• শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৫
ads
ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড

সংগৃহীত ছবি

মুক্তমত

ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড

  • প্রকাশিত ০৭ আগস্ট ২০১৯

বর্তমান বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতি এককেন্দ্রিক থেকে বহুকেন্দ্রিকের দিকে ধাবিত হচ্ছে। আবির্ভাব ঘটছে নতুন পরাশক্তি দেশের। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চীন। চীনের বর্তমান বিভিন্ন প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ পরিকল্পনা, যা নিয়ে সারা বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০১৭ সালে চীন সরকার এই মহাপরিকল্পনা প্রকাশ করে। এ সংক্রান্ত সম্মেলনে ৩০টির অধিক রাষ্ট্রপ্রধান যোগ দিয়েছিলেন। তবে এ সম্মেলনে যোগ দেয়নি চীনের নিকটতম দেশ ভারত। চীনের এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আমূল পরিবর্তন ঘটবে বিশ্ব অর্থনীতিতে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এশিয়া মহাদেশে। এ পরিকল্পনার আওতায় এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে সড়ক, রেলপথ ও সমুদ্রপথ সংযুক্ত হবে। যার ফলে বিশ্ব বাণিজ্যের একটা বড় পরিবর্তন পরিলক্ষিত হবে। আর এর মধ্য দিয়ে বিশ্ব বাণিজ্যে চীনের একচেটিয়া কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে, এমনটা ভাবাই স্বাভাবিক।

এই মহাপরিকল্পনা কর্মসূচির আওতায় আসবে বিশ্বের ৬০ থেকে ৬৫টি দেশ। অর্থনীতির আওতায় আসবে তিন ভাগের একভাগ অর্থনীতি। বিশ্বের জনসংখ্যা অর্ধেকের বেশি বাস করে এই অঞ্চলে, একই সঙ্গে বিশ্বের জ্বালানির ৭৫% এ এলাকায় রয়েছে। চীনের ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ কর্মসূচির আওতায় মোট ৬টি অর্থনীতি করিডোর রয়েছে। যার মধ্যে একটি বিসিআইএম (বাংলাদেশ, ভারত, চীন, মিয়ানমার) উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক রোড। যা বাস্তবায়ন হলে উল্লিখিত দেশসহ এশিয়া মহাদেশে অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটবে এবং বিশ্বে এককেন্দ্রিক যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কর্তৃত্ব অনেকটা ভেঙে পড়বে। তবে এ কাজে ভারতের সম্মতি না থাকা এবং সম্মতি আদায় করা কষ্টকর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন। কিন্তু চীনের (ওবিওআর) এ কর্মসূচিতে ব্যাপক লাভবান হবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যক সম্পর্ক শক্তিশালী হলেও তা চীনের অনুকূলে। বাংলাদেশ যে পরিমাণ পণ্য চীনে রপ্তানি করে তার চেয়ে অনেক বেশি প্রায় ১৩ দশমিক ৮ গুণ পণ্য আমদানি করে। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছিল ৪৮.৫১ মিলিয়ন ডলারের পণ্য, আর আমদানি করেছিল ৫৯২.৬৪ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। ২০১৮ সালে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩৭ কোটি টাকা, বিপরীতে আমদানির পরিমাণ ছিল ২৯ হাজার ১৮৫ কোটি টাকার। সর্বশেষ ২০১৯ সালে মার্চ পর্যন্ত চীনে আমাদের রপ্তানির পরিমাণ ১ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা এবং আমদানি ছিল ৩০ হাজার ১৮৬ কোটির পণ্য। তবে আগের তুলনায় বাণিজ্যিক ঘাটতি হ্রাস পেয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন (ওবিওআর) বাস্তবায়ন হলে বাণিজ্যিক ঘাটতি অনেকটা কমে যাবে। ২০১৬ সালে চীনা প্রেসিডেন্টের সফরে ২৭টি চুক্তি সই হয়েছিল। বর্তমানে দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে এবং সবচেয়ে বড় প্রকল্প পদ্মা সেতুর কাজ করছে চীনা কোম্পানি। চীনের আর্থিক সহযোগিতায় বর্তমানে ১২টি প্রকল্পে কাজ করছে বাংলাদেশ। এসব প্রকল্পে চীনের আর্থিক সহায়তার পরিমাণ ১ হাজার ১১৫ কোটি ডলার। উপরন্তু বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য ব্যবহূত সরঞ্জামের ৭৫% উৎস হচ্ছে চীন।

অতিসম্প্রতি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সংক্রান্ত ৯টি চুক্তি সই হয়। চীন সরকার আশ্বস্ত করেছে যে, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তারা বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে এবং মিয়ানমার সরকারকে চাপ প্রয়োগ করবে। এটি খুবই ইতিবাচক দিক। এছাড়া অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ ইত্যাদি ক্ষেত্রে চীনের সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে। গত দশ বছরে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করেছে চীন। বর্তমানে চীন এশিয়ার সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক দেশ এবং বিশ্বের দ্বিতীয়। গবেষকরা বলছেন, আগামী দশ বছরের মধ্যে চীন বিশ্বের এক নম্বর অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে। সুতরাং বাংলাদেশের ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছার জন্য চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার বিকল্প কোনো পথ নেই।

মো. রাশেদ আহমেদ

লেখক : শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads