• বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads

সংরক্ষিত ছবি

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি

পায়রা ও সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর

  • ফিচার ডেস্ক
  • প্রকাশিত ১০ মে ২০১৮

বিশ্ববাণিজ্যের বিরাট একটি অংশ হয়ে থাকে সমুদ্রপথে। একথা মাথায় রেখে অর্থনৈতিক উন্নয়ন আর সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত নিয়ে ২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করে দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর পায়রা। চট্টগ্রাম ও মোংলার তুলনায় সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এই বন্দর নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে এশিয়ার দেশগুলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পায়রা বন্দর নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এরই মধ্যে ১ হাজার ১২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে জেটি এবং অত্যাধুনিক কনটেইনার ক্যারিয়ার। স্থাপন করা হয়েছে শুল্ক স্টেশন। চলছে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন, অফিস ভবন এবং আনসার ভবন নির্মাণকাজ। এ ছাড়াও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে আন্ধারমানিক ও রামনাবাদ নদীর মোহনায় কয়লাভিত্তিক ১৩২০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজ।

পায়রাকে ঘিরে বিশেষ একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার  পাশাপাশি নৌবাহিনীর ঘাঁটি স্থাপনের কাজও শুরু হয়ে গেছে। সবমিলিয়ে দেশের অর্থনীতিতে গতি আনতে বিশাল কর্মযজ্ঞ পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ার রামনাবাদ নদীর মোহনায় পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে।

এমনই আরো এক সম্ভাবনার নাম সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর। দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে আন্তর্জাতিক নৌপথগুলোর সংযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এই বন্দর ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়। সমুদ্রবন্দর স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সোনাদিয়ায় ২২ হেক্টর জমিতে এ বন্দর নির্মাণ করা হবে। মোট তিনটি মেয়াদে নির্মাণকাজ শেষ হবে। ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রথম মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যায়ে পাঁচটি আন্তর্জাতিক ও চারটি সাধারণ কার্গো জেটি নির্মাণ করে বন্দরে কনটেইনার ওঠানামার কাজ শুরু হয়ে যাবে। দ্বিতীয় মেয়াদে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত ৯টি আন্তর্জাতিক ও ৬টি সাধারণ কার্গো জেটি নির্মাণ করা হবে। ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় ২০৫৫ সাল নাগাদ আরো জেটি নির্মাণ করা হবে। ২০৫৫ সাল পর্যন্ত নির্মাণকাজ শেষ করতে মোট ব্যয় হয়ে ৬০ হাজার কোটি টাকা। বন্দরটি নির্মিত হলে সংশ্লিষ্ট সব দেশেরই পণ্য পরিবহনে ব্যয় ও সময় সাশ্রয় হবে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য, কলকাতা ও হালদা বন্দর, মিয়ানমার এবং ভূবেষ্টিত নেপাল ও ভুটান তাদের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে এ বন্দর ব্যবহার করবে বলে আশা করা যায়। একইভাবে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর-পূর্ব এশিয়ার কেন্দ্রস্থলে অবস্থানের কারণে এশিয়ান ও উপসাগরীয় দেশগুলোরও এ বন্দর ব্যবহারের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। নির্মাণকাজ শেষ হলে সোনাদিয়া সমুদ্রবন্দর আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গেটওয়ে হিসেবে কাজ করবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads