• বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬
ads

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি

প্রতিবেদনে হতাশা প্রকাশ

তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ধীরগতি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

চাহিদা না থাকার পরও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কার্যাদেশ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এর মাঝেই ধীরগতিতে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। মজার বিষয় তা তুলেছে খোদ বিদ্যুৎ বিভাগ। নতুন কেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে সরকারের ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো কোনো কর্মকর্তাও নতুন কেন্দ্র নির্মাণের সমালোচনা করেন। তবে, এর মধ্যে যারা কেন্দ্র নির্মাণ করতে পারছেন না, আবার চুক্তি অনুযায়ী বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসার সময়ও পেরিয়ে গেছে, তাদের সঙ্গে চুক্তি টিকিয়ে রেখেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

প্রতিবেদনে বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসার সময় পেরিয়ে গেলেই চুক্তি বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হলেও তা করা হচ্ছে না। তেলচালিত আটটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৮৯৭ মেগাওয়াট। যার ৫টির নির্মাণকাজ সন্তোষজনক নয়। যে কেন্দ্রগুলোর যৌথভাবে উৎপাদন ক্ষমতা ৫৬১ মেগাওয়াট। নির্ধারিত পরিমাণ উৎপাদনের সময় এরই মাঝে পেরিয়ে গেলেও এই ৫টি কেন্দ্রের কাজে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতিবেদনে হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে।

এই ৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্র হলো- চাঁদপুর ১১৫ মেগাওয়াট, মেঘনা ঘাট ১০৪ মেগাওয়াট, ঠাকুরগাঁও ১১৫ মেগাওয়াট, ফেনী ১১৪ মেগাওয়াট ও চৌমুহনী ১১৩ মেগাওয়াট। অন্য তিনটি- বগুড়া ১১৩ মেগাওয়াট, রংপুর ১১৩ মেগাওয়াট ও শিকলবাহা ১১০ মেগাওয়াটের অবস্থা সন্তোষজনক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে দেশের উৎপাদন ক্ষমতা ২০ হাজার মেগাওয়াট আর চাহিদা আছে ১২ হাজার মেগাওয়াট। প্রকল্পগুলোর পরিচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তেলচালিত এসব কেন্দ্র উৎপাদন আসার সময় আরো ছয় মাস করে বাড়ালেও উৎপাদনে আসতে পারবে বলে মনে হয়নি তাদের। কেউ কেউ বলছেন অর্থায়ন নিশ্চিত না করতে পারায় দেশের বেসরকারি উদ্যোক্তারা সঠিক সময়ে কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শেষ করতে পারছে না।

চাঁদপুর ১১৫ মেগাওয়াট : চাঁদপুর ১১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে ২০১৮ সালের ১৭ জানুয়ারি। কেন্দ্রটি চলতি বছরের ১৬ জুন উৎপাদনে আসার কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত উৎপাদনে আসতে পারেনি। কেন্দ্রটির ৮৯ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। কেন্দ্রটির মাত্র ভৌত অগ্রগতি ১৫ ভাগ হয়েছে।

জানা যায়, মাটি পরীক্ষা, ভূমি উন্নয়ন কাজ শেষ হয়েছে মাত্র। সম্ভাব্য আগামী বছরের জানুয়ারিতে কেন্দ্রটি উৎপাদনে আসতে পারে বলে আশা করছে ডরিন পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড সিস্টেম লিমিটেড এবং ডরিন পাওয়ার হাউজ অ্যান্ড টেকনোলজি লিমিটেড। যন্ত্রপাতি কিনতে চুক্তি, সিন্ডিকেট লোনের জন্য সমঝোতা এবং ইপিসি বাছাই শেষ করেছে।

কেন্দ্রটির প্রকল্প পরিচালক আরিফুল হক বলেন, ‘এখন কেন্দ্রটি পাইলিংয়ের কাজ চলছে। আসলে ফিন্যান্সিয়াল ক্লোজিং শেষ করতে সময় লাগায় তারা কাজে পিছিয়ে পড়ে। এখন আগামী জানুয়ারি মাসে কেন্দ্রটি উৎপাদনে আনার পরিকল্পনা করেছে ডরিন। কিন্তু সেটি করতে হলে দিনরাত কাজ করতে হবে। সেটি কতটুকু সম্ভব তা আগে গেলেই বোঝা যাবে। এখনোই তা বলা সম্ভব নয়।’

মেঘনা ঘাট ১০৪ মেগাওয়াট : মেঘনা ঘাট ১০৪ মেগাওয়াট কেন্দ্রটির কাজ হয়েছে মাত্র ১৮ ভাগ। এটি চলতি বছরের জুলাইয়ে উৎপাদনে আসার কথা ছিল। চুক্তি হয়েছিল ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি। কিন্তু এখন এসে কোম্পানিটি বলছে তারা আগামী ডিসেম্বরে বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসতে পারবে। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, কেন্দ্রের প্রথম বাণিজ্যিক উৎপাদনের আসার সময় পেরিয়ে গেলেই চুক্তি বাতিলের উদ্যোগ নিতে হবে।

ঠাকুরগাঁও ১১৫ মেগাওয়াট : ঠাকুরগাঁও ১১৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রটির মাত্র ২০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। গত বছরের মে মাসে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের নভেম্বরে উৎপাদনে আসার কথা। কিন্তু এখন শুধু তারা ভূমি উন্নয়ন আর বাউন্ডারি নির্মাণের কাজ শেষ করেছে। কেন্দ্রটির ৬০০ পাইলের মধ্যে শুধু ১০০টি শেষ হয়েছে বলে জুলাই মাসে দেওয়া এই প্রতিবেদনে জানানো হয়।

প্রকল্প পরিচালক আবু সাঈদ সরকার বলেন, ‘বন্যার কারণে কাজের গতি কমে গেছে। ওই সময় প্রায় এক মাস কোনো কাজই করা যায়নি। তাই কাজের গতি কিছুটা কমে গেছে।’

ফেনী ১১৪ মেগাওয়াট : ফেনী ১১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরিতে চুক্তি সই হয়েছে গত বছর ১৯ মার্চ। কেন্দ্র উৎপাদনে আসার কথা রয়েছে চলতি মাসেই। এখন পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে ৬৮ ভাগ। মালামাল সাইটে সরবরাহের কাজ ৮০ ভাগ, সঞ্চালন লাইনের কাজ ৫০ ভাগ, ইঞ্জিন অ্যাসেম্বলি ও স্থাপনের কাজ ১০০ ভাগ শেষ করা হয়েছে।

চৌমুহনী ১১৩ মেগাওয়াট : চৌমুহনী ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি তৈরি করছে মেসার্স এইচএফ পাওয়ার লিমিটেড। কেন্দ্রটি স্থাপনে ২০১৭ সালের ৪ জুন চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনে কেন্দ্রটি উৎপাদনে আসার কথা ছিল। কিন্তু কেন্দ্রটি উৎপাদনে আসেনি। ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৮৯ ভাগ। কেন্দ্রটির কাজের মধ্যে ১২টি ইঞ্জিন ও মডিউল স্থাপনের কাজ শেষ। শুধু লেইংয়ের কাজ চলছে, ট্যাংক ফার্মের কাজ ৯০ ভাগ শেষ হয়েছে। কন্ট্রোল রুম বিল্ডিংয়ের সিভিল কাজ ৯৫ ভাগ শেষ হয়েছে। রেডিয়েটর স্থাপনের সব সিভিল, মেকানিক্যাল কাঠামো গঠন প্রস্তুতি, ওয়েল্ডিং কাজ ১০০ ভাগ শেষ হয়েছে। পাইপ স্থাপনের কাজ ৬০ ভাগ, চিমনি স্থাপনের কাজ ৯০ ভাগ শেষ হয়েছে। ট্যাংক ফার্ম ১৪টির মধ্যে ১৩টির কাজ শেষ হয়েছে। ফুয়েল ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের ডিস্ট্রিবিউশন লাইন স্থাপন চলমান আছে।

কনফিডেন্স পাওয়ারের বগুড়া ১১৩, একই ক্ষমতার রংপুর ১১৩ মেগাওয়াট এবং শিকলবাহা ১১০ মেগাওয়াট কেন্দ্র তিনটির নির্মাণকাজের অগ্রগতিকে সন্তোষজনক বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতিবেদনে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads