• মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৫
ads
রোজার ফজিলত ও চিকিৎসা বিজ্ঞান

ছবি : সংগৃহীত

মুক্তমত

রোজার ফজিলত ও চিকিৎসা বিজ্ঞান

  • প্রকাশিত ১৪ মে ২০১৯

সাব্বির হোসেন

 

রমজান সারা জাহানের মুসলিম উম্মাহর জন্য আল্লাহপাকের পক্ষ থেকে বিশেষ এক নেয়ামত। রমজানেই পবিত্র কোরআন শরিফ নাজিল হয়। শবেকদরের রাত হাজার রাতের থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বনবী রসুলুল্লাহ (সা.) প্রায় সময় রোজা রাখতেন এবং সাহাবিদের রোজা রাখার নির্দেশ দিতেন। রমজানের রোজা রাখতে বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন। আল্লাহপাক নিজ হাতে রোজার প্রতিদান দেবেন বলে আল-কোরআনে ঘোষণা করেছেন। রোজাদারের মর্যাদা আল্লাহপাকের কাছে অনেক উপরে। এসব আমাদের জানা থাকলেও দেখা যায় অনেক মানুষ স্বাস্থ্যের কথা ভেবে রোজা পালনে বিরত থাকেন। তাদের ধারণা, লম্বা সময় না খেয়ে থাকলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে, তারা অসুস্থ হয়ে পড়বে। এই ভাবনা থেকে তারা রোজা পালনে বিরত থাকে আর দিনের বেলা পানাহারে ব্যস্ত থাকে, যা তার স্বাস্থ্য এবং আমল দুটিরই ক্ষতি করে; কিন্তু সে জানলেও মানে না। বেশিরভাগ মানুষ আজকাল ধর্মের নির্দেশ মানতে চায় না অথচ তারা চিকিৎসকের কথা মেনে চলে। মানুষ একটা বিষয় জানে তার মৃত্যু হবে এবং ডাক্তার চাইলেও তাকে বাঁচাতে পারবে না। এমনকি ডাক্তার নিজেও নিজেকে বাঁচাতে পারবেন না। এসব মানুষের একটি বিষয় জানা উচিত আর তা হলো, চিকিৎসাবিজ্ঞান রোজার উপকারিতা কীভাবে ব্যাখ্যা করেছে।

আমাদের ঘরে যেমন ডাস্টবিন থাকে অথবা আমাদের কম্পিউটারে যেমন রিসাইকেল বিন থাকে, তেমনি আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষের মাঝেও একটি করে ডাস্টবিন আছে। সারা বছর শরীরের কোষগুলো খুব ব্যস্ত থাকার কারণে ডাস্টবিন পরিষ্কার করার তেমন সময় পায় না। ফলে কোষগুলোতে অনেক আবর্জনা জমে যায়। এই আবর্জনা যদি পরিষ্কার করতে না পারে, তাহলে কোষগুলো একসময় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। এতে শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দেয়। ক্যানসার বা ডায়াবেটিসের মতো অনেক বড় বড় রোগের শুরু এখান থেকেই। মানুষ যখন খালি পেটে থাকে, তখন শরীরের কোষগুলো অনেকটা বেকার হয়ে পড়ে। সে সময় অলস না থেকে প্রতিটি কোষ তার ভেতরের আবর্জনাগুলো পরিষ্কার করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কোষগুলোর আমাদের মতো আবর্জনা ফেলার জায়গা নেই বলে তারা নিজের আবর্জনা নিজেই খেয়ে ফেলে। মেডিকেল সায়েন্সে এই পদ্ধতিকে বলা হয় অটোফেজি। জাপানের বিজ্ঞানী ওশিনরি ওসুমি শুধু এই বিষয়টি আবিষ্কার করে ২০১৬ সালে নোবেল পুরস্কার জেতেন। একজন মুসলিম অনেক সওয়াবের আশায় রোজা পালন করেন এবং ধর্মীয় আদেশ মেনে অনেক কষ্ট হলেও পিছপা হন না। অটোফেজি আবিষ্কারের পর আধুনিক অনেক মানুষ স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে উপোস করতে শুরু করেন। সারা বিশ্বের অনেক ইহুদি, খ্রিস্টান ও নাস্তিক বছরের বিভিন্ন সময় উপোস করে অটোফেজির মাধ্যমে স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটায়। পক্ষান্তরে আমাদের দেশের মানুষ অজ্ঞতার কারণে পবিত্র রমজানের রোজার এত ফজিলত জেনেও রোজা পালনে বিরত থাকে। তাদের দুর্ভাগ্য বলা ছাড়া আর কিছুই বলার নেই। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানুষকে রোজার আমল সম্পর্কে সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন।

 

লেখক : প্রকৌশলী

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads