• বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭
ads
নীরবে বাড়ানো ভাল, মানবতার হাত

সংগৃহীত ছবি

মুক্তমত

নীরবে বাড়ানো ভাল, মানবতার হাত

  • বাংলাদেশের খবর
  • প্রকাশিত ১৪ এপ্রিল ২০২০

দেশে করোনা পরিস্থিতিই আমাদের সমাজে সহায়তা সুযোগ এনে দিয়েছে। নিরবে যে সকল সহায়তা হয়, তা কখনোই প্রকাশ্যে সহায়তার সমান হতে পারে না। এক্ষেতে অবশ্যই আপনাকে নিজেকে গোপন রেখে সহায়তায় অংশ নিতে হয়।

তাহলে প্রশ্ন আসে, আপনি এই কাজ কেন করবেন?। হ্যা এর উত্তর হচ্ছে দান সহায়তা লোক দেখানো হলে তার পার্থিব কোন উপকারে আসে না। এটা শুধু ইহ জাগতিক লোক দেখানো আর এই সহায়তা দেখিয়ে এর চেয়ে বেশি সহায়তার নেওয়ার একটা ফনদি।

তাই বলে আমি এ বিষয়ে কাউকে নিরুৎসাহিত করবো না। যারা লোক দেখিয়েও দেন তাদের দানও এক অর্থে সমাজে অনেক উপকারে আসে। এটাও স্বীকার করতে হবে।

তবে ভাল হচ্ছে সেই দান যে দান বা সহায়তায় কোন লোক দেখানো কিছু থাকবে না। এতে তৃপ্তি ও আছে। এই সমাজে লোক দেখানো ছাড়া সহায়তা দানকারীর সংখ্যা অনেক কম। যারা এভাবে দান করেন ,তাদের যেহেতু সমাজ জানে না, তাই তাদের কদরও করে না। অথচ ইসলাম ধর্ম বলেছে তোমরা দান করো, এমনভাবে যেন তোমার ডান হাত টের না পায় বাম হাত কি দিয়েছে। রাসুল (সাঃ) অনেক সময়েই সাহাবাদের এই উপদেশ দিতেন।

একটু খেয়াল করলে দেখবেন, নিরবে একদল এই করোনার মধ্যে দান করে যাচ্ছেন। তারা কোন সরকারি সহায়তা গোপনে দিচ্ছেন না। তারা দিচ্ছেন নিজের অর্জিত সম্পদের কিছু অংশ।

এমনই এক ঘটনা এখানে তুলে ধরছি এ প্রেক্ষাপটে- নিউমার্কেটের পাশ থেকে আসা একটি গাড়ি চলছে ধীর গতিতে। ফুটপাতের পাশে মানুষ দেখলেই থামছে। আবার সামনে এগুচ্ছে। এমন করতে করতে আমার কিছুদূর সামনে দাঁড়ালো। গাড়ির ভেতর থেকে ফুটপাতে থাকা দুই জন মানুষের জন্য দুইটি খাবারের প্যাকেট বাড়িয়ে দিলেন একজন।

দেখেই বুঝা যাচ্ছিল। নিম্ন আয়ের মানুষ। রাস্তায় বের হয়েছেন যদি কোনো সাহায্য পাওয়া যায়। গাড়ির ভেতর থেকে খাবারের প্যাকেটের হাতছানি দেখেই খাবার নিলেন। সঙ্গে গলিতে থাকা আরো কয়েকজনকে ডাকলেন। খাবার পেলেন তারাও। খাবার দিয়ে গাড়িটা দ্রুত চলে গেল।

ঘটনাটা এত তাড়াতাড়ি ঘটলো যে ছবি তুলে আর কিছু বুঝে উঠার আগেই উধাও সাদা রংয়ের প্রাইভেট কারটি। শুধু এতটুকু বুঝতে পারলাম, ড্রাইভারের পাশে একজন ছিল। তিনিই খাবার তুলে দিয়ে দিয়ে যাচ্ছেন অভাবী মানুষের হাতে।

অথচ আমরা এই চরম মহামারির মধ্যে কাউকে সাহার্য তো দূরে থাক। উল্ট সরকারের দেয়া গরিবের হক মেরে খাচ্ছি। এই অবস্থা বেশি চলতে দেয়া যায় না। প্রশাসনকে আরো তৎপর হতে হবে। খুজে বের করতে হবে কোন কোন ইউপি চেয়ারম্যানরা এই সময় চাল, ডালসহ খাদ্য সহায়তা চুরি করছেন।

দ্বায়িত্ব থাকার পরও তারা লুট করছে সরকারের অর্থ সহায়তা। এতে একদিকে যেমন গরিবের দুঃখ-দুর্দশা বেড়েছে। সেই সাথে বেড়েছে সাধারণ মানুৃষের সরকারের প্রতি নাখোশ।

ইতমধ্যেই প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব চোরদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে বলেছেন। আর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়েদুল কাদের দলের নেতাকর্মীদের সাবধান হতে বলেসেন। তা না হলে পরিণাম হবে ভয়াবহ । এদিকে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নব নিযুক্ত মহা পরিচালক এই দুর্নীতি অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন।

সব শেষে আবারো বলতে হয়, করেনার ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে এসে দাঁড়াই। কোন রকম সংকোচ না করে আসুন আমরা বেশি বেশি গোপনে দান সদকা খয়রাত করি।
বরং এই সংকটে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ বেশি কার্যকর হবে যদি এভাবে লাইনে দাড় না করিয়ে নীরবে গরিবের ঘরে গিয়ে সহায়তা দিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করি।

আর অভাবী মানুষের ঘরে ঘরে বলুন যে, এই খাবার দিয়ে গেলাম। আগামী এক সপ্তাহ ঘর থেকে বের হবেন না।  এই মতামতের লেখকের নাম, কামিল শিবলী, একজন ফ্রিল্যান্স রাইটার।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads