• মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৭ কার্তিক ১৪২৬
ads
সাকিবের প্রত্যাবর্তনের প্রতীক্ষায়

ফাইল ছবি

মুক্তমত

সাকিবের প্রত্যাবর্তনের প্রতীক্ষায়

  • মহিউদ্দিন খান মোহন
  • প্রকাশিত ০২ নভেম্বর ২০১৯

আমি ক্রিকেটবোদ্ধা নই। ক্রিকেট আমার বিষয়ও নয়। নিতান্তই একজন সাধারণ ক্রিকেট দর্শক এবং সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশের সমর্থক, গোড়া সমর্থকও বলা যায়। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাফল্যে যেমন উচ্ছ্বসিত হই, তেমনি অসাফল্যে বেদনার্ত হই। তবে আশাহত হই না। কেননা একটি বিশ্বাস আমি হূদয়ে লালন করি, যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জনকারী দেশের ছেলেরা অত সহজে হার মানার নয়। সাফল্যের শিখরে একদিন তারা উঠবেই।

আমার লেখালেখির প্রধান বিষয় রাজনীতি। তারপরও গত শনিবার এই কলামে ক্রিকেট প্রসঙ্গে লিখেছিলাম। সেটা ছিল আমাদের ক্রিকেটযোদ্ধাদের দাবি-দাওয়া ও আন্দোলনকে ঘিরে সৃষ্টি হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে। এত তাড়াতাড়ি আবার ক্রিকেট নিয়ে লিখতে হবে আমার ধারণায় ছিল না। ভাবিওনি হঠাৎ করে এমন একটা দুঃসংবাদ বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতোই আমাদেরকে আহত করবে। একটি গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ভারতে যাবার প্রস্তুতি যখন একেবারে শেষ পর্যায়ে তখনই এলো সে ভয়াবহ দুঃসংবাদটি। আইসিসি আমাদের সাকিবকে এক বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করেছে। এটা যে বাংলাদেশের মানুষের জন্য কত কড় আঘাত তা বলে বোঝানোর দরকার পড়ে না। এ খবরে দেশের প্রতিটি মানুষ বেদনায় মুষড়ে পড়েছেন, প্রশ্ন তুলেছেন আইসিসির এ সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে।

সাকিব আল হাসান, স্বনামেই যিনি বিশ্বজোড়া পরিচিতি অর্জন করেছেন। তার ভক্ত বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও বাংলাদেশের পরিচিতি সাকিব আল হাসানের দেশ হিসেবে। ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে নিজের দক্ষতা ও ক্রীড়া কৌশলের মাধ্যমে হয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব ক্রিকেটের মর্যাবান ওই আসনটিতে বসে আছেন সাকিব আল হাসান। তার এ অর্জন ক্রিকেটবিশ্বের কোনো কোনো শক্তিকে যে ঈর্ষান্বিত করেনি তা কি হলফ করে বলা যাবে? তাহলে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সাকিব আল হাসান কি কোনো আন্তর্জাতিক চক্রান্তের শিকার? এটা কি বাংলাদেশের ক্রিকেট অগ্রযাত্রাকে মাঝপথে থামিয়ে দেওয়ার কোনো কূটকৌশলের অংশ? বিষয়টি নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।

বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে তিনবার ভারতীয় নাগরিক দীপক আগরওয়াল সাকিবের সঙ্গে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য যোগাযোগ করেছিলেন। ওই ভারতীয় নাগরিক একজন ক্রিকেট জুয়াড়ি। কিন্তু সাকিব সে প্রস্তাবে সাড়া দেননি। তিনি আগরওয়ালের ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী ওই ঘটনা তিনি সংস্থাটির দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠান অ্যান্টিকরাপশন ইউনিটকে (এসিইউ) জানাননি। এই না জানানোটাই হলো সাকিবের একমাত্র অপরাধ (?)। সাকিবকে নিষিদ্ধ করার পর আইসিসি যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে তাতে বলা হয়েছে, আইসিসির দুর্নীতি দমন আইনের ২.৪.৪ ধারার অধীনে সাকিবের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ তোলা হয়। প্রথমত. ২০১৮ সালে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার ত্রিদেশীয় সিরিজ ও ২০১৮ সালের আইপিএলের সময় জুয়াড়িদের কাছ থেকে পাওয়া প্রস্তাবের কথা এসিইউকে জানাননি সাকিব। দ্বিতীয়ত. একই বছরের ত্রিদেশীয় সিরিজেই তার সঙ্গে জুয়াড়ি দ্বিতীয় দফা যোগাযোগ করলেও তা এসিইউকে জানাতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। তৃতীয়ত. ওই বছরের ২৬ এপ্রিল আইপিএল-এ সানরাইজেস হায়দরাবাদ ও কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের একটি ম্যাচের আগে সাকিবকে ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তিনি সেটাও গোপনে রেখেছিলেন। এ ঘটনা জানতে পেরে এসিইউ চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি ও ২৭ আগস্ট সাকিব আল হাসানের সাক্ষাৎকার নিয়েছিল। তারা সন্দেহ করেছিল, ক্রিকেট জুয়াড়ি দীপক আগরওয়ালের সঙ্গে ম্যাচ ফিক্সিংয়ে হয়তো সাকিব জড়িত ছিলেন। তবে সাকিব তাদের জানিয়েছিলেন প্রস্তাব এলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি। আইসিসির নিয়ম হলো, কোনো খেলোয়াড়ের কাছে এ ধরনের জুয়ার প্রস্তাব এলে তা এসিইউকে জানানো বাধ্যতামূলক। এ ক্ষেত্রে সাকিব আল হাসান যে নিয়মের লঙ্ঘন করেছেন তা অস্বীকার করা যাবে না। খবরে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে খেলার সময় তার ফোন নম্বর কেউ দীপক আগরওয়ালকে দিয়েছিল। তারপরই আগরওয়াল বারবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা চালিয়েছে। এসিইউ’র জিজ্ঞাসাবাদে সাকিব সবকিছু স্বীকার করেছেন এবং আইসিসির আইনানুযায়ী যে কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নিতে রাজি হয়েছেন। খবরে বলা হয়েছে, সাকিবের যে অপরাধ তাতে দুই বছরের জন্য তাকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু সাকিব আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং এ বিষয়ে এসিইউকে পূর্ণ সহযোগিতা দেওয়ায় তার সাজার মেয়াদ এক বছর স্থগিত রাখা হয়েছে। এই এক বছর সাকিব আইসিসির পর্যবেক্ষণে থাকবেন। তবে ক্রিকেটে ফিরে আসতে পারবেন ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবরই।

আইসিসির শাস্তি ঘোষণার পর গত ২৯ অক্টোবর রাতে মিডিয়ার মুখোমুখি হয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। সংবাদ ব্রিফিংয়ে টলমলে চোখ নিয়ে সাকিব বলেছেন, ‘যেভাবে আপনারা আমাকে সব সময় সহযোগিতা করে এসেছেন, বাংলাদেশের সব ক্রিকেট ভক্ত, সব মানুষ, বিসিবি, সরকার থেকে শুরু করে গণমাধ্যম যেভাবে সবাই আমাকে সমর্থন করে এসেছেন, আমার ভালো এবং খারাপ সময়ে, আশা করি সেই সমর্থন থাকবে। এই সমর্থন যদি থাকে, তবে আমি ইনশা আল্লাহ্ খুব শিগগিরই আবার ক্রিকেটে ফিরতে পারব।’ অপরদিকে বিসিবি সভাপতি বলেছেন, এ ঘটনায় তারা স্তম্ভিত, হতবাক। সাকিবের মতো খেলোয়াড়কে হারানো বাংলাদেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। কারণ তার বিকল্প এ মুহূর্তে কেউ নেই। বিসিবি সভাপতি আরো বলেছেন, এ ঘটনা সম্পর্কে তারা কিছুই জানতেন না। তবে তার এ বক্তব্য নিয়ে কথা উঠেছে। ক্রিকেটারদের আন্দোলনের সময় তিনি ক্রুদ্ধকণ্ঠে বলেছিলেন, ‘ক্রিকেট নিয়ে সামনে আরো চমকপ্রদ খবর আসছে।’ সেই চমকপ্রদ খবর সাকিব নিষিদ্ধ হওয়া কি না এ প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। গত বুধবার এ বিষয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন বিসিবির সাবেক সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী। এক টুইটার মন্তব্যে তিনি বিসিবি সভাপতি পাপনের ভূমিকাকে ভণ্ডামি বলে অভিহিত করেছেন। বলেছেন, পাপন সবই জানতেন। ২২ অক্টোবরে সংবাদ সম্মেলনে তার মন্তব্য থেকেই তা বোঝা যায়

প্রশ্ন আছে আরো। বাংলাদেশ এখন বিশ্বক্রিকেটের পারাশক্তিগুলোর জন্য মাথাব্যথার কারণ। তাদের কেউ কেউ ভীতও। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা যেভাবে বিশ্ব ক্রিকেটের মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, তাতে দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতের মোড়ল হিসেবে পরিচিত শক্তি হয়তো প্রমাদগুনে থাকতে পারে। তা ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের খেতাবটি কবজা করে রেখে সাকিব আল হাসান যে কোনো মোড়লের চক্ষুশূলে পরিণত হননি তা বলা যাবে না। অনেকের সন্দেহ বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনে বাংলাদেশের সাবলীল পথচলা ব্যাহত করতে এবং একজন তারকা ক্রিকেটারের খেলোয়াড় জীবনকে পঙ্গু করে দিতে এ ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। যারা এ সন্দেহ করছেন, তাদের যুক্তি হলো আইসিসিতে হর্তাকর্তা আমাদের নিকট প্রতিবেশী দেশটি। আর সাকিবের কাছে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাবদানকারীও সে দেশেরই নাগরিক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কোনো মহল তাদের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য দীপক আগরওয়ালকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করেছে কি না সেটাও ভেবে দেখতে হবে। গত ২৯ অক্টোবর রাতে একাত্তর টিভির টক শো একাত্তর জার্নালে ক্রীড়া সাংবাদিক দেব চৌধুরীও এ কথাই বলছিলেন। আরেকটি বিষয় আমলে নেওয়া দরকার। আগরওয়ালের প্রস্তাবের কথা সাকিব এসিইউকে জানায়নি। তাহলে কে জানাল তাদের এ খবর? তাহলে কি টোপ আগরওয়ালই এসিইউকে সব তথ্য জানিয়ে দিয়েছে? খুঁজে বের করা দরকার সে ব্যক্তিটিকে, যে ২০১৭ সালের নভেম্বরে আগরওয়ালকে সাকিবের ফোন নম্বর দিয়েছিল। কেন সে আগরওয়ালকে সাকিবের ফোন নম্বর দিয়েছিল তা তদন্ত করে বের করা দরকার।

আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সাকিব নিজেই বলেছেন তিনি আইসিসির শাস্তি মাথা পেতে নিয়েছেন। আইসিসির এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সাকিব আপিলও করতে পারবেন না। সঙ্গত কারণেই তিনি বিষয়টি নিয়ে নাড়াচাড়া করবেন না। কেননা তাহলে ক্রিকেট মোড়লরা তাকে আরো বড় ধরনের কোনো ঝামেলায় ফেলতে পারে। তবে দেশবাসী এ সিদ্ধান্তকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। তারা এটাকে বিনা দোষে সাজা দেওয়ার সঙ্গেই তুলনা করছেন। তাদের কথা হলো, সাকিব ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাবের কথা গোপন করেছেন; কিন্তু তিনি তো ফিক্সিং করেননি। তথ্য গোপন করে তিনি যে ভুল করেছেন সেজন্য তাকে তিরস্কার বা ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে দেওয়া যেত। তা না করে দুই বছর আগের ‘দুর্নীতি হতে পারত’ এমন যুক্তিকে পুঁজি করে একজন বিশ্বসেরা খেলোয়াড়ের ওপর নিষ্ঠুরভাবে খড়্গ চালনো মেনে নেওয়ার মতো নয়। তা ছাড়া যে মুহূর্তে বাংলাদেশ টিমের অধিনায়ক হিসেবে ভারতে গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ খেলতে যাবার কথা, ঠিক তখনই তাকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণার মধ্যে অনেকেই অন্য কিছুর গন্ধ পাচ্ছেন।

সাকিবের এ শাস্তি যে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য একটি বড় ধরনের আঘাত তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ নিয়ে কথা বলেছেন সাবেক ক্রিকেটাররাও। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক এ এস এম রকিবুল হাসান তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘সাকিব আল হাসানের নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য বড় ধাক্কা। পুরো ব্যাপারটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও খুবই দুঃখজনক। সাকিবের অনুপস্থিতির প্রভাব পড়বে দলের ওপর। আমরা সাকিবের পাশেই থাকব।’  আরেক সাবেক অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু বলেছেন, ‘সাকিবের নিষেধাজ্ঞা বড় রকমের দুঃসংবাদ। লঘু পাপে তাকে বড় শাস্তি দেওয়া হয়েছে।  লম্বা সময় সে মাঠের বাইরে থাকবে। এটা দলের ওপর বিশাল প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ক্রিকেটের বাইরে থাকলেও সাকিব নিজেকে নতুন করে তৈরি করে নিতে পারবে। শক্তভাবেই সে ক্রিকেটে ফিরবে।’ (আমাদের সময়, ৩০ অক্টোবর, ২০১৯)। বিষয়টি আলোড়ন তুলেছে ফেসবুকেও। সাকিবভক্তরা তাদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন সেখানে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। ২৯ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে বিসিবির তেমন কিছুই করার নেই। তবে আমরা সাকিবের পাশে থাকব। গোটা দেশ সাকিবের পাশে থাকবে।

এটা ঠিক, এ কৃতীসন্তানের পাশে থাকবে গোটা বাংলাদেশ। কিন্তু আইসিসির শাস্তি তার জীবন থেকে যে মূল্যবান একটি বছর কেড়ে নিল, তা কি তিনি ফেরত পাবেন? তবে আমরা আশাবাদী। অনাকাঙ্ক্ষিত এ ধাক্কা সামলে উঠে সাকিব আবার ক্রিকেট মাঠে ফিরে আসবেন তার দোর্দণ্ড প্রতাপ নিয়েই। আবার ব্যাটে-বলে ঝড় তুলবেন, সৃষ্টি করবেন নতুন কোনো রেকর্ড। আমরা তার সে বীরদর্পে প্রত্যাবর্তনের প্রতীক্ষায়  থাকলাম।

লেখক : সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads