভুবন অনুষ্ঠানে কথাগুলো বলছিলেন বেসরকারি কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম।

গতকাল রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বাংলাদেশের খবরের প্রধান কার্যালয়ে অতিথি হয়ে আসেন তিনি। এ সময় বাংলাদেশের খবরের সম্পাদক আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের এমবিএ প্রোগ্রামের পরিচালক ড. মামুন আল বশির, জনসংযোগ ও ভর্তি বিভাগের পরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম (রিন্টু), বাংলাদেশের খবরের বার্তা সম্পাদক ওমর ফারুক শামীমসহ দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতনরা উপস্থিত ছিলেন।

নজরুল ইসলাম দীর্ঘ ২৫ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। পেশাজীবন শুরু করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রথম প্রভাষক হিসেবে। নিজের পেশাগত জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আলাপকালে তিনি বলেন, ভালো কিছু করতে হলে ইচ্ছে থাকতে হবে। নেতৃত্ব থাকতে হবে। একই সঙ্গে নেতৃত্বে কঠোরতা থাকতে হবে। পাশাপাশি এখানে থাকতে হবে আন্তরিকতাও। আর থাকতে হবে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য, সেরা হওয়ার। এই অধ্যাপক বলেন, আমরা বিশ্ব গ্রামের বাসিন্দা। একটি ছাতার নিচে পৃথিবী। তাই যেসব দেশ এগিয়ে আছে বিভিন্ন দিক থেকে, তাদের অনেক সূচক তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকা দেশের দিকে স্থানান্তরিত হচ্ছে। এটি যাবে এটিই স্বাভাবিক। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন দেশের জন্য, মানুষের জন্য ভালো। তবে এটি পরিবেশকে একই সঙ্গে অবনতি করে। মানুষের চারিত্রিক দিকও অবনতি হয়। তবে আমাদের প্রযুক্তির বিপক্ষে দাঁড়ালে হবে না। এখানে আমাদের খাপ খাইয়ে নিতে হবে। প্রযুক্তি নিয়ে সেটির সঠিক ব্যবহার করতে হবে।

এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক বলেন, প্রযুক্তি ও সম্পদ ব্যবহারে আমাদের দক্ষতা থাকতে হবে। সঠিক ব্যবস্থাপনা থাকতে হবে। বাংলাদেশ সেদিকেই যাচ্ছে। তাই বাংলাদেশ অনেক সূচকে অকল্পনীয়ভাবে উন্নতি করছে, যা চিন্তাও করা যায় না। প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের সামনে প্রতিবদ্ধকতাগুলো দাঁড়াতে পারছে না। প্রতিবন্ধকতাগুলো আজ ম্লান হয়ে যাচ্ছে।

শুধু অর্থনৈতিক সূচক নয়, বাংলাদেশ আজ শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি করেছে তুলে ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী বলেন, আজ বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়ছে। এখন ১০৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের শিক্ষকরা এসব বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করছেন। এতে আমরা বুঝতে পারি, আমাদের মানবসম্পদ উন্নতি হয়েছে। তবে এটি আরো উন্নতি করতে হবে। সরকারের ঘোষিত পরিকল্পনা মোতাবেক ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিককে এগিয়ে আসতে হবে। এটি সরকার বা গোষ্ঠীর একার কাজ নয়। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকে দায়িত্ব নিতে হবে। দায়িত্ব সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে। এজন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থাপনা শুরু করতে হবে। এটি করা গেলে দ্রুত সুফল আসবে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যারা প্রতি বছর শিক্ষা কার্যক্রম শেষ করছেন তাদের অনেক দায়িত্ব রয়েছে বলেও মনে করেন এই শিক্ষক। তার মতে, আমাদের মেধা আছে, এটি ব্যবহার করাটাই চ্যালেঞ্জ। উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুশাসন দরকার। এগুলো সঠিক তদারক দরকার। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় থাকলে হবে না। এটি কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারছে কি না সেটি তদারক করতে হবে। শিক্ষকরা ক্লাসরুমে কতটা মনোযোগী সেটি দেখতে হবে। শিক্ষককে দায়িত্ব নিতেই হবে। একজন ছাত্রকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকের দায়িত্ব অনেক। এজন্য ব্যক্তি পর্যায়েও সুশাসন থাকতে হবে। যোগ্য মানুষকে যোগ্য জায়গায় নিয়ে বসাতে হবে। সেটি করা না হলে সমস্যা তৈরি হবে।

শিক্ষার অতি বাণিজ্যিকীকরণ থামাতে হবে জানিয়ে বলেন, তবে সঠিক পরিকল্পনা থাকতে হবে। একটি বিশ্ববিদ্যালয় যদি সঠিক পরিকল্পনা না নেয় সেটি টিকতে পারবে না।  গণমাধ্যমের দায়িত্বের প্রসঙ্গ টেনে এই শিক্ষক বলেন, গণমাধ্যমকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে টিকে থাকতে হবে।  সাংবাদিকতার যে নৈতিক দিক আছে সেটি চর্চা করতে হবে। সমাজ ও রাষ্ট্র কাঠামোতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অনেক। অনেক সংবাদমাধ্যম বিচার-বিশ্লেষণ না করে ভুলভাবে রিপোর্ট করে। এটি ঠিক না। এতে দেশের ক্ষতি হয়। অনেক সময় অনেক ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই গণমাধ্যমকে আরো সতর্ক হতে হবে। আলাপকালে কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় অব বাংলাদেশের চিত্রও তুলে ধরেন এই শিক্ষাবিদ।   

এ সময় আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, আমাদের জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ সময় আসছে। একটি হলো, জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী ঘিরে বিশেষ আয়োজন। আরেকটি হচ্ছে,  স্বাধীনতার ৫০ বছর। এই দুটি বিশেষ সময় ঘিরে বাংলাদেশের খবর একটি সামাজিক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। গঠন করা হয়েছে বাংলাদেশ ২১-৪১ সোসাইটি। সরকারের সঙ্গে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে এই প্লাটফর্ম গঠন করা হয়েছে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads