• মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৫
ads
গ্যাসের আগুনে পুড়বে শিল্পের অগ্রগতি

ফাইল ছবি

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি

গ্যাসের আগুনে পুড়বে শিল্পের অগ্রগতি

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ০৮ জুলাই ২০১৯

গ্যাসের নতুন দাম কার্যকর হয়েছে ১ জুলাই থেকে। ভোক্তা পর্যায়ে গড়ে ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে, যা এ যাবৎকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন, শিল্প, হোটেল রেস্তোরাঁ, বিদ্যুৎকেন্দ্র, ক্যাপটিভ পাওয়ার, সার কারখানাসহ সব ক্ষেত্রে ব্যবহূত গ্যাসের দাম বেড়েছে। এতে শিল্পে অগ্রগতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে-যা সরকারের উন্নয়নশীল দেশ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার পথে অন্তরায় হবে। অর্থনীতিতে গুরুত্ব বিবেচনায় সরকার নতুন মেয়াদে বেসরকারি খাতের আরো প্রসার চায়। কিন্তু গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তে বেসরকারি উদ্যোক্তারা বিস্মিত হয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলে দেশীয় শিল্পের প্রসার ব্যাহত হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারাবে দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান। আর শিল্পের প্রসার ব্যাহত হলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে

না। বাড়বে বেকার সমস্যা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস চুরি ও দুর্নীতি বন্ধ না করে দাম বাড়ানো এক ধরনের জোচ্চুরি। নতুন অর্থবছরে কার্যকর হয়েছে ভ্যাট আইন। এতে জিনিসপত্রের দাম বাড়ার একটি শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তার সঙ্গে গ্যাসের দাম, মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।

পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ভারতসহ পৃথিবীর কোনো কোনো দেশে সম্প্রতি গ্যাসের দাম কমানো হয়েছে। অথচ একই সময়ে গ্যাসের দাম বাড়ানো হলো বাংলাদেশে। নতুন করে দাম বাড়ানোর ফলে উৎপাদন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের ধাক্কা খাবে। বিশেষ করে কাগজশিল্প, তৈরি পোশাক খাত, বস্ত্র, সুতার কারখানা, সিমেন্ট, সিরামিক ও বড় শিল্প সরাসরি আক্রান্ত হবে। এসব শিল্পের পণ্য উৎপাদন খরচ বাড়বে বহুগুণ। এ ছাড়া গ্যাসের দাম বাড়ানোর ফলে পণ্য পরিবহন খরচ বেড়ে যাবে। সেখানেও বাড়তি ব্যয় হবে। এতে চূড়ান্তভাবে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের অতিরিক্ত দামে পণ্য কিনতে হবে। বেসরকারি খাত নিয়ে সরকারের শীর্ষ মহলের চিন্তার সঙ্গে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিদেশি ক্রেতারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। তারা পণ্য কিনতে অন্য প্রতিযোগী দেশগুলোর দিকে ঝুঁকে পড়বেন।

জানতে চাইলে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বাংলাদেশের খবরকে বলেন, অপচয়, অদক্ষতা ও চুরির কারণে গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। সেই যুক্তিতে দাম বাড়ানো হয়েছে। এই যুক্তিটাই ঠিক নয়। জোচ্চুরি বন্ধ না করে ভোক্তাদের থেকে কেন অর্থ আদায় করা হবে। তিনি বলেন, উচ্চ আদালতে রিট চলছে। সেখানে বিষয়টি তোলা হবে। কারণ আদালত ভরসার শেষ জায়গা। 

জানা গেছে, গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্যাব গতকাল সম্পূরক আবেদন করেছে। আবেদনের শুনানির জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছেন আদালত। আদালতে সম্পূরক আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

অপরদিকে বসুন্ধরা গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান টেলিফোনে জানান, যেকোনো শিল্পে প্রচুর জ্বালানি প্রয়োজন। বিশেষ করে কাগজশিল্প এমন একটি শিল্প, যেখানে প্রচুর গ্যাস প্রয়োজন হয়। কাগজ হচ্ছে শিক্ষার উপকরণ। এটা সভ্যতার উপকরণ ও বাহন। গ্যাসের দাম বাড়ানোর ফলে কাগজশিল্পে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। এতে কাগজের দাম বাড়বে। ফলে প্রান্তিক মানুষের পরিবারের সদস্যদের শিক্ষার জন্য ব্যয় বাড়বে।

তিনি আরো বলেন, এমনিতেই কাগজশিল্প নাজুক অবস্থানে। সরকারি শিল্পগুলো বন্ধ করে দিতে হয়েছে। বেসরকারি অনেক শিল্পও বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে এই শিল্পকে ধরে রেখেছি। গ্যাসের দাম বাড়ানোর ফলে টনপ্রতি কাগজের দাম ৩-৪ হাজার টাকা বেড়ে যাবে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বই ছাপাতে খরচ বেড়ে যাবে। অপরদিকে নিম্ন মানের কাগজ আমদানি বাড়বে।

জানা গেছে, জ্বালানির দাম নিয়ে সরকার কৌশলে পথ চলছে। সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া ঠেকাতে এই কৌশল করা হচ্ছে। সরকারের নীতিনির্ধারণী ফোরামে এ নিয়ে ব্যাপক আলাপ-আলোচনা হয়। ভোটের রাজনীতিতে দেশের প্রান্তিক মানুষের প্রতিক্রিয়া কমাতে সরকার গ্যাসের দাম থেকে অর্থ তুলে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয় করতে চায় সরকার সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি একটি হিসাব বলছে, বিদ্যমান দামের সঙ্গে ৪৬ শতাংশ দাম বাড়ালে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে। তবে গ্যাসের দাম ৪৬ শতাংশই বাড়ানো হবে এমনটি নয়। ন্যূনতম ৩০ শতাংশ বাড়িয়ে এই খাতে বিদ্যমান পরিস্থিতির উন্নতি করা যেতে পারে। আর গ্যাসের ভতুর্কি কমাতে দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবেই।

সরকার গত তিন বছরে ১৩০ শতাংশ গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিচালন ব্যয়, উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে তারা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। এর আগে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্যাসের দাম গড়ে ২২ দশমিক ৭০ শতাংশ বাড়ানো হয়, যা সে বছরের মার্চ ও জুলাই থেকে দুই ধাপে কার্যকর হয়। ২০১৫ সালের ২৭ আগস্ট ২৬ দশমিক ২৯ শতাংশ বাড়ানো হয়। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে গ্যাসের মূল্য ১১ দশমিক ২২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। তখন সিএনজি ও ইটভাটা ছাড়া সব ধরনের গ্রাহকের জন্য গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়। এ ছাড়া ২০১১ সালে দুই দফা সিএনজির দাম বাড়ানো হয়েছিল। সব মিলিয়ে গত ১০ বছরে সাতবার গ্যাসের দাম বেড়েছে।

সূত্র বলছে, প্রতিযোগিতা ছাড়া সমঝোতার মাধ্যমে এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হচ্ছে বেশি। জ্বালানি ঘাটতির কারণে সরকার তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করছে। ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানির কারণে জ্বালানি খাত ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। সেই যুক্তিতে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে।

সরকারের সূত্র বলছে, গ্যাসে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দেয় সরকার। সেই ভর্তুকিটা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে দাম বাড়িয়ে সরকারের হয়তো মুনাফা হবে না। গ্যাসের অবস্থা পূরণ করার জন্য উচ্চ ব্যয়ে এলএনজি নিয়ে আসছে সরকার। বেসরকারি খাতের সামিটও এলএনজি আমদানি শুরু করেছে। সরকার এই এলএনজি উচ্চ মূল্যে কিনে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবে। এলএনজি আনার জন্য বাড়তি একটি খরচ যাচ্ছে।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ওসামা তাসীর ইতোপূর্বে এক অনুষ্ঠানে বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ার কারণে সার, বস্ত্র, ডেনিম, তৈরি পোশাক, সিমেন্ট, কাগজশিল্প, স্টিল খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার এবং কম্বোডিয়ার মতো প্রতিযোগী দেশের সঙ্গে ব্যবসায় টিকে থাকা কঠিন হবে। একই সঙ্গে শিল্পের স্বার্থে স্বল্প মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এলএনজির মূল্য নির্ধারণের ওপর গবেষণা পরিচালনা করা জরুরি। তিনি দেশের বাইরে থাকায় কথা বলা যায়নি।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, তারা আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতাকে ঝুঁকি মনে করছেন। এ ছাড়া সিস্টেম লস কমানো এবং ৩-৫ বছর মেয়াদি জ্বালানি নীতিমালা প্রণয়নের তাগিদ রয়েছে ব্যবসায়ীদের।

গ্যাসের মূল্য বাড়ানোর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি টেক্সটাইল খাতে ১০ থেকে ১২ শতাংশ, সিমেন্ট খাতে প্রায় এক শতাংশ ও স্টিল খাতে প্রায় ৫ শতাংশ উৎপাদন ব্যয় বাড়বে।

সূত্র বলছে, ব্যবসায়ীরা গ্যাসের দাম কিছুটা বাড়লেও মেনে নেওয়ার কথা বলেছেন। তবে যে পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে, তা বেসরকারি খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিশ্চিত না করে দাম বাড়ানোকে অন্যায় মনে করছেন অনেক ব্যবসায়ী।

সরকার অবশ্য বলছে, গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে না। সমন্বয় করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও সমন্বয় অব্যাহত থাকবে। কারণ সরকার ভতুর্কি থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে। অবশ্য ব্যবসায়ীরা যদি রাতে শিল্প চালু রাখতে চায়, তাহলে বিশেষ ট্যারিফের ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করা হবে।

জানা গেছে, ২০১০ সালের সরকার জ্বালানি খাতে একটি মাস্টার প্ল্যান করে। যাতে ২০২১ ও ২০৪১ সালের গ্যাসের চাহিদা নিরূপণ করা হয়। জাইকা এতে সহযোগিতা করে। কোন জ্বালানি দিয়ে কী পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে, তার বিস্তারিত রয়েছে। ক্যাপটিভ পাওয়ারের সমালোচনা চলছে সরকারের ভেতরে। যে পরিমাণ গ্যাস দিয়ে একটি ক্যাপটিভ জেনারেটর ১৫ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, সেই একই পরিমাণ গ্যাস পাওয়ার প্লান্টের টারবাইনে ব্যবহার করলে ৫৫ শতাংশ বিদ্যুৎ দেবে। এ কারণে ক্যাপটিভকে নিরুৎসাহিত করতে গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে। সরকার গত মঙ্গলবার বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড করেছে, যা ১২ হাজার ২৫৭ মেগাওয়াট। আর উৎপাদন সক্ষমতা ২২ হাজারের কাছাকাছি।

তবে বিশেষজ্ঞরা উচ্চ মূল্যে এলএনজি আমদানি না করে গ্যাস কূপ খনন করার পরামর্শ দিয়ে আসছেন। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের সমালোচনা মানতে নারাজ সরকার। কারণ গ্যাস কূপ খনন সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। একটি গ্যাস কূপ খনন করতে ৯-১৬ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়। গ্যাস ওঠানো, বিতরণ হিসাব তা অনেক সময় লাভজনক হয় না।

পূর্বাচলে গ্যাস কূপ পেয়েও সেটা খনন করা হয়নি। কারণ খরচ বেশি। তারপরও ১০৮টি কূপ খননের পরিকল্পনা আছে। সাগরে গ্যাস অনুসন্ধানে ৬টি ব্লক কনকোফিলিপসকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম কমে যাওয়ায় তারা চলে গেছে। গভীর সমুদ্রে গ্যাস পেলেও তা আনতে ৮ বছর সময় লাগবে।

দাম বাড়িয়ে সরকার ব্যবসায়ীদের একটি পরামর্শ দিতে চায়। যেখানে-সেখানে বিনিয়োগ করে গ্যাস-বিদ্যুৎ চাইলে দেওয়া হবে না ভবিষ্যতে। বিনিয়োগকারীদের জন্য অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হচ্ছে। সেখানে গ্যাস-বিদ্যুতের সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। চাইলে বিদ্যমান শিল্প অর্থনৈতিক অঞ্চলে স্থানান্তর করে ব্যবসায়ীরা সুবিধা নিতে পারে।

জানা গেছে, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে গ্যাস-বিদ্যুতের ১২ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। অনেক নামীদামি প্রতিষ্ঠানের বিল বকেয়া আছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করে জানা গেছে, তিনি দেশের বাইরে রয়েছেন। তবে প্রতিমন্ত্রী সম্প্রতি জানান, সরকার ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য উদার। বেসরকারি খাতের জন্য সব করা হবে। তবে যেখানে-সেখানে শিল্প করলে আগামীতে গ্যাস বিদ্যুৎ চাইলে পাওয়া যাবে না। আমরা বিনিয়োগ বাড়াতে এবং উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থনৈতিক অঞ্চল করছি। এ ছাড়া গ্যাস ও বিদ্যুৎ যাতে নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্পন্ন হয়, সেটি ব্যবসায়ীদের দাবি। আমরা সেদিকে যেতে চাই।

জানা গেছে, উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলে বাড়বে আমদানি। ফলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা চলে যাবে বাইরে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ চাপে পড়বে। মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানিও বাড়বে। এতে রপ্তানি পণ্যের কাঁচামাল হিসেবে বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্ত আমদানি হওয়া কাগজ, বোর্ড, বস্ত্রসহ নানা পণ্য খোলাবাজারে বিক্রি হওয়ায় টিকতে পারছে না দেশি শিল্প। বিপুল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে না পেরে লোকসান গুনতে হবে উদ্যোক্তাদের।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তার সমাপনী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার বন্ধ করা গেলে এক লাখ কোটি টাকা রাজস্ব বাড়বে। সরকার এদিকে নজর দিতে চায়।  এদিকে, গ্যাসের দাম বাড়নোর পর আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads