• রবিবার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৫
ads
ঈদ সামনে রেখে চলছে ভেজাল ব্যবসা

ছবি : সংগৃহীত

মুক্তমত

ঈদ সামনে রেখে চলছে ভেজাল ব্যবসা

  • প্রকাশিত ২৭ মে ২০১৯

আর কে চৌধুরী

 

ঈদ সামনে রেখে চলছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিম্নমানের সেমাই তৈরির ব্যবসা। দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের নামে নকল সেমাই প্যাকেটজাতের ব্যবসাও জমে উঠেছে। ঈদে প্রসাধনের চাহিদা বেড়ে যায় বছরের অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এ সুযোগে রাজধানীর নকল প্রসাধনী ব্যবসার কুশীলবরাও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। খাদ্যে ভেজাল মেশানোর প্রবণতা ইদানীং ভয়ঙ্কর ও বহুমাত্রিক আকার ধারণ করেছে বাংলাদেশে। নকল ও ভেজালের অশুভ দৌরাত্ম্যে খাঁটি ও বিশুদ্ধ শব্দ দুটিই এদেশ থেকে নির্বাসনের পথে। ভেজালমুক্ত খাদ্যসামগ্রী এখন আমাদের দেশে সোনার হরিণের চাইতেও যেন দুর্লভ। মাছ, মাংস, চাল, আটা, তেল, ঘি, ফল-মূল, শাকসবজি এবং জীবনরক্ষাকারী ওষুধসহ সবকিছুতেই ভেজাল। এমনকি মিনারেল ওয়াটারনামীয় বোতলবন্দি পানিতেও ভেজাল।

ভেজাল এদেশের অনেক মানুষের কথা ও কাজে। এমনি মানুষের লেভেল লাগানো পশুতুল্য অসাধু ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফা লাভের কূটকৌশল হিসেবে একদিকে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী এবং ওষুধে খাঁটি ও বিশুদ্ধ লেভেল লাগিয়ে আর অপরদিকে মাছ, মাংস, ফল-ফলাদি ও শাকসবজিতে মানবজীবন ধ্বংসকারী ফরমালিনজাতীয় বিষাক্ত দ্রব্যসহ নানা রকম বিষাক্ত ওষুধ মিশিয়ে প্রতিনিয়ত বিক্রি করছে রাজধানীসহ দেশের সব বিপণি বিতানে। আর প্রতিনিয়ত এগুলো খাবার হিসেবে গ্রহণ করে দেশের মানুষ নানা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে গোটা দেশের জনস্বাস্থ্যই এখন চরম হুমকির সম্মুখীন।

অথচ এসব অনৈতিকতা প্রতিরোধের জন্য কেউ নেই যেন আমাদের দেশে। সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিগণ কদাচিৎ দু-চারটা দোকানে ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করলেও পরবর্তীতে হাত গুটিয়ে নেয়। ফলে যা হবার তা-ই হয়। বিপণি বিতানগুলো হয়ে যায় ভেজালের অভয়াশ্রম। নকল ও ভেজালের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা যারা উপার্জন করে তাদের সামান্য অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড দিয়ে যে সোজা পথে আনা সম্ভব নয়, বছর ঘুরতে না ঘুরতেই একই অপরাধে ধরা পড়ার ঘটনা তারই প্রমাণ।

ঈদে সেমাইয়ের ব্যবহার বেড়ে যায় বিপুলভাবে। এ চাহিদা মেটাতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেও গড়ে ওঠে সেমাই কারখানা। অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে যেসব কারখানায় সেমাই তৈরি হয় তার ৯৫ শতাংশের পরিবেশই অস্বাস্থ্যকর। প্রসাধন ব্যবহার করা হয় রূপচর্চার জন্য। মানুষ এ জন্য কষ্টার্জিত অর্থও ব্যয় করে। কিন্তু সে অর্থে কেনা প্রসাধন যদি ত্বক ও দেহের জন্য সর্বনাশ ডেকে আনে তবে তা কাম্য হতে পারে না। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, দেশে যে প্রসাধন বিক্রি হয় তার অন্তত এক-চতুর্থাংশই নকল। নকল ও ভেজালের দৌরাত্ম্য থেকে যারা অভিজাত বিপণি কেন্দ্র থেকে নামিদামি ব্র্যান্ডের প্রসাধন কেনেন তারাও বাদ যান না। আর যারা ফুটপাত থেকে প্রসাধন কেনেন তাদের অবস্থা সহজেই অনুমেয়।

নকল ও ভেজাল ওষুধের কারণে জনমনে যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, তা থেকে মুক্ত হয়ে জনমনে স্বস্তি আনা সম্ভব না হলে এক ধরনের অবিশ্বাস ও ভীতি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে। তা ছাড়া জাল টাকা অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়ায়, প্রতারণার খপ্পরে পড়ে মানুষ। কিন্তু নকল ও ভেজাল ওষুধের কারণে মানুষের মৃত্যু অনিবার্য হয়ে যেতে পারে। সুতরাং খাদ্যপণ্যে ভেজাল ও বিষ মিশ্রণ জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকির সৃষ্টি করেছে।

বাজারে নকল বা ভেজাল টিকে আছে আইনের নমনীয়তার কারণে কিংবা যথাযথ প্রয়োগের অভাবে। নকল ও ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিদানই শুধু নয়, তারা যাতে ভবিষ্যতে অপরাধবৃত্তিতে জড়িত না হয়, সে জন্য নজরদারিও বাড়াতে হবে। ভেজালের এহেন দৌরাত্ম্যের অবসানে বর্তমানে পরিচালিত ভেজালবিরোধী অভিযান আগামীতেও অব্যাহত রাখার আবশ্যিকতা রয়েছে।

 

লেখক : সাবেক চেয়ারম্যান, রাজউক ও সদস্য, এফবিসিসিআই 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads