• সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads
ঘাতকে রূপ নিচ্ছে ই-বর্জ্য

ই-বর্জ্য

সংগৃহীত ছবি

পরিবেশ বিজ্ঞান

ব্যবস্থাপনায় নীতিমালা নেই

ঘাতকে রূপ নিচ্ছে ই-বর্জ্য

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৩ জানুয়ারি ২০১৯

সিটি করপোরেশনের প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং জনবল না থাকায় রাজধানীতে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে ইলেকট্রনিকস বা ই-বর্জ্যের ঝুঁকি। নষ্ট ও পরিত্যক্ত মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সৃষ্ট এসব ই-বর্জ্য রূপ নিতে পারে মারাত্মক ঘাতক হিসেবে। মোবাইল ফোনের ই-বর্জ্য সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা না হওয়ায় তা বাড়াচ্ছে পরিবেশদূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি।

একই সঙ্গে শুধু গৃহস্থালির ও মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নীতিমালা থাকলেও ইলেকট্রনিকস বর্জ্য (ই-বর্জ্য), ইমারত নির্মাণ বর্জ্য ও খাদ্যপণ্যের বর্জ্যের ব্যবস্থাপনায় কোনো নীতিমালা না থাকায় এই ঝুঁকির মাত্রা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

জাপানের পরিবেশ ও প্রযুক্তিগত প্রতিষ্ঠান রি-টেম’র এক জরিপে দেখা যায়, শুধু পরিত্যক্ত ও নষ্ট মোবাইল ফোন থেকে ২০১৭ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত রাজধানীতে উৎপাদিত হয়েছে এক হাজার ৩৩ দশমিক ৫৬ টন ই-বর্জ্য। প্রতিষ্ঠানটির জরিপে আরো দেখানো হয়েছে, ২০১৮ সালে এই ই-বর্জ্যের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে এক হাজার ৬৮ দশমিক ২৬ টন, ২০১৯ সালে এক হাজার ১০৪ দশমিক ২৬ টন, ২০২০ সালে এক হাজার ১৪১ দশমিক ৬২ টন এবং ২০২১ সালে প্রায় এক হাজার ১৭০ টন। রি-টেম’র হিসাবে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২ কোটি ৯৫ লাখ ৮৪ হাজার। সংস্থাটির হিসাবে চলতি বছর মোবাইল ফোন পরিত্যক্ত বা নষ্ট হওয়ার হার ৭ দশমিক ১ ভাগ, যা ২০১৮ সালে হবে ৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ, ২০২০ সালে ৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং ২০২১ সালে মোবাইল ফোন পরিত্যক্ত হওয়ার হার দাঁড়াবে ৮ শতাংশের বেশি।

পরিত্যক্ত এসব মোবাইল ফোনের সঙ্গে থাকছে নিকেল ক্যাডমিয়াম ব্যাটারি যার ৬ থেকে ১৮ শতাংশই ক্ষতিকর ভারী ধাতব ক্যাডমিয়াম। এসব ক্যাডমিয়াম ব্যাটারি পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মোবাইল ফোন থেকে সৃষ্ট ই-বর্জ্য পরিবেশ ও মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বিশেষ করে পরিত্যক্ত মোবাইল ফোনের ব্যাটারি থেকে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ছে ক্ষতিকর ক্যাডমিয়াম ধাতু ও লিথিয়ামের মতো কেমিক্যাল।

অন্যদিকে সিটি করপোরেশনের দাবি, গৃহস্থালি ও মেডিকেল বর্জ্য সংগ্রহ, অপসারণ, পরিশোধন ও ধ্বংস করার ব্যাপারে নীতিমালা থাকলেও ই-বর্জ্য, ইমারত নির্মাণ বর্জ্য ও খাদ্যবর্জ্যের ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে কোনো নীতিমালা নেই। তাই গৃহস্থালি বর্জ্যের সঙ্গেই ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চলছে।

এ ব্যাপারে বেসরকারি সংস্থা পরিবেশ আন্দোলন বাংলাদেশের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বাংলাদেশের খবরকে বলেন, রাজধানীর গৃহস্থালির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দুই সিটি করপোরেশনে এখনো শতভাগ সফলতায় পৌঁছাতে পারেনি। গত দুই বছরে প্রযুক্তিগতভাবে দুই সিটি করপোরেশনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উন্নতি হলেও ঝুঁঁকি রয়ে গেছে। এর মধ্যে মোবাইল ফোনের মতো ই-বর্জ্য নতুন করে ঝুঁঁকি বাড়াচ্ছে। উন্নত দেশে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে। এসব অতি ঝুঁঁকিপূর্ণ বর্জ্য সংগ্রহ, পরিশোধন বা ধ্বংস করার সক্ষমতা আমাদের নেই।

তিনি বলেন, দেশে যে হারে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে, এতে করে ই-বর্জ্যের ঝুঁকি দিন দিন আরো ভয়াবহ হবে। এখন সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদফতর ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। না হলে পলিথিনের মতো মোবাইল ই-বর্জ্যও রাজধানীর জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর এমএ রাজ্জাক বাংলাদেশের খবরকে বলেন, গৃহস্থালি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বেশ সফল হয়েছে। সিটি করপোরেশনের নিজস্ব এবং বেসরকারি পর্যায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজ চলছে। এখন পর্যন্ত আমরা প্রায় ৮০ শতাংশ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করতে পারছি। তবে ই-বর্জ্য, খাদ্যপণ্যের বর্জ্য, শিল্পবর্জ্য এবং কনস্ট্রাকশন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমাদের তেমন কোনো সফলতা নেই। এসব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কোনো আইন বা নীতিমালা না থাকায় গৃহস্থালির বর্জ্যের সঙ্গেই পরিত্যক্ত মোবাইল ফোন ফেলে দিচ্ছে ব্যবহারকারীরা। ফলে তা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, জনবল স্বল্পতা ছাড়াও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা না থাকায় আমরা ই-বর্জ্য আলাদাভাবে সংগ্রহ এবং তা ডিসপোজালের কাজ করতে পারছি না। সরকারকে দ্রুত ই-বর্জ্যসহ ক্ষতিকর শিল্পবর্জ্য, কনস্ট্রাকশন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। তা না হলে সিটি করপোরেশনের পক্ষে আলাদাভাবে এসব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads