• শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ফের জাবিতে আন্দোলনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর একাংশ; কড়াকড়ি অবস্থানে প্রশাসন

ফাইল ছবি

শিক্ষা

ফের জাবিতে আন্দোলনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর একাংশ; কড়াকড়ি অবস্থানে প্রশাসন

  • জাবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১২ নভেম্বর ২০১৯

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে চলমান আন্দোলন দু’দিন বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার দিনব্যাপী নানা কর্মসুচির মধ্য দিয়ে আবারও আন্দোলন শুরু করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ। এদিন পটচিত্র প্রদর্শন, বিকালে সংহতি সমাবেশ করেছেন আন্দোলনকারীরা। এদিকে আন্দোলনকে ঘিরে আবারও কড়াকড়ি অবস্থানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

জোরদার করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আন্দোলনকে ঘিরে এবং বহিরাগত কেউ যেন ক্যাম্পাসে অপ্রীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের তৎপর থাকতে দেখা গেছে। জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা বলয়। সকাল থেকে নিরাপত্তা শাখার কর্মকর্তারা প্রত্যেকটি প্রবেশ ফটকে কড়া নজরদারিতে ছিল। এসময় তারা ক্যাম্পাসে আগত সকলের পরিচয় সনাক্ত করছিলেন এবং শিক্ষার্থী ছাড়া কাউকেই প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

এদিকে সকালের দিকে প্রশাসনিক কার্যক্রম কর্মকর্তারা শুরু করলেও দুপুরের দিকে আন্দোলনকারীদের বাধার কারণে পরবর্তীতে প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। সকাল থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোপুরিভাবে চালু করে কর্মকর্তারা। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে গিয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে কাজ বন্ধ করে বের হয়ে যেতে বলেন। এসময় তারা বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন শেষ হয়নি আপনারা বের হয়ে যান।’

কর্তব্যরত এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি সহ অনেকেই সকাল থেকে কাজ করছিলাম। আন্দোলনকারীরা দুপুরেরর দিকে এসে আমাকে বের করে দিয়েছে।’

এদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বাসায় পুলিশি হয়রানির অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা। তবে সব বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে আন্দোলন চালিয়ের যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এবং ‘উপাচার্য অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত সরবেন না বলে জানিয়েছেন তারা।’

পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে সমবেত হতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। পরে ভবনের সামনে ‘উপাচার্যের দুুর্নীতি’, আন্দেলনকারীদের উপর ছাত্রলীগের হামলাসহ নানা বিষয়ে পটচিত্র পদর্শন করা হয়। এরপর দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকাল চারটায় আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার নিন্দা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করে আন্দোলনকারীরা।

এ সময় ঢাকা থেকে আগত অতিথিরা পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেন।

সমাবেশে বক্তারা আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশ করে আন্দোলকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার নিন্দা জানিয়ে উপচার্যের অপসারণ দাবি করেন।

সংহতি সমাবেশে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এখন খুবই দুঃখজনক পরিস্থিতির মধ্যে আছে। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, হল বন্ধ, ক্লাস বন্ধ, অনেকগুলো পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল সেগুলোও বন্ধ। শিক্ষার্থীরে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এরকম একটি পরিস্থিতি তৈরি হলো এর জন্য কে দায়ী? আমরা সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আমরা সবাই জানি এর জন্য দায়ী বর্তমান উপচার্য।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈতিক স্খলন ও দুর্নীতিতে অভিযুক্ত উপাচার্যকে অপসারণের দাবিতে যখন আন্দোলন হচ্ছে, তখন ছাত্রলীগ গিয়ে হামলা চালিয়েছে। এসব ঘটনার পরও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আশ্রয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও যখন অভিযুক্ত উপাচার্যের পক্ষ নেয় সেটি খুবই দুঃখজনক হয়ে ওঠে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের পিঠ যখন দেয়ালে ঠেকে যায়, তখনও আপনারা সেখানে ষড়যন্ত্রের গন্ধ খুজে পান। গোপালগঞ্জের ভিসিও আন্দোলন ঠেকানোর জন্য স্বৈরাচারী কায়দায় ক্যাম্পাস বন্ধ করে দিয়েছিল। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আন্দোলন শুধু ভিসির বিরুদ্ধে আন্দোলন নয়, এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন, এটি দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন।’

এসময় ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী বলেন, ‘জাবি উপাচার্যের বক্তব্যেই প্রমাণ হয় তিনি দুর্নীতি করেছেন। তিনি নিজেই বলেছেন “ছাত্রলীগ আমার কাছে প্রকল্পের থেকে ৬ শতাংশ চেয়েছিল। এখানে ২ শতাংশ অনেক কম?” তারা মানে হলো উপাচার্য ২ শতাংশ দিতে চেয়েছেন তারে সেটিই তো প্রমান করে তিনি দুর্নীতি করেছেন। আর সব কিছু বা দিলাম সেদিন শিক্ষকদের উপস্থিতিতে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপর যে হামলা হলো তার জন্য জাবি উপাচার্যের পদত্যাগ করা উচিত।’

বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম বলেন, ‘আপনারা যে দাবি তুলেছেন সেটি ন্যায় দাবি। আমাদের সর্বাত্মক সমর্থন থাকবে। ১৯৫২ সাল থেকে ১৯৭১ সাল বাংলাদেশের ছাত্র সমাজের ঐতিহ্য হিমালয় তুল্য। এখন সেই ঐতিহ্য ভূলুন্ঠিত হচ্ছে। শুধু জাহাঙ্গীরনর বিশ্ববিদ্যালয়ে নয় সারা দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সকল স্থানে দখলদারিত্ব চলছে।

সংহতি সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন বাসদের কেন্দ্রীয় বর্ধিত কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ ও জহিরুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট (মাক্সবাদী) সভাপতি মাসুদ রানা, ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য মোহাব্বত হোসেন খান, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অনিক রায়, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, রাখাল রাহা (রাষ্ট্রচিন্তা), গনসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি প্রমুখ।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বুধবার ক্যাম্পাসে উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে সকাল ১১টায় বিক্ষাভ মিছিল করার কথা রয়েছে আন্দোলনকারীদের।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads