• বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭
ads
‘দিন আনে দিন খায়’ মানুষের জন্য যা করণীয়

প্রতীকী ছবি

মুক্তমত

করোনা ভাইরাস

‘দিন আনে দিন খায়’ মানুষের জন্য যা করণীয়

  • প্রকাশিত ০৪ এপ্রিল ২০২০

নির্মল সরকার

 

 

এক ভয়াবহ সংক্রামক মরণ রোগে বিশ্ব সম্পূর্ণভাবে দিশেহারা ও স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত সংক্রমিত ও মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা, নতুন নতুন দেশ। করোনা ভাইরাস ঘাতক এই মরণব্যাধি আজ বিশ্বের মানচিত্রই শুধু নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ মানচিত্রে বিভাগ থেকে বিভাগ, জেলা থেকে জেলা, গ্রাম থেকে গ্রামকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। সমাজবদ্ধ মানুষ বেঁচে থাকার প্রয়োজনে সামাজিক দূরত্ব তৈরি করতে বাধ্য হচ্ছে। বিচ্ছিন্ন করতে হচ্ছে পাড়া-প্রতিবেশীর বন্ধুত্বের আলিঙ্গন। করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে সারা দেশকে কারফিউ সাদৃশ্য লকডাউনের মতো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন পড়ছে।

করোনা ভাইসার বিস্তার রোধে নেওয়া পদক্ষেপ লকডাউনের ফলে জীবন সংগ্রামে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষগুলো এ মুহূর্তে খাদ্য সংকটে পড়েছে। ধীরে ধীরে খাদ্য সংকট প্রকট রূপ ধারণ করছে। খাদ্য সংকটে থাকা দিন এনে দিন খাওয়া দুস্থ গরিবের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলছে, নিত্য নতুন যোগ হচ্ছে নিরন্ন মানুষ। খাদ্য সংকট মোকাবিলায় ব্যক্তিগত, জনপ্রতিনিধি, সরকারি, স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠনগুলো চাল-ডাল, তেল-লবণ, সাবানসহ বিভিন্ন পণ্য দিয়ে সাহায্য করে যাচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল। সহসাই বিশ্ব পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে এটা যেমন ভাবা যায় না, তেমনি বাংলাদেশেও খুব শীঘ্রই করোনা ভাইরাসমুক্ত হয়ে দেশের মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে আসবে— এমনটাও চিন্তা করা যাচ্ছে না। আরো কতদিন নিজেকে ঘরে আবদ্ধ করে রাখতে হবে, এরও যেমন অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে; তেমনি খেটে খাওয়া দিন এনে দিন খাওয়া নিঃস্ব মানুষগুলো কবে কাজ করে খাবার সংগ্রহ করতে পারবে, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই।

গ্রাম, ওয়ার্ডগুলোতে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষগুলোর সঠিক সংখ্যা নিরূপণ করে রেশন পদ্ধতিতে খাদ্যদ্রব্য বিতরণ করা যেতে পারে। সর্বোপরি প্রতিটি এলাকায় গ্রাম, পাড়া, মহল্লা ও ওয়ার্ডের একাধিক স্থানে রান্নার ব্যবস্থা (লঙ্গরখানা) করে রান্না করা খাবার সরবরাহ করা যেতে পারে। প্রায় প্রতিটি গ্রামে ও ওয়ার্ডে একটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে এবং প্রায় অধিকাংশ বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের দুপুরের রান্না করে খাবার দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। বিদ্যালয়ের শিক্ষক, স্বেচ্ছাসেবক, সমাজ সেবক ও দলীয়কর্মী বাহিনী এবং মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে খাবার রান্না ও বিতরণসহ সার্বিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যেতে পারে।

যথেচ্ছ বা বিচ্ছিন্নভাবে খাদ্যদ্রব্য দিয়ে খাদ্য সংকটে থাকা মানুষদের খাদ্য সহায়তা দেওয়ায় খাদ্যদ্রব্য বণ্টন ব্যবস্থা ক্রটিপূর্ণ হয়; তেমনি একই ব্যক্তি একাধিকবার খাদ্যদ্রব্য পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং খাদ্যদ্রব্য সঞ্চয় করে রাখার প্রবণতাও সৃষ্টি হতে পারে। আবার পর্যাপ্ত খাদ্যদ্রব্যের সরবরাহ না থাকলে সবার প্রাপ্যতা নিশ্চিত হবে না। সরকারি সাহায্য, বিত্তবানদের দান ও স্থানীয়ভাবে খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করে ক্ষুধার্তদের মাঝে প্রতিদিন রান্নাকরা খাবার সরবরাহ করা যেতে পারে। পাড়ায়, মহল্লায়, গ্রামে ও ওয়ার্ডে রান্নাকরা খাবার সরবরাহ করা গেলে অসহায় এ মানুষগুলো যেমন ঘর বা বাসস্থান থেকে বের হবে না, তেমনি একমুঠো কম খেলেও খাবার পাওয়ার নিশ্চয়তায় অনেকটাই নিরাপদ বোধ করবে।

করোনাকে পরাজিত করতে গোষ্ঠী সংক্রমণ রুখতে হবে। আর গোষ্ঠী সংক্রমণ রুখতে মানুষকে স্বগৃহে আবদ্ধ থাকতে উৎসাহী করতে এসব দিন এনে দিন খাওয়া মানুষদের দৈনিক ন্যূনতম খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। করোনার ভয়াল থাবা যত দীর্ঘ হবে, করোনার বিস্তার রোধে লকডাউন ততটাই দীর্ঘায়িত করতে হবে। তখন খাদ্য সংকটের তালিকায় যোগ হতে থাকবে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরাও। সুতরাং বিষয়টি নিয়ে আমাদের সবারই ভাবতে হবে এখনি।

 

লেখক : প্রাবন্ধিক

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads