• বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯, ৯ শ্রাবণ ১৪২৫
ads
ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন

ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনাবিষয়ক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তব্য রাখছেন মোস্তফা জব্বারসহ অতিথিরা

ছবি : সংগৃহীত

পরিবেশ বিজ্ঞান

ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন

গোলটেবিল আলোচনায় মোস্তাফা জব্বার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তি পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়ছে ই-বর্জ্যের পরিমাণ। এসব ই-বর্জ্যে রয়েছে পরিবেশগত নানা ঝুঁকি। তবে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করা সম্ভব হলে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় চ্যালেঞ্জ কমে আসবে এবং এর ব্যবসায়িক সম্ভাবনা বাড়বে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ই-বর্জ্যের পরিমাণ কমানো যাবে না। ডিজিটাইজেশনের দ্রুত বিকাশের ফলে ই-বর্জ্যের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। সামনের দিনগুলোয় ডিজিটাল পণ্যের ব্যবহার আরো বাড়বে। প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। আমরাও নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা যখন টুজি থেকে থ্রিজিতে এসেছি, তখন আমাদের থ্রিজি সেট কিনতে হয়েছে। ফোরজিতে আসার সময় নতুন হ্যান্ডসেট কিনতে হয়েছে। ফোরজি থেকে ফাইভজিতে যাওয়ার সময় আমাদের হ্যান্ডসেট বদলাতে হবে। এতে স্বাভাবিকভাবেই ই-বর্জ্য আরো বাড়বে।

আর তাই এখনই ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যবসায়িক পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে বলেও মনে করেন মোস্তাফা জব্বার।

ব্যবসায়িক পরিকল্পনার উদাহরণ হিসেবে মন্ত্রী বলেন, যারা এই ই-বর্জ্য নিয়ে কাজ করছে তারা যেসব পণ্য কিনতে পারবেন তার একটি তালিকা তৈরি করে সেগুলোর মূল্য নির্ধারণ করতে পারেন। এতে ই-বর্জ্য সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পৌঁছানো সহজ হবে।

মন্ত্রী বলেন, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আইনগত বিষয় এবং এগুলো দেখভালের দায়িত্ব পরিবেশ অধিদফতরের। এর বাইরে সরকার এই শিল্পকে বিভিন্নভাবে উৎসাহিত করবে বলেও জানান তিনি। ট্যাক্স হলিডে, বজ রফতানিতে নগদ প্রণোদনা প্রভৃতি সুবিধা এ খাতের উদ্যোক্তারা পেতে পারেন বলেও মত তার। ই-বর্জ্য নীতিমালা চূড়ান্ত হয়েছে এবং এটি এখন আইন মন্ত্রণালয়ে আছে বলেও জানান তিনি।

টিআরএনবি সভাপতি জাহিদুল ইসলাম সজলের সভাপতিত্বে গোলটেবিল আলোচনায় আরো বক্তব্য রাখেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক সুলতান আহমেদ, রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমপিআইএ) সভাপতি রুহুল আলম আল মাহবুব।

জহুরুল হক বলেন, হ্যান্ডসেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বলা হয়ে থাকে। ই-বর্জ্যের বিষয়ে বিটিআরসি তৎপর রয়েছে বলেও জানান তিনি।

মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, রবি ২০১৫ সাল থেকে স্বল্প পরিসরে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করছেন। এখন এই কার্যক্রম সারা দেশে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

শিগগিরই ঢাকার বড় কয়েকটি শপিং সেন্টারসহ মোট পাঁচটি জায়গায় ই-বর্জ্য সংগ্রহে বিএমপিআইএ উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানান রুহুল আলম আল মাহবুব।

টিআরএনবির সাধারণ সম্পাদক সমীর কুমার দের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে মোবাইল ফোন অপারেটর ও হ্যান্ডসেট আমদানিকারকদের প্রতিনিধিসহ খাতসংশ্লিষ্টরাও উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads