• সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ads
মার্কিন নির্বাচন ভাবনা ২০২০

প্রতীকী ছবি

মুক্তমত

মার্কিন নির্বাচন ভাবনা ২০২০

  • অলোক আচার্য
  • প্রকাশিত ০২ জুলাই ২০১৯

৪৬তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দামামা বেজে উঠেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। প্রথম মেয়াদে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’-স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় আসা বর্তমান ক্ষমতায় থাকা ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে যাত্রা শুরু করেছেন। আমেরিকা তার সময়ে কতটা গ্রেট হয়েছে তার বিচার করবে জনগণ। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিঞ্চালীয় অঙ্গরাজ্য ফ্লোরিডায় সমর্থকদের উল্লাস ধ্বনির মধ্যদিয়ে ২০২০ সালের নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেন। ফ্লোরিডা হলো, ২০১৬ সালের নির্বাচনের ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান প্রার্থীর অন্যতম প্রধান লড়াই ক্ষেত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়। অল্প ভোটে হিলারিকে হারিয়ে ডেমোক্র্যাটদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ অঙ্গরাজ্যটিতে জয় পান। ৪৫তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নির্বাচনে রাশিয়ার সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ ওঠে। ট্রাম্পের মার্কিন মসনদের ক্ষমতায় আসা যেন বেশ নাটকীয়। কারণ সেই সময় ট্রাম্পের বিরোধী দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন বেশ শক্ত অবস্থানে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত জরিপেও এগিয়ে থাকে হিলারি ক্লিনটন। তাই যখন নির্বাচনে ট্রাম্প বিজয়ী হয় তখন অভিযোগ ওঠে রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার। রাশিয়াও বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। এ নিয়ে জল ঘোলা কম হয়নি। বহুবার এ নিয়ে ট্রাম্প মুখোমুখি হয়েছেন সাংবাদিকদের। প্রতিবারই বেশ কৌশলে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

রাশিয়ার সঙ্গে প্রথম দিককার সেই সুসম্পর্কও এখন নেই। সেটা না থাকাটাই স্বাভাবিক। দুদেশের সম্পর্ক সেই আগে থেকেই খুব ভালো তা বলা যায় না। দুদেশই বিশ্বের শক্তিশালী পরাশক্তি। দুদেশেরই মিত্রপক্ষে শক্তিশালী দেশ রয়েছে। ফলে বিভিন্ন বিষয় নিয়েই মতভিন্নতা দেখা যায়। গণমাধ্যমের সঙ্গেও সম্পর্ক সুখের নয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের। সাংবাদিকদের সঙ্গে বারবার বিতর্কে জড়িয়েছেন। মার্কিন মুলুকের নির্বাচন নিয়ে এত সমালোচনা এর আগে সম্ভবত কোনো নির্বাচনে হয়নি। তারপর জলবায়ু ফান্ডে অর্থায়ন, অভিবাসী ইস্যু প্রভৃতি বিষয় নিয়ে একের পর এক সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি। নারী কেলেঙ্কারি নিয়েও গত বছরের পুরোটা সময় মিডিয়ায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম খবর প্রকাশিত হয়েছে। এমনকি যখন তিনি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন সেই সময় নিউইয়র্কের বাসিন্দা লেখিকা ও কলামিস্ট ই জেন ক্যারল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন। দুই দশক আগে একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেছেন। ট্রাম্প অবশ্য বিষয়টি বিরোধী শিবিরের কাজ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। এর আগেও এ ধরনের যৌন হয়রানির অভিযোগ এসেছে তার বিরুদ্ধে। তবে এটা সরাসরি ধর্ষণের অভিযোগ। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া বা দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বহুবার। বিশ্ব পরাশক্তির সঙ্গে কখনো সম্পর্কেও উন্নতি হয়েছে আবার পর মুহূর্তেই দেখা গেছে সমালোচনায় বিদ্ধ হচ্ছেন ট্রাম্প।

গত বছরের পুরোটা সময়জুড়েই চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ লেগে ছিল এ পরাশক্তির। শুল্ক এবং পাল্টা শুল্কারোপের ভেতর দিয়েই গেছে বছরের পুরোটা সময়ই। এতে যে কোনো পক্ষেরই মঙ্গল হয়নি তা নিয়ে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন। বরং বিশ্বের এই বড় দুই পরাশক্তির বাণিজ্যযুদ্ধে পরোক্ষভাবে বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা তৈরি করেছিল। এবারো কি ট্রাম্প রিপাবলিকানদের হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের সমর্থনে আবারো ক্ষমতায় বসতে পারবেন? সমালোচনা যে কখনই তার পিছু ছাড়েনি। গত মেয়াদে ক্ষমতায় আসার আগে তিনি অবৈধ অভিবাসী রুখতে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তার ধারাবাহিকতা রক্ষায় জোর দেন তিনি। জরিপ সংস্থা গ্যালাপ বলছে, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কখনই ট্রাম্পের সমর্থন ৪৬ শতাংশের ওপরে ওঠেনি। গত মাসে এ সমর্থন নেমে ৪০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অপর এক জরিপ প্রতিষ্ঠান রেটিংয়েও মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি জনসাধারণের আস্থা কখনই ৪৮ শতাংশের ওপরে ওঠেনি। ফক্স নিউজের জনমত জরিপ ২০২০-এর নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণা করা সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চেয়েও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ১০ পয়েন্ট কম দেখা গেছে। তবে জরিপ যে সবসময় কাজে আসে না তার সবচেয়ে বড় প্রমাণই বিগত মার্কিন নির্বাচন।

গত নির্বাচনেও ট্রাম্পের অবস্থান অনেক জরিপে নড়বড়েই ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সব জরিপকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ক্ষমতায় আসেন ট্রাম্প। অনেকের চোখ কপালে উঠে যায়। ক্ষমতায় এসে নিজের মতো করে আমেরিকাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমান বিশ্বের সম্পর্কোন্নয়নে ট্রাম্প কতটুকু সফল হয়েছে? এদিকে গতবার হিলারির পর এবারে রিপাবলিকানের বিপরীতে কে প্রার্থী হবেন তার ওপর নির্ভর করছে সামনের রাজনীতি। কারণ সে সময় হিলারি ক্লিনটন ছিলেন তুমুল জনপ্রিয়। এবার যে হিলারি প্রার্থী হবেন না তা তিনি জানিয়ে দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাট দলের সামনের সারির প্রার্থী হিসেবে চিহ্নিত বাইডেন প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থীদের মধ্যে বাইডেনই সবচেয়ে অভিজ্ঞ। সম্প্রতি জনমত জরিপেও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে আগ্রহী ২০ ডেমোক্র্যাটের মধ্যেও সবচেয়ে এগিয়ে আছেন তিনি। যদিও তিনি ১৯৮৮ ও ২০০৮ সালে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য লড়ে সাফল্যের দেখা পাননি। তবে সেসব হিসাব অতীত। একেবারে সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

ইরান মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করা নিয়ে পরিস্থিতি বেশি গরম হয়ে ওঠে। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এ ঘটনায় ইরানে পাল্টা আক্রমণের নির্দেশ দিয়েও শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে গেছেন। গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ১৫০ মানুষের প্রাণহানি হবে জেনে তিনি এ হামলা থেকে সরে আসেন। মার্কিন চালকবিহীন বিমান আরকিউ-৪এ ‘গ্লোবাল হক’ ভূপাতিত করার মধ্য দিয়ে আমেরিকার বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে গেছে বলে মার্কিন সামরিক বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন। কেবল আর্থিক ক্ষতির কারণেই নয় বরং এটি মার্কিন কর্মকর্তাদের অবাক করে দিয়েছে। কারণ এ ধরনের চালকবিহীন বিমানকে তৈরিই করা হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্রকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য। এ ঘটনার উত্তেজনা আকাশপথেও পৌঁছেছে। মার্কিন বিমান সংস্থাগুলোকে ইরানের জলসীমার ওপর দিয়ে তাদের আকাশসীমায় বিমান চলাচল না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চীনের সঙ্গে তার মেয়াদের একটি বড় সময় কেটেছে শুল্ক পাল্টা শুল্কারোপে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অর্থনীতি। বিপরীতে রাশিয়ার সঙ্গে মিত্রতা বেড়েছে চীনের। ভেনিজুয়েলা নিয়ে চীন-রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র গেছে বিপরীত অবস্থানে। মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ কেন্দ্র করে সে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ দিন শাট ডাউন পার করেছে। অবৈধ অভিবাসী ইস্যুটি এখনো আলোচিত বিষয়। এসব অমীমাংসিত বিষয় কবে সুরাহা হবে তা বলতে পারে না।

 

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads