• শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ads

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি

ফের বিদ্যুতের দাম বাড়াতে চায় কোম্পানিগুলো

আরইবি’র না   ২৮ নভেম্বর গণশুনানি শুরু

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৯ নভেম্বর ২০১৯

ফের বিদ্যুতের দাম বাড়াতে চায় কোম্পানিগুলো। গ্যাসের দাম বাড়ানোর ছয়  মাসের মধ্যেই বিদ্যুতের দাম বাড়াতে সঞ্চালন ও বিতরণকারী কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আবেদন জমা পড়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি)। আবেদনে সাড়া দিয়ে গণশুনানির আয়োজন করেছে সংস্থাটি। আগামী ২৮ নভেম্বর থেকে শুরু হবে গণশুনানি। বিদ্যুতের দাম বাড়াতে পরিচালন ও জনবল বাবদ ব্যয় বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তি স্থাপন ও সরঞ্জামের মূল্য বৃদ্ধিকে কারণ দেখিয়েছে কোম্পানিগুলো।

তবে বিতরণকারী বা খুচরা বিক্রেতা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ডেসকো, ডিপিডিসি, ওজোপাডিকো ও নেসকো দাম বাড়ানোর আবেদন করলেও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাইকারি দাম না বাড়লে তাদের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হবে না।

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি ও পরিচালন ব্যয় বাড়ার ফলে লোকসানের ফর্দ নিয়ে গত ১৫ অক্টোবর বিইআরসির দ্বারস্থ হয় বিদ্যুতের একমাত্র পাইকারি বিক্রেতা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। ওই প্রস্তাব দৃশ্যত দাম বাড়ানোরই প্রস্তাব।

আর একমাত্র সঞ্চালন কোম্পানি পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে আরো বেশি হুইলিং চার্জ দাবি করে আবেদন করেছে বিইআরসিতে, যা আরেক ধাপে খুচরা মূল্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।

পিজিসিবি বিভিন্ন ভোল্টেজ লেভেলে দাম বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব করেছে। বিতরণ সংস্থা ডেসকো ৫ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ হারে দাম বাড়াতে চাচ্ছে। তবে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো সুনির্দিষ্ট কোনো দাম প্রস্তাব করেনি।

সর্বশেষ ২০১৭ সালের নভেম্বরে পাইকারি বিদ্যুতের দাম গড়ে ৩৫ পয়সা বা ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ায় সরকার। আর চলতি বছরের ৩০ জুন গ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বিইআরসি।

গত অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে বিদ্যুতের একক ক্রেতা ও পাইকারি বিক্রেতা পিডিবি, সঞ্চালন কোম্পানি পিজিসিবি এবং বিতরণ সংস্থা ডিপিডিসি, ডেসকো, বিআরইবি, ওজোপাডিকো ও নেসকো নিজেদের চাহিদা তুলে ধরে বিইআরসির কাছে আবেদন জমা দিতে থাকে।

এসব আবেদন নিয়ে গণশুনানির গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বিইআরসি। তা অনুসারে আগামী ২৮ নভেম্বর পাইকারি মূল্যহার ও সঞ্চালন মূল্যহার পরিবর্তনের প্রস্তাবের ওপর শুনানি হবে।

এরপর ১ ডিসেম্বর পিডিবি ও নেসকোর খুচরা মূল্যহার পরিবর্তনের ওপর শুনানি হবে। ২ ডিসেম্বর ঢাকার দুই বিতরণ সংস্থা ডিপিডিসি ও ডেসকোর আবেদনের উপর শুনানি হবে। ৩ ডিসেম্বর ওজোপাডিকো ও পল্লী বিদ্যুতের প্রস্তাবের ওপর শুনানি হবে।

পিডিবির হিসাবে আরইবি ৪৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ বিদ্যুৎ বিতরণ করে। এছাড়া পিডিবি ১৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ, ডিপিডিসি ১৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ, ডেসকো ৮ দশমিক ০৪ শতাংশ, নেসকো ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং ওজোপাডিকো ৫ দশমিক ১৫ শতাংশ বিদ্যুৎ বিতরণ করে থাকে।

বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাবে যে কারণ দেখানো হয়েছে, তাকে ‘অযৌক্তিক’ বলছেন ভোক্তা অধিকার রক্ষার নাগরিক সংগঠন কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম।

তিনি বলেন, ‘কোম্পানিগুলোর পরিচালন ব্যয় ও দুর্নীতি কমানোর পথগুলো আগেও দেখিয়েছি। এই ইস্যুতে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব অযৌক্তিক। পাইকারিতেও দাম বৃদ্ধির সুযোগ নেই, তবু প্রস্তাব করা হয়েছে। আর ২০১৫ সালে হুইলিং চার্জ ১৮ পয়সা বাড়িয়ে ধরা হয়েছিল। শুনানিতে আমরা এসব প্রস্তাবের বিরুদ্ধে যুক্তি তুলে ধরব,’ বলেন তিনি।

তবে গত ২১ অক্টোবর দেওয়া প্রস্তাবে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড পাইকারি মূল্যহার বাড়ানো হলে সেই অনুযায়ী তাদের মূল্য সমন্বয়ের আবেদন করে রেখেছে।

তারা বলেছে, ২০১৭ সালে নতুন ট্যারিফ কার্যকর হওয়ার পরও পল্লী বিদ্যুৎ ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ব্রেক ইভেনে ছিল, ২০১৯-২০ অর্থ বছরেও ব্রেক ইভেনে থাকছে। এখন কমিশন নতুন করে বিদ্যুতের পাইকারি মূল্যহার বাড়ালে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর খুচরা মূল্যও বাড়াতে হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads