• মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬
ads
ফিলিস্তিনিদের এক নতুন স্বপ্ন

সংগৃহীত ছবি

মুক্তমত

স্যালভেশন অব দ্য সেঞ্চুরি

ফিলিস্তিনিদের এক নতুন স্বপ্ন

  • প্রকাশিত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

শত বছর ধরে ফিলিস্তিন ও ফিলিস্তিনিদের ওপর চলে আসা নিষ্ঠুর অত্যাচার-নিপীড়নের অবসানকল্পে একটি নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলো। দীর্ঘদিনের বাধার প্রাচীর অতিক্রম করে অনেকটা নাটকীয় ভঙ্গিতে কোনো এক, একক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে একটি যৌথ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দোরগোড়ায় উপনীত হলো দেশগুলো। যে পরিকল্পনা আলোচ্য ‘স্যালভেশন অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামে পরিচিত। এ পরিকল্পনা হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তথাকথিত ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামে ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব বিলীনকারী ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনার একটি পাল্টা পরিকল্পনা। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে শত বছরের প্রাচীন অশান্তি-অস্থিরতা, অন্যায়-অবিচারের অবসান ঘটিয়ে সব মানুষের নায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। দেশগুলোর এই বৃহৎ সিদ্ধান্তের প্রতি গোপন সমর্থন রয়েছে আরব লীগ, জিসিসি (গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল) ও ওআইসির মতো তিনটি মহাসম্মেলনের। গত ৩০ মে জেদ্দায় এ তিনটি শীর্ষ সম্মেলনের নেতারা মিলিত হন। সেখানে তারা তাদের দেশগুলোর ভবিষ্যৎ এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে শতবর্ষব্যাপী দুর্ভোগের বিষয় ও বর্তমান মানুষের অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করে। আর এ আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতেই মূলত ‘স্যালভেশন অব দ্য সেঞ্চুরি’ পরিকল্পনা সূচিত হয়।

এ পরিকল্পনাকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকে প্রকাশ করা হলেও, রাজনৈতিক পরিকল্পনাটি গোপন রেখেছে দেশগুলো। অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের তহবিলগুলোর অর্থসংক্রান্ত আলোচনায় উল্লেখ করা হয়, ইসরাইলের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে এই বৃহৎ অর্থ আসবে। কেননা ফিলিস্তিনিদের ওপর শোষণ, তাদের ব্যবসায়ের সম্পদ, অবকাঠামো ও ভূমি ৭০ বছর ধরে ব্যবহার করে আসছে ইসরাইল। ফিলিস্তিনে এমন দখলদারিতার ফলস্বরূপ এই অর্থ সরবরাহ করতে হবে ইসরাইলকে। তবে ইসরাইলের কাছ থেকে যত দিন এ তহবিল না পাওয়া যাবে, আরব দেশগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছে তত দিন ইসরাইলের অস্ত্র কেনার বাজেট থেকে একটি অংশ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে খরচ করবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনসহ মরক্কোর বাদশাহ ষষ্ঠ মোহাম্মদও এ পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামক তথাকথিত এই পরিকল্পনা অনুযায়ী ফিলিস্তিনকে এর ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে পূর্ব জেরুজালেমের দাবি পরিত্যাগ করতে হতো। ইসরাইল জেরুজালেমের পূর্ব ও উত্তরের কয়েকটি গ্রাম থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেবে, কিন্তু পুরনো জেরুজালেমের ওপর পুরো নিয়ন্ত্রণ করবে। ফিলিস্তিনি এলাকায় গড়ে তোলা অবৈধ ইসরাইলি বসতিগুলো যথাস্থানেই থাকবে। এমনকি জর্ডান উপত্যকাও থাকবে ইসরাইলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। ফিলিস্তিনিরা আন্তর্জাতিক আইনানুসারে তাদের স্বদেশে ফেরার দাবি পরিত্যাগ করবে, এর অর্থ এই- ফিলিস্তিনিদের যাবতীয় অধিকারকে অস্বীকার করার এক নব্য পরিকল্পনা ছিল এটি। কিছু অর্থনৈতিক সহায়তার লোভ দেখিয়ে ফিলিস্তিনকে ধ্বংস করার এক নতুন  মহাপরিকল্পনা ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’, যা ফিলিস্তিনিদের জন্য এক দুঃস্বপ্নের নাম।

ফিলিস্তিনের ওপর এমন অবিচারের পক্ষান্তরে ‘স্যালভেশন অব দ্য সেঞ্চুরি’ গঠনে একমত হলো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। এরূপ বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে মহাচক্রান্তে পড়তে পারত ফিলিস্তিন। ‘স্যালভেশন অব দ্য সেঞ্চুরি’ পরিকল্পনার নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব ইহুদি তিন মাসের মধ্যে ফিলিস্তিন ছেড়ে চলে যাবে তাদের যুদ্ধাপরাধের জন্য জাতিসংঘ ও আইসিসি সাধারণ ক্ষমা অনুসমর্থন করবে। যারা সেখানে থেকে যাবে তাদের মামলাগুলো আইসিসিতে উপস্থাপিত হবে। অন্যদিকে মরক্কোর বাদশাহ মোহাম্মদ এই পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, তার দেশ থেকে যেসব ইহুদি ফিলিস্তিনে আছে, তারা দেশে ফিরে এলে তাদের আগামী পাঁচ বছরের কর মওকুফ করা হবে। অন্যদিকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় ফিলিস্তিনের অন্তর্গত ধ্বংসপ্রাপ্ত সব গ্রাম পুনর্গঠনের কাজ শুরু করবে ফিলিস্তিনি প্রকৌশলী ও শ্রমিকরা। যেসব ফিলিস্তিনি অন্য দেশে আশ্রয় নিয়েছে, তারা দেশে ফেরার অধিকার রাখবে এবং নাগরিক সুবিধা ভোগ করবে। এ পরিকল্পনার বৃহৎ উদ্দেশ্য এই, পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায় একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নিশ্চিত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট ও যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তি আনয়ন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’র মতে, ফিলিস্তিন কোনো স্বীকৃত রাষ্ট্র না, তার কোনো সার্বভৌমত্ব নেই বরং দেশটি স্বায়ত্তশাসিত। ফিলিস্তিন ও ফিলিস্তিনিদের ওপর এমন নির্মম সিদ্ধান্তের বিপক্ষে আরব দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ শান্তি পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, এটা বলা যায়। ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষা ও ফিলিস্তিনি এলাকায় শান্তি স্থাপনে ওই পরিকল্পনাকে সাদরে গ্রহণ করবে ফিলিস্তিনিরা। ‘দ্য স্যালভেশন অব দ্য সেঞ্চুরি’ পরিকল্পনাটি একদিকে যেমন নিশ্চিত করবে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা, অন্যদিকে তেমনি নিশ্চিত করবে ফিলিস্তিনসহ আরব বিশ্বে ইহুদিদের মর্যাদার সঙ্গে অধিকার ও বসবাসের সুযোগ। তাই আরব দেশগুলোর এমন যুগান্তকারী পদক্ষেপের ফলে স্বাধীনতা ও অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখতেই পারে ফিলিস্তিনিরা।

আল মাহমুদ

লেখক : শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ, সাতক্ষীরা

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads