• বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬
ads
দেশে বেকার পৌনে ২৭ লাখ

ছবি : সংগৃহীত

কর্মসংস্থান

দেশে বেকার পৌনে ২৭ লাখ

বছরে বিদেশ যাবে এক হাজার কর্মী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২১ জুন ২০১৯

দেশে বেকারের সংখ্যা পৌনে ২৭ লাখ। এর মধ্যে উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস করা বেকার তরুণ-তরুণীর সংখ্যা ১০ লাখ ৪৩ হাজার। তবে বেকার যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া অভিবাসনে পিছিয়ে পড়া জেলাগুলোকে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় উৎসাহিত করতে প্রতিটি উপজেলা থেকে বছরে গড়ে এক হাজার কর্মী বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমেদ এ তথ্য জানান।

সরকারি দলের সংরক্ষিত সংসদ সদস্য বেগম হাবিবা রহমান খানের প্রশ্নের জবাবে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান জানান, বর্তমান সরকার বেকার যুবসমাজকে বেকারত্ব থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে কর্মসংস্থান ও অন্যান্য সুবিধার মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি জানান, সারা দেশে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ৭৭ হাজার। এসব বেকারের মধ্যে ১০ লাখ ৪৩ হাজার শিক্ষিত তরুণ-তরুণী, যারা উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস। অর্ধশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ৪০ শতাংশ।

ক্ষমতাসীন দলের আরেক সদস্য মো. ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের জবাবে বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান জানান, সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা ৫৭ লাখের বেশি। এর মধ্যে পোশাক কারখানায় কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা ২৫ লাখ ৭৪ হাজার ৪৯৮ জন। তৈরি পোশাক শিল্প ছাড়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কমর্রত শ্রমিক সংখ্যা ৩১ লাখ ২৩ হাজার ৩৭০ জন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদীনের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমেদ জানান, বাংলাদেশ থেকে ১৭৩টি দেশে কর্মী পাঠানো হচ্ছে। উপজেলাভিত্তিক বিদেশে যাওয়া বা বিদেশ থেকে ফেরত আসা কর্মীদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করতে ভবিষ্যতে আলাদা ডাটাবেস তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের সব অঞ্চল থেকেই বিদেশে কর্মীদের যাওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত। তবে পিছিয়ে পড়া জেলাগুলোর ক্ষেত্রে নতুন কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সরকারি দলের মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বেশি হারে দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সংখ্যা ৩৮ থেকে ৭০টিতে উন্নীত করা হয়েছে। এসব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৫৫টি কর্মসংস্থান উপযোগী স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদের প্রশ্নের জবাবে ইমরান আহমদ জানান, বাংলাদেশের জন্য অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়ায় ব্যাপক হারে কর্মী পাঠানোর জন্য সরকারের প্রচেষ্ট অব্যাহত আছে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছেন। বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় জয়েন্ট ওয়ার্কি গ্রুপে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। সরকারের নানামুখী কূটনৈতিক তৎপরতায় বিশ্বে বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সৈয়দা রুবিনা আক্তারের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিরীহ মানুষকে দালালের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সরকার বদ্ধপরিকর। এজন্য কিছু কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এগুলোর মধ্যে দালালদের দৌরাত্ম্য কমাতে জেলা পর্যায়ে শাখা অফিস খুলতে রিক্রুুটিং এজেন্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিরীহ মানুষদের প্রতারণার হাত থেকে বাঁচাতে প্রত্যেক জেলা ও উপজেলায় নিরাপদ অভিবাসনসংক্রান্ত সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে। যেসব বাংলাদেশি প্রতারিত হয়ে বিদেশ থেকে ফেরত আসেন, তাদের কাছ থেকে বিমানবন্দরে সংশ্লিষ্ট প্রতারকদের তথ্য সংগ্রহ করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads