• রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৫
ads
অরক্ষিত রেলক্রসিং এক মৃত্যুফাঁদ

সংগৃহীত ছবি

মুক্তমত

অরক্ষিত রেলক্রসিং এক মৃত্যুফাঁদ

  • প্রকাশিত ২২ জুলাই ২০১৯

সম্প্রতি সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার সলপ রেলস্টেশনের উত্তরে অরক্ষিত একটি রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় রাজন শেখ ও সুমাইয়া খাতুন নামে এক নবদম্পতিসহ ১১ জন বরযাত্রীর নির্মম মৃত্যু সারা দেশের মানুষকে ব্যথিত করেছে। সেই সঙ্গে আমাদের রেল ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত কয়েকটি জিজ্ঞাসা সামনে এনেছে। 

বাংলাদেশ রেলওয়ে এখন অব্যবস্থাপনায় পরিপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। রেলওয়ের চরম অব্যবস্থাপনা এবং অনিয়মের একটি ক্ষেত্র হলো, সারা দেশের অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলো। দেশের প্রায় প্রতিটি রেলক্রসিংয়ে গড়পড়তা প্রতি মাসেই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে।  

এতে প্রতিনিয়তই বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। রেলক্রসিং নামক মরণফাঁদে অকালে ঝরে যাচ্ছে তাজা প্রাণ। অবৈধ যে রেলক্রসিংগুলো রয়েছে তা নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের। উপরন্তু বৈধ রেলক্রসিংগুলোর প্রায় অর্ধেকের মতো গেটম্যান নেই। ফলে অরক্ষিত ক্রসিংয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটছে। বৈধ রেলক্রসিংগুলো সুরক্ষিত করার কোনো তাগিদ নেই যেন কারো।  

সারা দেশে সর্বমোট ৪ হাজার ৪৪৩ কিলোমিটার (২০০৩-২০০৪) রেলপথ রয়েছে। পূর্বাঞ্চলীয় ও পশ্চিমাঞ্চল জোনে মোট রেলস্টেশন রয়েছে ৪৫৮টি রেলস্টেশন ও জংশন। রেলওয়ের মোট ৩৪৭টি ট্রেনে প্রতিবছর যাত্রী পরিবহন করে প্রায় ৪২ লাখ জন; আর মালামাল বা পণ্য পরিবহন করে প্রায় ৩২ লাখ ৬ হাজার টন। এতে বছরে গড়পড়তা রেলেও আয় হয় ৪৪৫ কোটি ৬২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। রেলওয়ের ওই দুই জোনে কর্তৃপক্ষের হিসাব মতে, বৈধ রেলক্রসিং রয়েছে ১ হাজার ৬১০টি। 

আর অবৈধ রেলক্রসিংয়ের সংখ্যা ১ হাজার ৩০০টি। এই অবৈধ ক্রসিংগুলো পুরোপুরিই অরক্ষিত এবং মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বৈধ রেলক্রসিং যেগুলো রয়েছে সেগুলো দিয়ে পারাপার, রেললাইনের ওপর দিয়ে চলাচলসহ বিভিন্ন কারণে প্রতিবছর গড়ে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ হারাচ্ছেন। এ অবস্থায় রেল কর্তৃপক্ষের করণীয় হলো দেশে রেলপথে অধিক পরিমাণ রেলক্রসিং স্থাপন, রেলক্রসিগুলো রক্ষণাবেক্ষণ, অবৈধ রেলক্রসিং বন্ধ করে রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমিয়ে আনা। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষ যেন কুম্ভকর্ণের ঘুমে! অকালে এসব প্রাণহানির দায় কার? 

মৃত্যুফাঁদে পরিণত হওয়া অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। অবৈধ রেলক্রসিং বন্ধের ব্যাপারে রেল কর্তৃপক্ষ দাবি করছেন স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপের জন্য একের পর এক তৈরি হচ্ছে অবৈধ রেলক্রসিং। তারা তাদের সীমাবদ্ধতার কথা জানান দিচ্ছেন। অবৈধ ও অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ের ব্যাপারে আমাদের দেশের আইন কী বলছে তা আমরা জানি না। তবে এটুকু জানি, মানুষের স্বার্থেই তৈরি হয় দেশের আইন। দেশের মানুষের সময়ের দাবি হচ্ছে, রেলক্রসিংকে ঝুঁকিমুক্ত করে জানমালের সুরক্ষা করতে হবে। তাই রেল দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করতে সুরক্ষিত করতে হবে রেলক্রসিংগুলোকে। দেশে যেসব বৈধ রেলক্রসিং আছে সেগুলোতে গেটম্যান থাকা সুনিশ্চিত করতে হবে। যদি কোনো বৈধ রেলক্রসিংয়ে গেটম্যান না থাকে তবে সেসব রেলক্রসিংয়ে দ্রুত নিয়োগ প্রদান করে গেটম্যান নিযুক্ত করতে হবে। দেশে ১ হাজার ৩০০টি অবৈধ রেলক্রসিং বন্ধের ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে যদি কোনো কারণে সেগুলো বন্ধ করা সম্ভব না হয় তবে গেট নির্মাণ করত গেটম্যান নিয়োগের মাধ্যমে সেগুলো সুরক্ষিত করা বা বৈধ করার ব্যবস্থা অচিরেই করতে হবে। নতুবা রেলক্রসিংয়ে মৃত্যুর মিছিল রোধ করা কারো পক্ষেই সম্ভব হবে না।  

ইসমাইল মাহমুদ 

লেখক : গণমাধ্যমকর্মী  

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads