• বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭
ads
করোনাত্তোর বেকারত্বই হতে পারে বড় চ্যালেঞ্জ!

এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার (পিপিএম)

ফাইল ছবি

মুক্তমত

করোনাত্তোর বেকারত্বই হতে পারে বড় চ্যালেঞ্জ!

  • প্রকাশিত ১২ মে ২০২০

এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার পিপিএম:

বিশ্বব্যাপী করোনাক্রান্তিকালের মহাচ্যালেঞ্জ মোবাবেলায় দিন রাত দুর্বার গতিতে কাজ করে যাচ্ছে। সমসামিয়ক সময় পর্যন্ত অনেক দেশ ও তার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে সফলতার দ্বার প্রান্তে পৌছে গেছে এমনটাই দাবি করা হচ্ছে। কেউ কেউ পরীক্ষা প্রক্রিয়া চলমান রেখেছেন এবং সম্ভাব্য সেপ্টেম্বর নাগাদ তার দেশে প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন বলে আশাবাদও ব্যক্ত করছেন। বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। দেশীয় ব্যবস্থাপনা, আন্তর্জাতিক মহল,পার্শ্ববর্তী ভারতও সহায়তা করবেন বলে কুটনৈতিক আলাপচারিতা অব্যাহত রয়েছে।

সারা বিশ্বের আক্রান্ত পরিসর এবং দেশের অভ্যন্তরে আক্রান্তের যে ধরণ পরিলক্ষিত হচ্ছে এবং বিপরীতে আতংক ও ভয়ভীতি এমন করেই আমাদের মনস্তত্বে যোগ হচ্ছে যে স্বেচ্ছায় পরীক্ষা করানোর আগ্রহ আমাদের মধ্যে কমে যাচ্ছে নিঃসন্দেহে। ফলে জনসংখ্যার একটি বড় অংশই পরীক্ষা থেকে দূরে থাকতে চাওয়ার কারণে যেটা হবে তা হল আমাদেরকে করোনা নিয়েই বাস করতে হবে একটা লম্বা সময়ের জন্য তাতেও কোন সন্দেহ নেই।

কাজেই সারা বিশ্ব একযোগে একদিনে মুক্তির স্বাদ লাভের কোন সুযোগ নেই তা একেবারেই স্পষ্ট। এখনও দ্বিতীয় তৃতীয় ধাপে করোনা একই ব্যাক্তিকে পুনরায় আক্রমন করতে পারে এমনটা আলোচনায় জানতে পেরেছি আর তার অর্থ হল বেঁচে থাকার এ যুদ্ধে বিশ্বজনসংখ্যার অন্তত দ্বিগুণ ভ্যাকসিন উৎপাদন করতে হবে। বিপুল সংখ্যক ভ্যাকসিন উৎপাদনে এবং পৃথিবীর সকল প্রান্তে এটার বাজার সুবিধা পেতে বেশ খানিকটা লম্বা সময় আমাদেরকে কম বেশি অপেক্ষাও করতে হবে। সময় যদি দুই থেকে পাঁচ বছর হয় ভাবুন তো কি নিদারুণ দূর্ভাগ্যের মধ্য দিয়ে নতুন করে ভাগ্য গড়তে হবে আমাদের এবং তা যে খুব সহজ হবেনা তা সহজেই অনুমেয়। আরও কঠিন কাজ হলো আগত সময়ের মোকাবেলার জন্য পলিসি মেকারদের অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে এখনই তা ভাবতে হবে এবং কার্যকর করার ক্ষেত্রে অনেক বেশি আন্তরিক হতে হবে। প্রত্যেকেই যেহেতু বাজার ব্যবস্থাপনায় নিজ রাষ্ট্রের চাহিদা মিটিয়ে অত:পর হয়তো এক্সপোর্ট করবেন কাজেই খুব কম সময়ের মধ্যে সকলের কাছে এটি একযোগে পৌছাবে না। সেই সাথে আমরা এটি মোকাবেলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান গুলোর ব্যবস্থাপনা সমন্বয়ের যে দূর্বলতা দেখছি তা কাটিয়ে উঠে উৎকর্ষতার চর্চা করার সময় আসতে বেশ বড় একটা সময় লাগবে আমাদের সেটি ধরেই নিতে হবে, এমনিতেই আমরা একে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপাতে সিদ্ধ হস্ত।

আলোচনার প্রাসঙ্গিকতায় আর একটু গুরুত্ব দিতে হবে যদি সকল ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনায় ধস লাগে আর তা দ্রুত সামাল দেয়া না যায় সেক্ষেত্রে আমাদের দেশের জন্য অর্থনৈতিক সূচকে একটা বড় ধাক্কা লাগবে। সকল ক্ষেত্রেই নতুন নতুন অনেক সমস্যা আসবে এবং তা দক্ষতার সাথে মোকাবেলা করে একটি স্থিতিশীল অবস্থায় আসার নিখুঁত টার্গেট নিতে হবে। সৌভাগ্যবশত ঋতু বৈচিত্র ও মাটির উর্বরতার কারণে খাদ্য সংকট হয়তো এত বেশি কাবু করতে পারবে না তবে অন্যান্য সকল ক্ষেত্রেই বিশ্ব পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সমন্বয় করে বেশ খানিকটা বন্ধুর পথ পেরিয়ে নতুন সুবধিাজনক অবস্থা ফিরে পেতে আমাদের তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লেগে যাবে হয়তো । হাজারো খাত উৎপাদন আর সেবা খাতের সকল ক্ষেত্রেই নতুন নতুন ইস্যুকে মোকাবেলা করতে হবে। আমি কেবল একটি বিষয়কে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে আলোচনায় নিতে চাই যা ব্যবসা প্রশাসনের ছাত্র হিসেবে আমার কাছে সর্বাধিক বিবেচ্য বলেও মনে হয়েছে তা হল করোনাত্তোর বাংলাদেশসহ অনেক দেশের অর্থনীতির বিরুদ্ধে হুমকি হবার সম্ভাবনায় বড় চ্যালেঞ্জ হবে বেকারত্ব।

জীবন বাস্তবতায় প্রবাসীদের একটা বিরাট অংশ দেশে চলে আসছে যাদের অনেকেই আর ফিরবেনা । ফলে প্রবাসীদের একটা বড় সংখ্যা যোগ হবে চলমান বেকারত্বের সাথে।

শিল্প প্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন করে কাজ শুরু করার সার্বিক সামর্থই থাকবেনা। ফলে বিশাল একটা অংশ বেকার হবে।

শ্রমঘন অনেক গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান শ্রমিক ছাটাই করবে তার ব্যবসায়িক নতুন সামর্থের সাথে সমন্বয় করে। ফলে এ সেকটরে উল্লেখযোগ্য শ্রমিক বেকারত্বের গণনায় পড়ে যাবে। সেবা খাতের আকারেও লক্ষনীয় পরিবর্তন আসবে ফলে এখাতেও বেকার সংখ্যা বাড়বে।

করোনা নিয়ে বাস করতে হবে বিধায় ফুটপাতে বিক্রি বা জনসমাগম নতুন সংস্কৃতিতে কার্যকর থাকার সুযোগ থাকবেনা ফলে বিশাল একটা অংশ ঘুরে ফিরে বেকারত্বের দিকে যেতে থাকবে।

পর্যটন শিল্পে ব্যবসা কমে যাবে ফলে কর্মরতদের অনেকেই ছাটাই কর্মের শিকার হবে এবং নতুন করে বেকার সংখ্যায় যোগ হবে উল্লেখযোগ্য হারে।

প্রিন্ট মিডিয়া বন্ধ থাকায় অনলাইন মিডিয়া চর্চায় বা সামাজিক মিডিয়া চর্চায় মানুষ অনেক বেশি অভ্যস্ত হতে শুরু করেছে ফলে প্রিন্ট মিডিয়ার অনেক কর্মীকেই ছাটাইয়ের শিকার হতে পারে।

সচিবালয় শিক্ষা দপ্তর এরকম অনেক দপ্তরকে কেন্দ্র করে ভাসমান দালালের সংখ্যা নেহাত কম না প্রেক্ষাপটের কারণে নতুন নতুন ব্যবস্থাপনার কারনে এসব উটকো তদবির পেশা আর নাও টিকে থাকতে পারে। ফলে তাদেরও অনেকেই বেকারত্বে নাম লিখাবে। এরকম শত শত আলোচনার বিষয় রয়েছে যেখানে অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক পরিধি সীমিত হবে এবং উল্লেখযোগ্য অংশ বেকারে পরিণত হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য আলোচনার বিষয় হলো যদি এমন কোন পরিবর্তন অনিবার্য হয় যে, রাজনীতিতে কর্মীদের জন্য আর অর্থনৈতিক সুবিধা দেয়ার বিষয় কিম্বা কর্মি অবস্থায় রাজনীতি করে অঢেল সম্পদ অর্জন করার সুযোগ না থাকে অর্থাৎ কোন নির্দিষ্ট চাকুরী বা ব্যবসা বাণিজ্য ছাড়া শুধু রাজনীতি করলে যদি পেটে ভাতের এবং ভাগ্য গড়ার সুযোগ সীমিত হতে শুরু করে তাহলে তো কথাই নাই আরো বড় একটি অংশ বেকারত্ব লাভ করবে। আর দূর্ভাগ্যবশত যদি খানিকটা দূর্ভিক্ষ ছুঁয়ে যায় কোন কারনে তাহলে এটার পরিনাম খুব ভয়ানক হতে পারে!

আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপরে বেগতিক চাপ পড়বে আর নতুন করে রুপ নেয়া ছোট ছোট মুভমেন্ট গুলো হবে স্বভাবতই কান্ডজ্ঞানহীন তার সাথে হীন রাজনৈতিক কিম্বা সাম্প্রদায়িক স্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টাকারীদের চেষ্টা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্রিয়াশীল থাকবে ফলে পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবেলা করার ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অনেক বেশি নতুন নতুন কৌশলের আশ্রয়ও নিতে হবে কেননা করোনা পরবর্তী মানুষের অভিব্যক্তিতেও অনেক পরিবর্তন লক্ষণীয় হবে।

পরিসংখ্যান গত বিশ্লেষণে আমরা যা দেখতে পাই সে চিত্র আরো উদ্বেগজনক! টিবিএস নিউজ রিপোর্ট আগস্ট ২০১৯ মতে বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা ২১ লাখ। পরিসংখ্যান ব্যুরোর মতে ২০১৬ তে এ সংখ্যা ছিল ২৬ লাখ। এ হিসেব গুলো নিয়ে নানান মতপার্থক্যও রয়েছে। ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্ট এর ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ই আই ইউ) প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের শতকরা ৪৭ ভাগ স্নাতকই বেকার। যেখানে ভারতে ৩৩, পাকিস্তানে ২৮, নেপালে ২০ এবং শ্রীলংকায় ৭.৮ শতাংশ বেকার রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) তথ্য মতে প্রতিবছর কম বেশি সাড়ে তিন লাখ ছাত্র/ছাত্রী স্নাতক ও স্নাতোকোত্তর পাশ করছে। বেসরকারী তথ্যমতে এ সংখ্যা ১০ লাখের মত। আই এল ও এর তথ্য মতে বর্তমান বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা সাড়ে তিন কোটি। বিডিজবসডটকম’র প্রধান নির্বাহীর মতে,  প্রায় ১৫ হাজার চাকুরীদাতা প্রতিষ্ঠান সেখানে চাকুরীর অফার করেন যা বছরে গড়ে ৪০ হাজার এর মত চাকুরীর সংস্থান থাকে যেখানে চাকুরীর খোজ করেন বছরে ২০ লাখ প্রার্থী।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের তথ্য মতে গবেষণা বলছে ২০১৬ সালের আন্তর্জাতিক যুবসূচকে ১৮৩ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৬ তম। ২০২০ জানুয়ারীতে ভোরের কাগজ পত্রিকায় সম্পাদকীয়তে উঠে এসেছে উচ্চ শিক্ষিতের মধ্যে বেকারত্ব ১০ দশমিক ৭ শতাংশ।
যা এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় ২৮টি দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বিশ্ব ব্যাংক মনে করে বাংলাদেশের বেকারত্বের হার ১৪ দশমিক ২ শতাংশ আর প্রতিবছর নতুন করে প্রায় ১৩ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে বেকারত্বে যোগ হচ্ছে।

সেগুলো অগ্রিম বিবেচনায় নিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রথাগত কাজেও আনতে হতে পারে ব্যাপক পরিবর্তন। কাজটি মোটেও সহজ হবে না তবে বাংলাদেশ পুলিশ অসময়ে তার যোগ্যতা তুলে ধরে যে ভাবমূর্তি ইতোমধ্যে গড়ে তুলেছে তা পুলিশকে পরবর্তীতে আইন প্রয়োগে খানিকটা সহায়ক হবে আশা করছি। চুরি, ডাকাতি, রায়ট প্রবণতা, ছিনতাই, নারী ও শিশু নির্যাতনের মত অপরাধ বাড়তে পরে। মোকাবেলায় সমাজের ভাল মানুষের সহযোগীতার প্রয়োজন হবে অনেক বেশি। সেটি কার্যকর না হলে পরিস্থিতি কল্পনায় নিয়ে কয়েকটি উত্তম বিকল্প ঠিক করার কাজটি এখনই গুরুত্ব দিয়ে এগুতে হবে। বর্তমান নেতৃত্বের পুলিশ এটি মোকাবেলায় অনুসরণীয় পুলিশিং উপহার দেবেন এ বিশ্বাস, পুলিশ চলমান সময়ে অর্জন করেছে সেই সাথে দেশবাসির ভালোবাসা, সমর্থন বিশ্বাস ও নির্ভরশীলতার প্রত্যাশাও বাড়ছে। অতি মানবীয় আচরনের পর খানিকটা রুক্ষ হবার প্রয়োজন দেখা দিলে মনস্তাত্ত্বিক এই সমন্বয় কার্যক্ষেত্রে প্রয়োগ খুব একটা সহজ কাজ হবেনা এবং সেটা সবাই কে অনুধাবন করানো বেশ শক্ত কাজ হবে বিশেষ করে পুলিশ সদস্যদের জন্য তো বটেই।

সরকার ইতোমধ্যেই রাষ্ট্রপরিচালনায় কিছু যুগান্তকারী কাজ চলমান রেখেছেন সত্যিই তা প্রশংসনীয়। বেকারত্বের একটি বড় অংশকে ভাতা দেয়ার কার্যক্রম টা দীর্ঘ সময় ধরেই সরকার করে আসছেন। বয়স্ক মানুষ যাদের কর্মক্ষমতা নাই তাদের প্রায় শতভাগই কোন না কোনভাবে সরকার থেকে আর্থিক মূল্যে সরাসরি সুবিধা প্রদান অব্যাহত রয়েছে। গ্রামে শহরের সেবা সুবিধা পৌছে দেয়ার ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আরেকটি দূরদর্শি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন যদিও তা এখনও খুব প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। গ্রামকে শহুরে সুবিধা প্রদান। এ সকল সুবিধার ব্যবহার করে নদী মাতৃক পরিবহন ব্যবস্থা চালু রাখার লক্ষে নদীগুলো সচল করা গেলে নতুন করে নদীমাতৃক বসতি গড়ে উঠার ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হবে। করোনা বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে বড় বড় হাটবাজার গুলিকে অঞ্চলের জনসংখ্যা দূরত্ব সুযোগ সুবিধা পরিবহন ব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয়কে সমন্বিত করে ছোট পরিসরে লোকের সমাগম করার লক্ষে নদী ও গ্রামীণ রেলষ্টেশনের পার্শ্বে আবারও নতুন আঙ্গিকের শহুরে ব্যবস্থার পত্তন ঘটানো যেতে পারে।

বেকারত্ব কে মোকাবেলার লক্ষে অবশ্যই অভ্যন্তরীন সামর্থ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে। কৃষি জমির বাইরেও কৃষি কাজের সুবিধা সম্পন্ন প্রতিটি ইঞ্চির যথাযথ ব্যবহারে ইতোমধ্যেই সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। নদীকেন্দ্রিক বন্দর সুবিধা যতটা দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব কাজের সম্প্রসারণ তত দ্রুত বিস্তৃতি লাভ করবে এবং তত বেশি সংখ্যক মানুষের নতুন নতুন কর্মসংস্থান করা সম্ভব হবে। নব নির্মিত সম্ভাবনা আইটি খাতে চাকুরির পাশাপাশি আউট সোর্সিং এ যুক্ত করেও সাময়িক বড় সংখ্যক বেকার কে কিছু একটা কাজের সাথে সম্পর্কিত রাখা যাবে।

মূল কৃষি উৎপাদনে শিক্ষিত বেকারদের কৃষি প্রশিক্ষণ ও কৃষিজাত পন্যের প্রক্রিয়াজাত করণ সুবিধা দিয়ে কৃষি কাজকে খুব দ্রুত সম্মানীত পেশায় পরিণত করতে হবে এবং সামাজিক ভাবে এদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপক পরিবর্তন এনে সামাজিক চলক সমূহের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালক হিসেবে সমাজে স্বীকৃতির ব্যবস্থা করা যেতে পারে । আধুনিক কৃষি কাজে সম্পৃক্ত হতে পেরে তারা যেন ধন্য মনে করে এবং ঐ কাজের মধ্য দিয়ে তারা যেন ভবিষৎতের স্বপ্ন মেলাতে পারে সে দিকে খেয়াল রাখাও জরুরী হবে কারন শ্রমের ৪৮ ভাগ এখনও কৃষিতেই ব্যবহার হচ্ছে।

কল্পিত সংকটে সবচে বেশি ভূমিকা রাখতে পারবে সরকারের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলি। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই নির্মানাধীন কাজ গুলোর গতি সন্তোষজনক মনে হয়না । দ্রুত কার্যকর করার লক্ষ্যে সেটিকে প্রাধান্য দিয়ে বাজেটে সুবিধা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখলে সংকট মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সেই সাথে ব্যবসায়ী ও শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে যে সকল  কর্মী বেকার হবে আগামী ছয় মাস থেকে এক বছর সময়ের মধ্যে বড় একটা সংখ্যা আবার ফিরে কর্মে যোগদান করতে পারবে এমন পরিচ্ছন্ন আশাবাদ ও বাস্তবমূখী পদক্ষেপ নিতে হবে এবং কর্মচারীদের চোখেও তা সুস্পষ্ট করতে হবে।

বহি:বিশ্বের করোনাক্রান্ত দেশগুলোতে কোন ধরণের অভিবাসন প্রয়োজন হবে তা দুতাবাসের মাধ্যমে আলাপ করে সংশ্লিষ্ট দেশে বিদ্যমান প্রবাসী বাংলাদেশি যারা রয়েছে তাদের সাথে আলাপ করে সেই সাথে পূর্বাভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ক্ষেত্রসমূহ দ্রুত চিহ্নিত করে খুব স্বল্পমেয়াদী এক থেকে দুবছরের মধ্যে নতুন করে অন্তত পঞ্চাশ লাখ থেকে এক কোটি মানুষের আন্তর্জাতিক বাজারে কর্মের জন্য রপ্তানী কৌশল ও পরিকল্পনা নিতে হবে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে।

প্রচলিত সুবিধার বাইরে নতুন করে ঐ সকল মার্কেটে বিপননের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী যুব প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখলে আরও ভালো হবে। দক্ষ আধা দক্ষ কম দক্ষ এবং দক্ষতা নাই এরককম বেশ কিছু ভাগে ভাগ করে তাদের প্রণোদনা দিয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রুপান্তরিত করা যেতে পারে। সামর্থ্য বিবেচনায় আমাদের দেশে দীর্ঘস্থায়ী বেকারত্ব ভর করার কোন কারণ না থাকলেও ভয় একটা রয়েছে সত্যি। শক্তি বিবেচনায় সেটি বাস্তবায়নে আমরা কতটা দক্ষতার পরিচয় দিতে পারব তার উপড় নির্ভর করছে সবটুকু। ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই এ কাজটুকু মোটেও সহজ হবেনা, বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিতে পারে আর তা কাটিয়ে উঠতে অনেক প্রতিযোগী দেশ একই কাজে বাজারে নামবে।

ব্যবস্থাপনায় দূর্বলতা কিংবা কোন ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হবার সম্ভাবনাকে খুব বেশি করে নজরদারিতে রেখে তত্বাবধানের পরিধি বাড়িয়ে প্রতিটি পদক্ষেপে নূন্যতম 'ট্রায়াল এন্ড এরারের' মাধ্যমে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছার যাবতীয় পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার উপড় অধিক গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজন হবে। অন্যথায় ব্যবস্থাপনা ব্যর্থতার পালা ভারি হওয়া শুরু করলে করোনা মহামারী উত্তর দুর্ভিক্ষের সাথেও যুদ্ধ করার মত আশংকা থেকে আমরা কোন ভাবেই মুক্ত থাকতে পারবনা।

সকলের সমবেত প্রচেষ্টা ও অবদানকে নিষ্ঠার সাথে কাজে লাগাতে পারলে বিশ্বের অনেক শক্তিশালী দেশের সঙ্গে পাল্লা রেখে সম্মানের সাথে চলতে পারবো। সে প্রত্যাশা পূরণে সকলকেই নির্মোহ শর্তহীনভাবে সরকারের কর্মকান্ডকে শক্ত হাতে এগিয়ে নিতে হবে বাস্তবায়ন করতে হবে এটাই স্বতসিদ্ধ।

লেখক : পুলিশ সুপার, গীতিকবি কন্ঠশিল্পী ও প্রাবন্ধিক।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads