• বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬
ads

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি

তিন বছরে বিদ্যুতের ৩ হাজার কর্মকর্তার বিদেশ সফর

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৮ অক্টোবর ২০১৯

বিদ্যুৎ বিভাগের চলমান প্রকল্পের অধীনে অভিজ্ঞতা অর্জনের নামে তিন বছরে ২ হাজার ৯৬১ কর্মকর্তা বিদেশ সফর করেছেন। কারণে-অকারণে সরকারি কর্মকর্তাদের এমন বিদেশ সফরে চটেছে সংসদীয় কমিটি। এভাবে অভিজ্ঞতা অর্জনের নামে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে মন্ত্রণালয়কে সতর্ক করেছে সংসদীয় কমিটি।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।

বৈঠক শেষে কমিটি সভাপতি মো. শহিদুজ্জামান সরকার বলেন, অনিয়মটা তো এখন আর ধরতে পারব না। তাই মন্ত্রণালয়কে সতর্ক থাকতে বলেছি যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিদেশ সফর না হয়। অনেক সময় দেখা যায় একই কর্মকর্তা ঘুরেফিরে বিদেশ সফর করেন, এমনটাও যেন না হয় সে বিষয়েও মন্ত্রণালয়কে বলেছি। এ ছাড়া বিদ্যুতের সিস্টেম লস কমিয়ে আনার জন্য মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুতের সিস্টেম লস ১১ দশমিক ৯৬ শতাংশ। যদিও মন্ত্রণালয় কমিটিকে বলেছে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে এটিই সবচেয়ে কম সিস্টেম লস। তবে কমিটি বলেছে আরো কমিয়ে আনতে হবে। আর সিস্টেম লস এবং চুরি যেন মিলিয়ে না ফেলে সেজন্য মন্ত্রণালয়কে বলেছে কমিটি। এ ক্ষেত্রে চুরির বিষয়টি বাদ দিয়ে প্রকৃত সিস্টেম লস দেখাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি কী পরিমাণ চুরি হয়, সেটাও আলাদা দেখাতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে জানানো হয় গ্রামাঞ্চল এবং অফগ্রিড এলাকায় সোলার বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে ২১টি সোলার মিনিগ্রিড, ১ হাজার ৩৭৪টি সোলার ইরিগেশন (সেচ) পাম্প এবং ৫ দশমিক ৮ মিলিয়ন সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। আরো ৬টি সোলার মিনিগ্রিড এবং ২৩২টি সোলার ইরিগেশন পাম্প স্থাপনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এ ছাড়া যেসব অবিদ্যুতায়িত পকেটসমূহে গ্রিড বিদ্যুৎ পৌঁছানো সম্ভব হয়নি এমন ১ হাজার ৬৯টি অফগ্রিড গ্রাম চিহ্নিত করা হয়েছে যার মধ্যে ৬২০ গ্রামে আগামী জুনের মধ্যে গ্রিডের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে।

বাংলাদেশকে উন্নত দেশের কাতারে রূপান্তরিত করতে বাংলাদেশের সবখান ২০২০ সালের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আনতে মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করে কমিটি।

এদিকে, বৈঠকের কার্য বিবরণী থেকে জানা গেছে, পল্লী বিদ্যুতের আওতাভুক্ত দেশের ৪৬১টি উপজেলার মধ্যে ৩৫৩টি শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ১০৮টির বিদ্যুতায়নের কাজ চলছে।

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠার (১৯৭৮ সাল) পর থেকে এ পর্যন্ত ২ কোটি ৭৩ লাখ গ্রাহককে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ৩০ বছরে বিদ্যুতের গ্রাহক হয়েছিল ৭৪ লাখ। ওই সময় প্রতি বছরে গড়ে ২ লাখ ৪৭ হাজার গ্রাহক বেড়েছে।

২০০৯ সাল থেকে চলতি (২০১৯) বছর পর্যন্ত ১১ বছরে এক কোটি ৯৯ লাখ গ্রাহক হয়েছে। বছরে গড়ে ১৮ লাখ গ্রাহক বেড়েছে। প্রথম ৩০ বছরে যেখানে ২৫ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসে। সেখানে গত ১১ বছরে এসেছে ৬৯ শতাংশ। সব মিলিয়ে বর্তমানে ৯৪ ভাগ মানুষ বিদ্যুতের সুবিধার আওতায়। প্রথম ৩০ বছরে যেখানে ২ লাখ ১৭ হাজার কিলোমিটার লাইন নির্মাণ হয়েছিল, সেখানে শেষ ১১ বছরে ২ লাখ ৫৫ হাজার কিলোমিটার বসানো হয়েছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়েছে।

বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে জানা গেছে, ২০০৯-০৯ অর্থবছরে বিদ্যুতের সিস্টেম লস ছিল ১৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ, তা ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কমে ১১ দশমিক ৯৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই ১১ বছরে ৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ সিস্টেম লস হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে যে ১১ দশমিক ৯৬ শতাংশ সিস্টেম লস আছে, তার মধ্যে সঞ্চালন লস ২ দশমিক ৬১ ও বিতরণ লস ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

শহিদুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনজিসম্পদ প্রতমিন্ত্রী নসরুল হামিদ, আবু জাহির, আছলাম হোসেন সওদাগর, মোছা. খালেদা খানম এবং বেগম নার্গিস রহমান অংশ নেন। এছাড়া বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. আহমদ কায়কাউস ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads