• শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৫
ads
একটি ব্লাড ব্যাংকের অনন্য পদক্ষেপ

ফাইল ছবি

মুক্তমত

একটি ব্লাড ব্যাংকের অনন্য পদক্ষেপ

  • প্রকাশিত ২০ জুলাই ২০১৯

সৃষ্টির সেবায় স্রষ্টার সন্তুষ্টি’-এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে একঝাঁক মানবতাপ্রেমী মানুষের নিরলস প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে রক্ত দানকারী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘খিদমাহ ব্লাড ব্যাংক’। যাদের সুনাম অল্প দিনে ছড়িয়ে পড়েছে দিক-দিগন্তে। রক্তের অভাবে অকালে যেন কারো প্রাণ না ঝরে, সে চেষ্টাই করে যাচ্ছে খিদমাহ ব্লাড ব্যাংক এবং তার স্বেচ্ছাসেবীরা। এ ছাড়াও জনসচেতনতার লক্ষ্যে রক্ত দানে উদ্বুদ্ধকরণসহ বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পিং করছে সংগঠনটি।

রক্ত দান একটি মহৎ কাজ। আর এই মহৎ কাজ তথা আমাদের এক ব্যাগ রক্ত দান হাসি ফোটাতে পারে একটি পরিবারে। হয়তো আমাদের রক্তে বেঁচে যেতে পারে একটি জীবন কিংবা একটি পরিবারের একমাত্র উপার্জনের বাহক। তাই রক্ত দানকে তুচ্ছ মনে করা নেহাত বোকামি ছাড়া কিছুই না। অনেক সময় রক্তের অভাবে মানুষের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। যা খুবই হূদয়বিদারক।

এই হূদয়বিদারক ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্যই যাত্রা শুরু হয়েছে খিদমাহ ব্লাড ব্যাংকের। যার প্রধান কার্যালয় সিলেট জেলায়। বর্তমানে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ থেকে নিয়ে সর্ব মহলে পরিচিত একটি নাম ‘খিদমাহ ব্লাড ব্যাংক’।

এই খিদমাহর প্রতিষ্ঠা কবে কীভাবে শুরু হয়েছে জানতে চাওয়া হলে খিদমাহ ব্লাড ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, মারকাজুল হিদায়া সিলেটের স্বনামধন্য শিক্ষা সচিব, মানবসেবী প্রবীণ আলেম, সাহিত্যিক মাওলানা আবদুর  রহমান কফিল বলেন, ২০১৬ সালের জুন মাসে ফেসবুক মারফত জানতে পারলাম, চট্টগ্রামের বিশিষ্ট আলেম ও লেখক মাওলানা লিসানুল হক শাহরুমীর স্ত্রী রক্তের অভাবে ইন্তেকাল করেছেন। মাত্র ৫ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন ছিল তার। কিন্তু ১ ব্যাগ রক্তও সংগ্রহ করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। সময়মতো রক্ত সরবরাহ করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত তিনি চলে যান না ফেরার দেশে। ঘটনা শুনে আমি শিউরে উঠি। প্রচণ্ড ধাক্কা লাগে হূদয়ে। তখন থেকেই মূলত রক্ত ডোনেশন চিন্তা মাথায় আসে। অবশেষে ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে ‘খিদমাহ ব্লাড ব্যাংক’-এর যাত্রা শুরু হয়।

খিদমাহ ব্লাড ব্যাংকের কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে মাওলানা আবদুর রহমান কফিল জানান, এর প্রত্যেক সদস্যই কর্মজীবী। তার মধ্যে অধিকাংশ সদস্য মাদরাসা বা স্কুল-কলেজের ছাত্র। এদের প্রত্যেকেরই রক্তের গ্রুপ হিসেবে সদস্যদের তালিকা প্রতিষ্ঠানে রয়েছে। কে কবে রক্ত দিয়েছেন তারও লিস্ট আছে। খিদমাহ ব্লাড ব্যাংকের সব শাখায় দায়িত্বশীল ব্যক্তি নির্দিষ্ট করা আছে। দায়িত্বশীলদের কাছে রক্তের জন্য ফোন এলে তালিকা দেখে যাদের রক্তদানের সময় হয়েছে তাদের ফোন করা হয়। সময়-সুযোগমতো তাদের দায়িত্বশীলরা হাসপাতালে নিয়ে যান এবং খিদমাহটুকু করে আসেন।

খিদমাহ ব্লাড ব্যাংকের পরিধি খুব বেশি বড় না হলেও একদম ছোট নয়। সিলেটের প্রধান শাখা ছাড়াও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আরো ১১টি শাখা রয়েছে। আরো বেশ কয়েকটি শাখা প্রক্রিয়াধীন আছে। এখনো চাহিদা অনুযায়ী সেবা দিতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। এর সদস্যদের তুলনায় চাহিদা সব সময় অনেক বেশি থাকে। সব শাখা মিলে প্রতি মাসে গড়ে ৫৫-৬০ জনকে সেবা দেওয়া হয়। মূলত এখন রক্তদানের পাশাপাশি সচেতনতা তৈরির বিষয়টাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সবাই যদি সচেতন হই, তাহলে দেখা যাবে নিজেদের প্রয়োজনে নিজেদের কাছ থেকেই সংগ্রহ করতে পারছি। এ জন্য খিদমাহ ব্লাড ব্যাংক বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে ক্যাম্পিংয়ের আয়োজন করে থাকে। জানা যায়, খিদমাহ ব্লাড ব্যাংকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হচ্ছে দেশের প্রত্যেক জেলায় মানুষের কাছে সেবা পৌঁছানো। দেশের কোনো মানুষই যেন রক্তের অভাবে মারা না যায় তা নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে প্রতি বছর আনুমানিক মাত্র ১০ লাখ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়। দেশে মানুষ আছেন ১৮ কোটি। একজন মানুষ প্রতি বছর ৩ বার রক্ত দিতে পারেন। সে হিসাবে মাত্র ৪ থেকে ৫ লাখ মানুষও যদি স্বেচ্ছায় রক্তদানের জন্য তৈরি হয়, তাহলে রক্তের অভাব থাকার কথা নয়।

মুস্তাকিম আল মুনতাজ

লেখক : শিক্ষক

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads