• বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯, ৬ আষাঢ় ১৪২৫
ads
খাদ্যে ভেজাল ও ভোক্তা অধিকার সচেতনে সিওআইবি

সংগৃহীত ছবি

মুক্তমত

খাদ্যে ভেজাল ও ভোক্তা অধিকার সচেতনে সিওআইবি

  • মো. আখতার হোসেন আজাদ
  • প্রকাশিত ১২ জুন ২০১৯

মানুষের বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য প্রয়োজনীয় হলেও এই খাদ্যই মৃত্যুর অন্যতম কারণ হতে পারে, যদি না সেই খাদ্য নির্ভেজাল হয়। পুষ্টিমানসম্মত খাদ্য দেহের ক্ষুধা নিবারণ, ক্ষয়পূরণ ও বৃদ্ধি সাধনের জন্য অতীব প্রয়োজনীয় উপাদান। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তি যেন সোনার হরিণে পরিণত হয়েছে। ভেজাল খাদ্য দেশে মহামারীতে রূপ নিয়েছে। অশিক্ষিত মানুষ তো বটেই, শিক্ষিত সমাজের বড় একটি অংশ খাদ্যে ভেজাল সম্পর্কে অতটা সচেতন নয়। আমাদের দেশে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য প্রায় সব খাবারই ক্রয়সাধ্যের মধ্যে পাওয়া যায়। চাইনিজ ফুড, থাই ফুড, হায়দরাবাদি বিরিয়ানি- সবকিছুই এখন হাতের নাগালে। আর চাইলেই যে কোনো ধরনের ফাস্টফুড তো কিনতে পাওয়া যায় যত্রতত্র। বিভিন্ন ধরনের ফলেও আমাদের দেশের বাজার সমৃদ্ধ। কিন্তু সমস্যা একটাই। নিরাপদ খাদ্যের অভাব।

সরকার খাদ্যে ভেজাল রোধে বিভিন্ন সময় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় সরকার ২০০৯ সালে ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯’, ২০১৩ সালে ‘নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩’ প্রণয়ন করে। আইনগুলোতে বিভিন্ন অপরাধের ধরন অনুযায়ী শাস্তির বিধানও রয়েছে। ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯’ আইন অনুযায়ী কোনো ভোক্তার অধিকার লঙ্ঘিত হলে যদি তিনি অভিযোগ করেন এবং তা প্রমাণ হলে অভিযোগকারী মোট অর্থদণ্ডের ২৫ শতাংশ নিজে পাবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য, শিক্ষিত সমাজের সিংহভাগ মানুষই জানে না এসব আইনের বিস্তারিত। ফলে খাদ্যে ভেজাল বা ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘিত হলে প্রতিকার পান না। কনসার্স কনজ্যুমার সোসাইটির (সিসিএস) যুব সংগঠন কনজ্যুমার ইয়ুথ বাংলাদেশ (সিওআইবি) এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাজ করে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভোক্তা অধিকার আইন ও নিরাপদ খাদ্য আইনের ভিত্তিতে সভা-সেমিনার, কর্মশালা, র্যালি ও হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সচেতন করে চলেছে সংগঠনটি। এ ছাড়া হলের ডাইনিংয়ের খাবারের মান ও দাম এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সচেষ্ট ভূমিকা পালন করছে কনজ্যুমার ইয়ুথের সদস্যরা। মাত্র কিছুদিন আগে এই সংগঠনের সভাপতি পলাশ মাহমুদ বিএসটিআইর পণ্যের মান পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ পণ্যগুলো কেন বাজার থেকে প্রত্যাহার করা হবে না শীর্ষক একটি রিট করেন হাইকোর্টে। তারই ফলে সরকার বাজার থেকে সেই ৫২টি পণ্য প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নিয়েছে।

সম্প্রতি পাবনার ঈশ্বরদীতে একটি বেকারির পাউরুটি কিনে তাতে উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ এবং খুচরা মূল্য উল্লেখ না থাকায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী কনজ্যুমার ইয়ুথের সহায়তায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বরাবর অভিযোগ করে। পরে শুনানিতে বেকারির মালিক অভিযোগ স্বীকার করেন এবং পরে এমনটি না হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে নামমাত্র ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভোক্তা অধিকার আইন-২০০৯ মোতাবেক জরিমানার ২৫ শতাংশ ১ হাজার টাকা সেই শিক্ষার্থীকে প্রদান করা হয়। তারপর থেকে শুধু সেই কোম্পানি নয়, পাবনার অন্যান্য বেকারিগুলোও পাউরুটির প্যাকেটে উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ এবং খুচরা মূল্য উল্লেখ শুরু করে। এই সংগঠনের সদস্যরা কেবল নিজেরাই এ বিষয়ে ধারণা নিয়ে ক্ষান্ত থাকে না; বরং ক্যাম্পাস ছুটি হলে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের, এলাকার বন্ধুদের, স্থানীয় দোকানিদের সচেতন করে থাকে। ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘিত হলে দোকান থেকে পণ্য ক্রয়ের রসিদ সংগ্রহ করে প্রদত্ত হপপপ—ফহপৎঢ়.মড়া.নফ ইমেইলে অভিযোগকারীর নাম, ঠিকানা, অভিযোগের বিবরণ, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা ও পণ্য ক্রয়ের রসিদ সংযুক্ত করে যে কোনো বয়সের ভোক্তা অভিযোগ করতে পারেন। এ ছাড়া নিকটস্থ জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে গিয়েও অভিযোগ দায়ের করা যাবে। তবে অবশ্যই মনে রাখতে হবে ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগ দায়ের করা বাঞ্ছনীয়। আমাদের সবার সচেতনতাই পারে নিরাপদ খাদ্যের দেশ গড়তে।

লেখক : কেন্দ্রীয় সদস্য, কনজ্যুমার ইয়ুথ বাংলাদেশ (সিওআইবি)

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads