• রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
চাঁদের অদেখা ছবি  পাঠাল চীনা যান

চাঁদের অদেখা ছবি  পাঠাল চীনা যান

ছবি : ইন্টারনেট

পরিবেশ বিজ্ঞান

চাঁদের অদেখা ছবি  পাঠাল চীনা যান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ০৪ জানুয়ারি ২০১৯

চাঁদের যেদিকে কেউ যায়নি, সেখানেই অবতরণ করল চীনের মহাকাশযান। চাঁদের এই অদেখা অংশে এটিই প্রথম সফল অভিযান। গতকাল বৃহস্পতিবার মানুষবিহীন চ্যাং-ই-৪ নামের একটি রোবটযান চাঁদের দক্ষিণ গোলার্ধের এইটকেন বেসিনে অবতরণ করেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই খবর প্রকাশ করে একে  মহাকাশ গবেষণায় বড় ধরনের পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

গত ৮ ডিসেম্বর লং মার্চ থ্রিবি রকেটে করে চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল নভোযানটি। বৃহস্পতিবার চীনের স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ২৬ মিনিটে সফলভাবে অবতরণ করে চ্যাং-ই-৪। এর পরই চাঁদের ওই পৃষ্ঠের ছবিও পাঠিয়েছে নভোযানটি। ফলে প্রথমবারের মতো চাঁদের অন্ধকার পৃষ্ঠের ছবি দেখল পৃথিবীবাসী।

আগে যেসব চন্দ্রযান পাঠানো হয়, সেগুলো অবতরণ করেছিল চাঁদের পৃথিবীমুখী অংশে। কিন্তু চ্যাং-ই-৪ প্রথম কোনো চন্দ্রযান, যেটি চাঁদের পৃথিবীর বিপরীত দিকের অংশে অবতরণ করেছে। চাঁদের ওই অংশ পৃথিবী থেকে খুব কম সময় দেখা যায় বলে অন্ধকার অংশ বলা হয়।

চীনা গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, চাঁদে প্রাণের রহস্য নিয়ে গবেষণার জন্য এই চন্দ্রযান পাঠানো হয়েছে। এটি চাঁদের ওই অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বায়োলজিক্যাল পরীক্ষা চালাবে।

এ বিষয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, মহাকাশ গবেষণায় চীনের এই চন্দ্রযানের অবতরণকে মাইলফলক হিসেবে দাবি করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। চীনের মিশনের আরেকটি লক্ষ্য হচ্ছে চাঁদের অপর পাশে একটি বেতার যোগাযোগের পরিবেশ তৈরি করা এবং সেখানে ভবিষ্যতের টেলিস্কোপ স্থাপনের জন্য একটি ক্ষেত্র তৈরি করা।

এ মিশনের মহাকাশযানটিতে করে তিন কেজি আলুর বীজ আর ফুলের বীজ নেওয়া হয়েছে, যা দিয়ে চাঁদে জীববিজ্ঞানের কিছু পরীক্ষা চালানো হবে। কৃত্রিম পরিবেশ তৈরির ‘চাঁদের ছোট জীবমণ্ডল’ নামের এই নকশা চীনের ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনায় করা হয়েছে।

যানটিতে দুটি ক্যামেরা রয়েছে। একটি অংশ তেজস্ক্রিয়তা যাচাই করতে পারে; অপরটি মহাকাশের স্বল্পমাত্রার তরঙ্গ পর্যালোচনা করতে পারে। চাঁদের ভূপৃষ্ঠের নিচে কী আছে, সেটি পরীক্ষা করে দেখার জন্য একটি রাডার রয়েছে।

মহাকাশযানটি হচ্ছে চ্যাং-ই-৩ এর পরবর্তী সংস্করণ। ২০১৩ সালে চাঁদে ওই যান পাঠিয়েছিল চীন। তার আগে চ্যাং-ই-১ ও ২ মিশনের উদ্দেশ্য ছিল কক্ষপথ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ। তবে তৃতীয় আর চতুর্থ মিশনের লক্ষ্য চাঁদের ভূপৃষ্ঠ। চ্যাং-ই-৫ ও ৬ এর লক্ষ্য হবে চাঁদ থেকে সংগৃহীত পাথর আর মাটির নমুনা এনে গবেষণাগারে জোগান দেওয়া। চ্যাং-ই-৪ যেদিন পৃথিবীতে ফিরবে, সেদিনই চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবে চ্যাং-ই-৫।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads