• মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৫
ads
বাম জোটের আধা বেল‍া হরতাল পালন

ছবি : সংগৃহীত

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি

১৪ জুলাই জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাও

বাম জোটের আধা বেল‍া হরতাল পালন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৮ জুলাই ২০১৯

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গতকাল রোববার বাম গণতান্ত্রিক জোট সারা দেশে অর্ধদিবস হরতাল পালন করেছে। ভোর ৬টা থেকে শুরু হয়ে হরতাল চলে বেলা ২টা পর্যন্ত। খুলনা, ময়মনসিংহ, জয়পুরহাটসহ দেশের কয়েক স্থানে পুলিশি বাধা, নেতাকর্মী গ্রেপ্তার এবং নির্যাতনের অভিযোগ করেছে হরতাল আহ্বানকারীরা। হরতাল শেষে আগামী ১৪ জুলাই জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাওসহ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে জোটের পক্ষ থেকে। বামপন্থি রাজনৈতিক দল আহুত হরতালে নৈতিক সমর্থন দিলেও মাঠে নামেনি বিএনপি। তবে পুলিশ দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কড়া পাহারা বসায়।

এদিকে হরতাল সর্বাত্মক সফল করায় দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম। গণদাবির হরতালে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জনতার ওপর সরকারের চাপিয়ে দেওয়া জুলুমের সমুচিত জবাব দেওয়ায় দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানান তারা। অভিনন্দন জানান বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং গণসংহতির প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকিও।

এদিকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঢাকায় হরতালের দিনেও পরিচিত যানজটের দৃশ্য বিরাজমান ছিল। তিনি বলেন, যারা হরতাল দিয়ে আন্দোলনের কথা ভাবে, তাদের হিসাবে ভুল আছে। হরতাল আর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কার্যকর হাতিয়ার নয়। হরতালে মরিচা ধরে গেছে।

অন্যদিকে গতকাল রাজধানীর কয়েকটি স্থানে পিকেটিং হতে দেখা যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পল্টন আর শাহবাগ মোড়ে সভা-সমাবেশ জমায়েতের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল পুরো কর্মসূচি। এর মাঝেই সিপিবি নেতারা অভিযোগ করেন, পার্টির খুলনা জেলা কার্যালয়ের গেট ভেঙে পুলিশ তাণ্ডব চালায়। এ সময় সিপিবি, বাম জোট এবং বিভিন্ন গণসংগঠনের নেতাদের আটক, নির্যাতন ও নাজেহাল করা হয় বলেও জানান তারা। এদিকে ময়মনসিংহে হরতালের সমর্থনে ছাত্র ইউনিয়নের মিছিলে পুলিশ হামলা চালিয়েছে। এ সময় ছাত্র ইউনিয়ন ময়মনসিংহ জেলা সংসদের সভাপতিসহ তিন ছাত্রনেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ঢাকার পল্টন এলাকায় সিপিবি ঢাকা কমিটির নেতা ও বিপ্লবী সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের দপ্তর সম্পাদক হযরত আলীকে পুলিশ আটক করে। একই সময় গার্মেন্ট টিইউসির কর্মী ও রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিতে পঙ্গু মাহমুদুল হাসান হূদয়কেও পুলিশ আটক করে। পরে হরতাল সমর্থক কর্মী ও জনতার চাপে পুলিশ তাদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। জয়পুরহাটে হরতাল সমর্থনে মিছিল থেকে সিপিবি আক্কেলপুর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান সরদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গতকাল সকালে রাজধানীর শাহবাগ, পল্টন, প্রেস ক্লাব, মিরপুর, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, হরতাল চলাকালীন সময়ে যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করে। শাহবাগ এলাকায় প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ব্যানারে বামপন্থি বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা চার রাস্তার মোড় আটকে পথসভা করেন। এ সময় সেখানে বেশ কয়েকজন রাস্তায় শুয়ে থাকেন। এখানে বেশ কিছুক্ষণ ছাত্র জোটের নেতাকর্মীরা অবরোধ করে রাখেন। তবে কোথাও কোনো সহিংস ঘটনা ঘটেনি। সকালের দিকে পুলিশের সঙ্গে হরতাল সমর্থকদের মধ্যে কথাকাটাকাটিসহ হাতাহাতি হয়। পল্টন মোড়ে সকালে এমন ঘটনায় কয়েকজনকে আটক হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ।

হরতাল চলাকালে পল্টন মোড়ে সমাবেশে বক্তব্য দেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সিপিবির সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন, গণসংহতির প্রধান সনন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাসদের (মার্কসাদী) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মানস নন্দী, গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা লিয়াকত আলী, সিপিবির সহকারী সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জহির চন্দন, প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল্লাহ ক্বাফী রতন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য বহ্নি শিখা জামালী, বাসদের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফখরুদ্দিন কবীর আতিক প্রমুখ।

অন্যান্য দলের হরতাল পালন : হরতাল সমর্থনে মিছিল করেছে নাগরিক ঐক্য। মিছিলে অংশ নেন নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয়ক শহীদুল্লাহ কায়সার, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মমিনুল ইসলাম, আতিকুল ইসলাম, ডা. জাহেদ উর রহমান, নুরুর রহমান জাহাঙ্গীর, যুব ঐক্যের সাবেক আহ্বায়ক শাহিনুল আলম, যুব ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতা কবির হাসান, ছাত্র ঐক্যের আহ্বায়ক সাকিব আনোয়ার, প্রচার সম্পাদক নৌশিন মনিরা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আরাফাত রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। মিছিলটি নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে পল্টন মোড়, দৈনিক বাংলা, প্রেস ক্লাব, মৎস্য ভবন, হয়ে পল্টন মোড়ে এসে অবস্থান নেয়। মিছিলটি নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।

হরতালের সমর্থনে বাংলাদেশ ন্যাপ রাজধানীতে মিছিল সমাবেশ করেছে। এতে পার্টির মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া বলেন, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি অযৌক্তিক। বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম যেখানে কমছে সেখানে বাংলাদেশে দফায় দফায় গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করে লুটেরাদের স্বার্থে জনগণের পকেট কাটা হচ্ছে, সরকারের দুর্নীতি ও ভুল নীতির দায় জনগণ নেবে না। তাই জনগণের এই হরতাল পালিত হলো।

সকাল ৬টায় এক বিশাল মিছিল বের করে গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য। মিছিলটি জোটের তোপখানা রোডে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মৎস্য ভবন, প্রেস ক্লাব, পল্টন, গুলিস্তান, মতিঝিল, ফকিরপুল, কাকরাইল, বিজয়নগরসহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পল্টন মোড়ে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

হরতাল গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের উদ্যোগে পল্টন মোড়ে সকালে সমাবেশ হয়। সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক কমরেড ডা. এম এ সামাদসহ পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড হারুন চৌধুরী, সমাজতান্ত্রিক মজদুর পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শামছুল আলম, জাতীয় বিপ্লবী পার্টির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, জোটের শীর্ষনেতা মোস্তফা আল খালিদ নেতারা এ সময় বক্তব্য দেন।

সমাবেশে নেতারা সরকারের গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণার সমালোচনা করে বলেন, এই সরকার গণবান্ধব সরকার নয়। একবারের বাজেটে ভ্যাটের নামে জনগণের কাঁধে ট্যাক্সের বোঝা চাপিয়েছে আবার গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করে জনগণকে চরম কষ্টের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads