• শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ads
বিশ্ববিদ্যালয়ে আদর্শিক ছাত্ররাজনীতি থাকতে হবে

ছবি : বাংলাদেশের খবর

মুক্তমত

আপন ভুবনে নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ

বিশ্ববিদ্যালয়ে আদর্শিক ছাত্ররাজনীতি থাকতে হবে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৮ অক্টোবর ২০১৯

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আদর্শিক ছাত্ররাজনীতি চলতে দিতে হবে বলে মনে করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। তিনি বলেছেন, ছাত্ররাজনীতি হতে হবে আদর্শিক, লেজুড়বৃত্তির নয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিরাজনীতিকীকরণ করা যাবে না।

গতকাল বৃহস্পতিবার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বাংলাদেশের খবরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসে এসব কথা বলেন। আসেন আপন ভুবনে অতিথি হিসেবে। ‘সুবর্ণ রেখায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই বিশেষ আয়োজনে একক অতিথি হিসেবে এসেছিলেন তিনি। বর্তমানে তিনি জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে যোগ দেওয়ার আগে এই শিক্ষাবিদ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের আওতায় পরিচালিত বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস-বিইউপিতে উপ-উপাচার্য ছিলেন।

শুরুতে অতিথিকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশের খবরের সম্পাদকীয় নীতির বিষয়ে অবহিত করেন সম্পাদক আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া। এ সময় উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিনসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিরাজনীতিকীকরণ করা হলে জঙ্গিরা সুযোগ নেবে। জঙ্গিবাদের দখলে চলে যাবে ক্যাম্পাসগুলো। তাই ছাত্ররাজনীতি থাকতে হবে। এটি বন্ধের চেষ্টা করা ঠিক হচ্ছে না। তবে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অপরাজনীতি বন্ধ করতে হবে। ভাগবণ্টন বন্ধ করতে হবে। ভাগবণ্টন গ্রহণযোগ্য নয়।

এ সময় নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা তুলে ধরে ড. কলিমউল্লাহ বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে যোগ দিয়ে ক্যাম্পাসে ভাগবাঁটোয়ারা বন্ধ করেছি। প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের নামে চলমান উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন কমিশন চেয়েছিল। বিষয়টি জানতে পেরে আমি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ডেকে সাধারণ ডায়েরি করেছিলাম।  

শিক্ষকরাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে এই উপাচার্য বলেন, শিক্ষকদের মধ্যে মতবিরোধ থাকতে পারে। আদর্শগত পার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু দলীয় রাজনীতির বাইরে তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে রাজনীতি করা উচিত।  

আপন ভুবনের এই অতিথি বলেন, এবারের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক ও দেশীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি তিনটি বিষয়ে জিরো টলারেন্সের কথা বলেছিলেন। সেগুলো হলো, দুর্নীতি, মাদক ও জঙ্গিবাদ। প্রধানমন্ত্রীর এই চিন্তা আমাদের সবার মধ্যে নিয়ে যেতে হবে।

প্রায় চার দশক শিক্ষকতার সঙ্গে জড়িত নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, আমাকে বিইউপি থেকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে তিনজন উপাচার্য দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টি নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিল। এজন্যই হয়তো আমাকে একটি শৃঙ্খল জায়গা থেকে সেখানে পাঠানো হয়। আমি গিয়ে দেখি প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রমে রুগ্ণ দশা। আমি আস্তে আস্তে কাজ শুরু করি। প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২২ ঘণ্টা কাজ করছি। আমার অফিসের কর্মকর্তারাও আমার সঙ্গে কাজ করেছেন।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ ছিল। আগের উপাচার্য কার্যত অবরুদ্ধ ছিলেন। ফলে সেশনজট তৈরি হয়। কথিত আছে, ৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে নিয়োগ প্রক্রিয়ায়। সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন হয়েছে শিক্ষক নিয়োগে। কিন্তু এখন আমরা নিয়োগে প্রক্রিয়া স্বচ্ছতা এনেছি। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতেই উল্লেখ করা হচ্ছে, কোনো ধরনের মৌখিক ও লিখিত তদবির অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়া চলাকালীন ব্যক্তিগতভাবে আমি টেলিফোনও ধরি না, যাতে কোনো বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে না হয়। একইসঙ্গে অর্থ লেনদেনের তথ্য এলে নিয়োগ বাতিল করার কথা বলা হচ্ছে। শিক্ষক সংকট থাকলেও নতুন করে যাতে সেশনজট তৈরি না হয়, সেটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নেতিবাচক পরিচিতি রয়েছে বলে অকপটে স্বীকার করেন উপাচার্য। তবে তিনি বলেন, এটি অনেক সময় অসৎ ও মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে হয়েছে। বলা হয়, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করি না। কিন্তু এটি ঠিক নয়। আমি নিয়মিতভাবেই অবস্থান করি এবং কোনো ফাইল আমার টেবিলে পড়ে থাকে না। তবে আমি বিশ্ববিদ্যালয়টির পরিচিতি বাড়াতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কথা বলি। তাছাড়া ঢাকায় আমাদের লিয়াজোঁ অফিসে বিভিন্ন সময় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলে। তাই আমি কাজ শেষ করে ঢাকায় ফিরে আসি। এবং পরের দিন আবার সকালে রংপুরে যাই। তবে কাজ থাকলে আমি রংপুরেই থেকে যাই।

ব্যক্তিগতভাবে তার বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমে আসা অভিযোগ খণ্ডন করে তিনি আরো বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনের বাইরে ঢাকায় আসা-যাওয়া করি নিজের টাকায়। এমনকি অন্য খরচও আমি নিজের পকেটের টাকাতেই করে থাকি। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারী সবার চেষ্টায় এখন অনেকটা শৃঙ্খলা ফিরেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের থেকে জোরালো করা হয়েছে। পুরো ক্যাম্পাসে ওয়াইফাই চালু করা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে ক্যাম্পাস রেডিও চলছে। আগামী বছর ক্যাম্পাস টেলিভিশন চালুর চিন্তা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবহন চালু করা হয়েছে। শিক্ষক সংকট সমস্যার সমাধান করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads