• বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৫
ads
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন

পায়রা তাপ বিদ্যু কেন্দ্র

সংগৃহীত ছবি

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি

পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন

  • কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১৯ জুন ২০১৯

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নে নির্মিতব্য পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বাংলাদেশী ও চীনা শ্রমিকদের মধ্যে মঙ্গলবার রাতে দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষের ঘটনায় আহত চীনা শ্রমিক ঝাং ইয়াং ফাং (২৬) মারা গেছে।

আজ বুধবার সকালে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এর আগে কলাপাড়া থেকে আহত অবস্থায় তাঁকে নিয়ে এ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঝাং ইয়াং ফাং পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ইলেকট্রেশিয়ান পদে কর্মরত ছিলেন। এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে সবিন্দ্র দাস নামে এক বাংলাদেশী শ্রমিকের বয়লারের ওপর থেকে পড়ে মৃত্যু হয়। তাঁর বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার জয়নগর গ্রামে।

এ ছাড়া গুরুতর আহত আরও পাঁচজন চীনা শ্রমিককে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বুধবার বেলা ১১ টার সময় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এই পাঁচজন চীনা শ্রমিক হচ্ছেন লিন কু মু (২৭), ঝ্যাং হুয়া (৩৪), ঝ্যাং সিং থান (২৫), ঝাং হু (২৬) ও জু ঝাং (৫৪)। এ ছাড়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান (৪৭) ও নির্মাণ শ্রমিক মো. জহুরুল ইসলামকে (৬৫) বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরা মঙ্গলবার রাতে দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষের সময় আহত হন।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. বাকির হোসেন বলেন, মঙ্গলবার মধ্যরাতে ছয় চীনা নাগরিক ও দুই বাংলাদেশী শ্রমিককে গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে মস্তিস্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঝাং ইয়াং ফাং নামে চীনা নাগরিকের মৃত্যু হয়। বাকী পাঁচজন চীনা নাগরিকের অবস্থা শংকটাপন্ন হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার রাম চন্দ্র দাস বলেন, ধানখালীর ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে মঙ্গলবার দুর্ঘটনায় এক বাংলাদেশী শ্রমিক বয়লারের ওপর থেকে পরে মারা যায়। এ নিয়ে বাংলাদেশী ও চীনা শ্রমিকদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে।

এমন পরিস্থিতির খবর পেয়ে বুধবার সকালে হেলিকপ্টারে করে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকা সফর করেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। তিনি তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখেন। এরপর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের সাথে জরুরী সভা করেন। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা তাঁকে সার্বিক পরিস্থিতি অবহিত করেন। এ ঘটনায় তিনটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩ টার সময় পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নে নির্মিতব্য ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সবিন্দ্র দাস (৩২) নামে এক বাংলাদেশী শ্রমিকের মৃত্যু হয়। তিনি পাওয়ার বøকের ৭৫ মিটার উচ্চতার বয়লারের ওপর কাজ করছিলেন। নিরাপত্তা বেল্ট ছিড়ে নিচে পড়ে গেলে এ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। নিহত শ্রমিকের লাশ গুম হওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়লে বাংলাদেশী শ্রমিকরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বয়লার এলাকার একটি অফিসসহ ক্যান্টিন, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে, ওয়েল্ডারে এবং পাশ্ববর্তী স্থাপনায় হামলা-ভাংচুর চালায়। এ ছাড়া বাংলাদেশী শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে চায়না শ্রমিকদের আবাসিক এলাকায় প্রবেশ করে হামলা-তান্ডব চালায়। মঙ্গলবার রাতে কয়েক দফা হামলা-ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এতে সরকারি স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব এবং আর্মড পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পুলিশ, র‌্যাব এবং আর্মডপুলিশ যৌথভাবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভ্যন্তরে মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশী ও চীনা শ্রমিকদের সাথে সভা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করার চেষ্টা করেন। কিন্তু বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা কোনো কথা না শুনে হামলা-ভাংচুর চালাতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশ সদস্যরা টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে সবাইকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন। এ সময় ছবি তুলতে গেলে স্থানীয় সংবাদকর্মী ফরাজী মো. ইমরানের মোটরসাইকেল ও একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম রয়েলের ক্যামেরা ভাংচুর করে শ্রমিকরা।

কলাপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আসাদুর রহমান বলেন, নিহত শ্রমিক সবিন্দ্র দাসের লাশ ময়না তদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়না তদন্ত সম্পন্ন হলে নিহতের লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী জানান, পায়রা তাপ বিদ্যুত কেন্দ্রে অনাকাঙ্খিত ঘটনায় পটুয়াখালী প্রশাসন, পুলিশ ও পায়রা তাপ বিদ্যুত কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads