• বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭
ads
ঘরে থাকুন, করোনা যুদ্ধে জিতুন

সংগৃহীত ছবি

মুক্তমত

ঘরে থাকুন, করোনা যুদ্ধে জিতুন

  • প্রকাশিত ০৫ এপ্রিল ২০২০

মো. নজরুল ইসলাম:

বিশ্বজুড়ে এক আতঙ্কের নাম করোনা। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা উভয়ই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। ছোটবড়, উন্নত ও অনুন্নত কোনো দেশই রক্ষা পাচ্ছে না করোনার ভয়াল থাবা থেকে। ৩১ মার্চ মঙ্গলবার এই লেখা পর্যন্ত পরিসংখ্যান বলছে সারা বিশ্বে মোট আক্রান্ত ৭ লাখ ৮৪ হাজার ৭১৬ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছে ৩৭ হাজার ৬৩৯ জন।

ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখলে করোনা ভাইরাসের চারপাশে একটি রাজকীয় মুকুটের মতো গঠন দেখা যায়। তাই মুকুটের প্রতিশব্দ করোনা থেকে এই নাম দেওয়া হয়েছে। এই ভাইরাসকে সংক্ষেপে ঈড়ঠ বলা হয়। মূলত করোনা ভাইরাসের ২০০টি প্রজাতি রয়েছে যার মধ্যে সাতটি মানুষকে আক্রান্ত করে। তন্মধ্যে আবার তিনটি প্রজাতি মানুষের জন্য মারাত্মক, যেমন— ঝঅজঝ-ঈড়ঠ (সিভিয়ার একিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম করোনা ভাইরাস); গঊজঝ-ঈড়ঠ (মিডিল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম করোনা ভাইরাস) এবং  ২০১৯-হঈড়ঠ (২০১৯ সালের নতুন বা নভেল করোনা ভাইরাস)। শেষোক্ত ভাইরাসটিকে পরবর্তী সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নাম দেয় ঈড়ারফ-১৯। যা বর্তমানে সারা বিশ্বকে পযুর্দস্ত করে চলেছে।

উদ্বেগের বিষয় হলো, এই করোনা ভাইরাস দ্রুত বিবর্তিত হয় এবং হুটহাট গঠন পাল্টায়। ফলে এখনো প্রতিষেধক বা টিকা আবিষ্কার সম্ভব হয়নি। তাই আক্রান্তদের মধ্যে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তারা মারা যাচ্ছেন। এমতাবস্থায় এ ভাইরাস থেকে বাঁচার নিশ্চিত উপায় আপাতত একটাই, তা হলো আক্রান্ত না হওয়া। আর আক্রান্ত না হতে চাইলে আমাদের সবাইকে ঘরে থাকতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। নিয়মিত সাবান দিয়ে (অন্তত ২০ সেকেন্ড) হাত ধুতে হবে। যথাযথ প্রটেকশন ছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা যাবে না। অতি প্রয়োজন ছাড়া রোগীও বের হতে পারবে না। এই ভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড বা সুপ্তিকাল ২-১৪ দিন। অর্থাৎ ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশ করার ১৪ দিন পর্যন্ত কোনো প্রকার লক্ষণ প্রকাশ না করেই থাকতে পারে। এজন্যই মূলত জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। অর্থাৎ ঘরে থাকতে হবে। ভালো ও সুস্থ থাকতে চাইলে আপাতত ঘরে অবস্থানের বিকল্প নেই।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা ভাইরাসকে যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেছেন এবং তিনি যথার্থই বলেছেন, এই যুদ্ধে জিততে চাইলে ঘরে থাকতে হবে। পরিতাপের বিষয় হলো, এখনো অধিকাংশ মানুষ (আতঙ্ক থাকলেও) সচেতন নয়। শহর অপেক্ষা গ্রামের মানুষের মাঝে এ হার বেশি। গ্রাম বা ইউনিয়ন পর্যায়ে রাস্তার মোড়ে মোড়ে যে ছোট ছোট হাট-বাজার রয়েছে সেগুলো এখনো হরদম চলছে। দিনের বেলায় জমায়েত কিছুটা কম হলেও সন্ধ্যার পর জনসমাগম ও আড্ডা বেড়ে যায়। মাস্ক ব্যবহার বা সামাজিক দূরত্বের বালাই তাদের মধ্যে নেই। তাদের ভাষ্যে, এগুলো নাকি শহুরে লোকদের জন্য। কিন্তু ‘নগর পুড়িলে দেবালয় যে এড়ায় না’ তা এদের বোধগম্য নয়।                                                            

মোদ্দাকথা হলো, আমাদের ঘরে থাকতে হবে, জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। নইলে চীন, ইতালি, স্পেন, জার্মান, যুক্তরাষ্ট্রের মতো লাশের স্তূপ দেখতে হবে আমাদেরও। পরম করুণাময় বিধাতার দয়ায় আমাদের দেশে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা এখনো অনেক কম। আর এটি বজায় রাখতে হলে সরকারকেও কঠোর হতে হবে, জনগণকে বাধ্য করতে হবে আপন গৃহে অবস্থানের ক্ষেত্রে। বিশেষ প্রয়োজনীয় সেক্টরগুলো খোলা রাখলেও, তার সময়কাল সীমিত এবং পুরোপুরি প্রটেশকন মেনে কাজে বের হতে হবে। সব দেশে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়লেও বাংলাদেশে এখনো গাণিতিক হারেই বাড়ছে। তাই এই হার অব্যাহত রাখতে বা কমাতে চাইলে অবশ্যই আমাদের সতর্ক ও সচেতনতার সঙ্গে পরিকল্পনা ও কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই মহামারী দুর্যোগের হাত থেকে বাঁচা সম্ভব।

 

লেখক : নিবন্ধকার

kmnajrulislam64@gmail.com

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads