• রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২০, ২২ চৈত্র ১৪২৬
ads
গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা সফল হোক

ফাইল ছবি

মুক্তমত

গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা সফল হোক

  • প্রকাশিত ১৫ মার্চ ২০২০

কয়েকবার পটপরিবর্তনের পর অবশেষে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে চলমান অস্থিরতার অবসান হতে যাচ্ছে। সমন্বিত কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে বেছে নেওয়া হয়েছে গুচ্ছ ভিত্তিতে ভর্তি পরীক্ষা, যা গত বছর সাত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সফলতার সঙ্গে কার্যকর হয়েছে বলা যায়। ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে প্রথমে গুচ্ছ ভিত্তিতেই ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইউজিসি। কিন্তু সেখান থেকে সরে গিয়ে হঠাৎ করে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ইউজিসি। যেখানে মানবিক, বিজ্ঞান ও বাণিজ্যে আলাদা তিনটি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর কথা ছিল। এতে পক্ষে-বিপক্ষে দ্বিমত দেখা দেয় বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক ও সচেতন মহলে। সরে যায় পাঁচটি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

উচ্চমাধ্যমিকের পর ভর্তি পরীক্ষার ধাপটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যমান ভর্তি পরীক্ষাপদ্ধতি যে শিক্ষার্থীবান্ধব নয়, এটা সবার কাছেই বোধগম্য। এইচএসসি পরীক্ষার পর একজন শিক্ষার্থীকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার নামে প্রকারান্তরে একটা যুদ্ধে নামতে হয়। যাতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের একটি আসন নিশ্চিত করা যায়। এ সময়টি জীবনের টার্নিং পয়েন্ট বিবেচনায় অভিভাবকরাও সন্তানের আলোকিত আগামীর কথা চিন্তা করে নিরলস সংগ্রাম করে যান। সারা দেশের শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটে যান নিজের স্বপ্নপূরণের জন্য। আর এ ছুটে চলার দীর্ঘ পথ খুবই বন্ধুর এবং কণ্টকাকীর্ণ।

এ দেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে যে তীব্র প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হতে হয়, তা বিশ্বের অন্য কোনো দেশে হয় কি না, জানা নেই। ভোরের কাগজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শিক্ষাবর্ষে ৬৪ হাজার আসনের বিপরীতে প্রায় ১৩ লাখ শিক্ষার্থী ভর্তিযুদ্ধে লড়েছিল। এত বিপুলসংখ্যক ভর্তি-ইচ্ছুকদের  ভেতর নিজের আসনটি নিশ্চিত করতে তাদের দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটতে হয়।  প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে তারা অনেকেই পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে না। তাই নিজেকে নিরাপদ রাখতে একজন ভর্তিচ্ছু বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত অনধিক ১৫-২০টি ফরম তোলে। এসব ফরমের গড় মূল্য ৭০০-৮০০ টাকা হলে ফরম বাবদই তাদের খরচ হয় প্রায় ১৪ থেকে ১৬ হাজার টাকা। এর সঙ্গে রয়েছে যাতায়াত খরচ। দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে থাকা কমপক্ষে ১০-১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি ফরম তুলতে হয়, তবে থাকা-খাওয়াসহ যাতায়াত খরচও আছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। মেয়েদের ক্ষেত্রে অভিভাবক নিয়ে ছোটাছুটির ব্যাপারটা আরো কঠিন। সাধারণত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে থাকে। ফলে একজন শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষে এত খরচ বহন করা প্রায় অসম্ভব। এ ছাড়াও একই দিনে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা হলে তারা অংশগ্রহণও করতে পারে না। আবার ভিন্ন ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া লাগে।

বিদ্যমান পদ্ধতির এসব সমস্যা বিবেচনায় গুচ্ছ ভিত্তিতে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা একটি ভালো পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে সমমনা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে চারটি গুচ্ছে ভাগ করে এই ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। এর মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে একটি গুচ্ছ করে, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য একটি, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য একটি এবং সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য আরেকটি গুচ্ছ করে এই ভর্তি পরীক্ষা হবে। সঙ্গে এমন একটি ব্যবস্থা রাখা হবে, যেন এই পরীক্ষার মাধ্যমেই একজন শিক্ষার্থী শাখা পরিবর্তনের সুযোগ পায়। অর্থাৎ বিজ্ঞানের একজন শিক্ষার্থী চাইলে মানবিকের কোনো বিষয়েও ভর্তির সুযোগ পাবে। এই প্রক্রিয়ায় সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য তিনটি পরীক্ষা (বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য শাখা) হবে। আর বাকি গুচ্ছগুলোতে একটি করে পরীক্ষা হবে। অর্থাৎ মোট ছয়টি পরীক্ষা হবে। পরীক্ষাকেন্দ্র হবে ভর্তি-ইচ্ছুকদের কাছাকাছি বিশ্ববিদ্যালয়ে। তা ছাড়া গুচ্ছভিত্তিক পদ্ধতি একটি প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি। মেডিকেল কলেজগুলোতে এই পদ্ধতিতে পরীক্ষা হয়। এমনকি গত বছর সাত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। আশা করা যায়, ইউজিসির এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুর্ভোগ কমবে এবং অর্থ সাশ্রয় হবে।

অনিল মো. মোমিন

লেখক : শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads