• শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিকল্পিতভাবে বিভাগ খোলা হোক

সংগৃহীত ছবি

মুক্তমত

বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিকল্পিতভাবে বিভাগ খোলা হোক

  • প্রকাশিত ১৮ জুলাই ২০১৯

সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে মনুষ্যত্ব অর্জনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। শৃঙ্খলা এবং সভ্য জাতি গঠনেও শিক্ষা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। যার আছে উর্বর মস্তিষ্ক, ভালোমন্দ নিরীক্ষণের জন্য রয়েছে বিবেক, তিনিই শিক্ষিত ব্যক্তি। এই শিক্ষা অর্জনে শিক্ষক যেমনটি অন্যতম সহায়ক হিসেবে কাজ করেন, তেমনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও। কিন্তু দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ খ্যাতনামা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যখন নিজেই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের বাধাস্বরূপ হয় তখন জাতির জন্য আফসোসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অপরিকল্পিতভাবে একের পর এক বিভাগ চালু করছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে একটি থেকে দুটি, আবার কোথাও দুইয়ের অধিক বিভাগ খোলা হচ্ছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্লাস রুম না থাকায় নানান সমস্যায় জর্জরিত হতে হয় তাদের। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ায় ২০১৫-১৬ সেশন থেকে ৩টি নতুন বিভাগ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর কয়েক বছর ক্যাম্পাসের মিলনায়তনের বারান্দায় ক্লাস করতে হয় শিক্ষার্থীদের। নতুন বিভাগগুলোর দীর্ঘদিন যাবৎ ছিল না যথাযথ সেমিনার, লাইব্রেরি ও গবেষণাগার। এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে  ক্লাসরুমের তীব্র সংকট কারো অজানা নয়। এ কারণে ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত পাঠদান ও পরীক্ষা কার্যক্রম। যার ফলে সেশনজটের কবলে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। ঢাকা ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু বিভাগের এ জটিলতা বহু পুরাতন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘টেলিভিশন ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি’ বিভাগের যাত্রা ২০১২ সালে। এর দুই বছর পর খোলা হয় ‘কমিউনিকেশন ডিসঅর্ডারস’ বিভাগ। এর এক বছরের মাথায় খোলা হয়েছে ‘প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশনস স্টাডিজ’ বিভাগ। এ তিনটি বিভাগ খোলা হয়েছে মূলত সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে। এর আগে ‘গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা’ বিভাগের কোর্স হিসেবে পড়ানো হলেও চার বছরের মধ্যেই কোর্সগুলোকে চারটি বিভাগে রূপ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানগুলো এভাবে নতুন বিভাগের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে পারলেও পর্যাপ্ত শিক্ষকের মুখ দর্শন করাতে পারে না। রাজনৈতিক অরাজকতা কিংবা শাসন-সম্বন্ধীয় জটিলতার কারণে স্বল্পসংখ্যক শিক্ষক নিয়ে পড়ানো হয় পাঠ্যসূচির কোর্সগুলো। ফলে সময়মতো পরীক্ষার আয়োজন করতে ব্যর্থ হন শিক্ষকরা। এজন্যও সৃষ্টি হয় সেশনজটের মতো মারাত্মক ঘোরপ্যাঁচের। অনেক সময় এ ঘাটতি নিরসনে অন্যান্য বিভাগ থেকে খণ্ডকালীন শিক্ষক ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞতা না থাকায় এতে করে প্রকৃত গুণগত অধ্যয়ন থেকে ছাত্রছাত্রীরা বঞ্চিত হচ্ছে।

আবার সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমনও অনেক বিষয় খুলে বসছে প্রতিষ্ঠানগুলো। আধুনিক বিশ্ববাজারের চাহিদার সঙ্গে প্রাসঙ্গিকতা না থাকায় বিষয়গুলো চাকরির আবেদন তৈরি করতে পারছে না। কর্মবাজারমুখী ক্ষেত্র না থাকায় প্রত্যাশীরা ঝুঁকছেন সরকারি চাকরির ওপরে। যার কারণে দিন দিন বেসরকারি সেক্টরে অনাগ্রহ বাড়ছে। পাশাপাশি তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার বাড়ছে বলে মনে করছেন গবেষকরা। প্রত্যেক প্রশাসনের মোটিভ থাকে নিজ প্রতিষ্ঠানকে সময়োপযোগী করানো। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এমন অভিপ্রায় কতটুকুই সামনে রেখে এগোচ্ছে, তা সত্যিই প্রশ্নের বিষয়।

প্রত্যেকটি বিষয় তার নিজস্ব স্বকীয়তায় গুণান্বিত। এর প্রত্যেকটি মানুষের জ্ঞান বিকাশে বদ্ধপরিকর। তবে কোন বিষয়টি অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পথ সুঠাম করবে সেটি সমন্বয় করার দায়িত্ব প্রতিষ্ঠানের উঁচু পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবশ্যই নজরদারি করতে হবে কোন বিভাগটি অধ্যয়নে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে। এছাড়াও একটি বিভাগ খোলার আগে থাকতে হবে পূর্বপরিকল্পনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণক্ষমতা নিয়েও ভাবা জরুরি। ভাবতে হবে খোলার পরবর্তীকালে পর্যাপ্ত ক্লাসরুম, গবেষণাগার, সেমিনার, লাইব্রেরি ও যথাযথ সময়ে পরিমিত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার কথা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি শিক্ষার্থী নিকটবর্তী বাংলাদেশের প্রজ্বলিত তারা। এসব নক্ষত্র যাতে ভেঙে না পড়ে এর জন্য খুঁটি হয়ে ঠেস দিতে হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষমতাশীল ব্যক্তিদেরই।

সাজ্জাদ হোসেন

লেখক : শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads