• শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
প্রশিক্ষণ পাবেন তরুণরা

উদ্যোক্তা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ পাবেন তরুণরা

ছবি : প্রতীকী

উদ্যোক্তা

উদ্যোক্তা উন্নয়ন

প্রশিক্ষণ পাবেন তরুণরা

# ৫০ কোটি টাকার প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে # অযাচিত ব্যয় পরিহারের পরামর্শ

  • জাহিদুল ইসলাম
  • প্রকাশিত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

শিক্ষার হারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে না কর্মসংস্থান। ফলে বাড়ছে বেকারের সংখ্যা। আর শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে দেশের শিল্প খাত ভুগছে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মীর অভাবে। বাড়তি দক্ষতার জোরে বিপুলসংখ্যক বিদেশি কাজ করছেন বিভিন্ন শিল্প-কারখানায়। তাই দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় ১২ লাখ তরুণকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার পক্ষ থেকেও আয়োজন করা হচ্ছে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন করে ২২ হাজার তরুণকে দেওয়া হবে প্রশিক্ষণ। এ লক্ষ্যে ৪৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয় ধরে একটি প্রকল্প প্রণয়ন করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, শিল্প মন্ত্রণালয়ের পাঠানো উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সংযোগ স্থাপন শীর্ষক প্রস্তাবনার বিষয়ে এরই মধ্যে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বেশ কিছু খাতে বাড়তি ব্যয়ের প্রস্তাব নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে কমিশনের পক্ষ থেকে। কিছু ক্ষেত্রে সংশোধনের পরামর্শ দিয়ে প্রকল্পের প্রস্তাবনা (ডিপিপি) ফেরত পাঠানো হয়েছে। শর্ত পরিপালন করে ডিপিপি পুনর্গঠন করে কমিশনে পাঠানোর পর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও প্রস্তাবিত প্রকল্পটি একটু ব্যতিক্রম। এ প্রকল্পের আওতায় বাজার চাহিদা বিবেচনায় দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ১০টি বিষয়ে জেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ পাবেন প্রায় ২২ হাজার তরুণ-তরুণী। ২০২১ সালের মধ্যে প্রশিক্ষণের কাজ শেষ করা হবে।

প্রকল্পটির আওতায় মৌমাছির প্রজনন, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, ইলেকট্রিক্যাল ও বাড়িতে বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপনের কাজ, মেশিনারিজ ও যন্ত্রপাতি মেরামত, এয়ারকন্ডিশনং ও রেফ্রিজারেটর, নার্সিং, ট্যুর গাইড, হোটেল সার্ভিসিং, ফেব্রিকস হ্যান্ডলুম, টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঝালকাঠি, বগুড়াসহ ২০ জেলায় প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে।

জানতে চাইলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ডা. মো. আখতারুজ্জামান বাংলাদেশের খবরকে বলেন, প্রকল্পটির বিষয়ে এরই মধ্যে পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার প্রস্তাবনার আলোকে ডিপিপি সংশোধনের কাজ চলছে। একনেকে অনুমোদন পেলে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রকল্পটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রকল্পটির আওতায় বিদেশ ভ্রমণ ও প্রশিক্ষণে তিন কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। কমিশনের আপত্তির মুখে এ খাতে ব্যয় নেমে এসেছে ১ কোটি টাকায়। অফিস ভাড়া বাবদ ব্যয় ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা থেকে ৮০ লাখ টাকায় নামিয়ে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে পিইসি সভায়। ইন্টারনেট ও ফ্যাক্স বাবদ ব্যয় ২৬ লাখ টাকা থেকে নামিয়ে আনা হচ্ছে ১৫ লাখ টাকায়। বিদ্যুতের বিল বাবদ ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব থাকলেও বরাদ্দ নেমে আসছে ২০ লাখ টাকায়।

পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের প্রধান শেখ আহাদ আলী জানান, সারা দেশে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কাজ চলছে। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে এক কোটি দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন হবে। দক্ষ শ্রমশক্তি গড়ে তুলতে পারলে দেশের অর্থনীতি অনেক এগিয়ে যাবে। এসব কিছু বিবেচনায় প্রকল্পটি দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads