• বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬
ads

কর্মসংস্থান

ছোট হয়ে আসছে বিদেশি শ্রমবাজার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ১৭ অক্টোবর ২০১৯

বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য সংকুচিত হয়ে আসছে বিদেশি শ্রমবাজার। চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অসততা, উপসাগরীয় দেশগুলোতে শ্রমিকের চাহিদা কমে যাওয়া এবং নতুন বাজার খোঁজার ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে বাংলাদেশিরা বিদেশি শ্রমবাজার হারাচ্ছেন বলে জানিয়েছে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর একটি হিসাবে দেখা গেছে, ২০১৭ সালে ১০ লাখের বেশি বাংলাদেশি বিদেশে চাকরির সুযোগ পেয়েছিলেন। গত বছর তা কমে সাত লাখ ৩৪ হাজার ১৮১ জনে এসে দাঁড়ায়। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বাংলাদেশিদের চাকরির সংখ্যা ছিল চার লাখ ১৭ হাজার ৮৪টি। বছর শেষে তা ছয় লাখ ২৫ হাজার ৬২০-এ দাঁড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, বিদেশে কর্মরত প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি গত বছর প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন। তবে নিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব অসততা রয়েছে তা দূর করতে পারলে এবং বিদেশে অভিবাসীদের অধিকার নিশ্চিত করা গেলে রেমিট্যান্সের পরিমাণ আরো বেশি হতে পারত বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এই অসঙ্গতিগুলোর কারণে মালয়েশিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো কয়েকটি দেশের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের জন্য বিধিনিষেধ তৈরি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দা রোজানা রশীদ বলেন, এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে আমাদের যা প্রয়োজন তা হলো- শ্রমবাজারের প্রবণতাগুলো পরিষ্কারভাবে বিশ্লেষণ করা এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবেলা করতে হবে তার কৌশল প্রণয়ন করা।

বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম চাকরির বাজার হলো মালয়েশিয়া। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ১০টি নিয়োগকারী সংস্থার একটি সিন্ডিকেট শ্রমিক নিয়োগ ব্যবসাকে একচেটিয়াকরণ এবং ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত শ্রমিকদের কাছ থেকে চার লাখ টাকা করে রিক্রুটিং ফি নেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশিদের নিয়োগ স্থগিত করেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটি।

সৌদি আরবের পর সংযুক্ত আরব আমিরাত হচ্ছে বাংলাদেশিদের জন্য দ্বিতীয় বৃহত্তম চাকরির বাজার। ২০১২ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য বিধিনিষেধ আরোপ করে আমিরাত সরকার। এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে দেশটির কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কয়েকজন বাংলাদেশির জড়িয়ে পড়া এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির কারণে এই বিধিনিষেধ এসেছে। বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাত গত বছরের এপ্রিলে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী উপসাগরীয় দেশটিতে সাধারণ শ্রমিক হিসেবে বাংলাদেশিদের নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল। তবে তা এখনো শুরু হয়নি।

এদিকে গত সাত বছর বন্ধ থাকার পর ২০১৫ সালে বাংলাদেশের জন্য শ্রম বাজার পুনরায় চালু করে সৌদি আরব। ২০১৫ সাল থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ১২ লাখ ৪৪ হাজার বাংলাদেশিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে দেশটি এখন জোরালোভাবে সৌদি নাগরিকদের জন্য কর্মসংস্থান করার ওপর জোর দিচ্ছে। এই নীতির ফলে তেলসমৃদ্ধ দেশটি কোনো বিদেশি নয়, বরং স্থানীয়দের নিয়োগ দেওয়াকে প্রাধান্য দিচ্ছে। ফলে ২০১৭ সাল থেকে বিদেশি ও বিদেশি ব্যবসায়ের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করায় প্রায় ১৯ লাখ বিদেশি সৌদি আরব ত্যাগ করেছেন। বৈধ কাগজ থাকা সত্ত্বেও কয়েক হাজার বাংলাদেশি সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে এসেছেন। জনশক্তি ব্যুরোর তথ্যে জানা যায়, চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত দুই লাখ ৩৪ হাজার ৭১ জন বাংলাদেশি সৌদি আরব গেছেন।

এছাড়া লেবানন ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বছরে গড়ে ১৬ হাজার বাংলাদেশিকে নিয়োগ দিচ্ছিল। এখন দেশটি বছরে সাত হাজারের মতো কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে। বাহরাইনের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। দেশটি বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। এ বছর আগস্ট পর্যন্ত বাহরাইন মাত্র ১৩২ জন শ্রমিক নিয়োগ দিয়েছে। অথচ গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৮১১ জন। এমন চিত্র দেখা যায় ওমান, কাতার, সিঙ্গাপুরেও। দেশগুলোতে সম্প্রতি ৪০ থেকে ৭০ হাজার শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads