• বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২০, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads

মুক্তমত

মনস্তাত্ত্বিক বিপর্যয় ও উত্তরণ ভাবনা!

  • প্রকাশিত ১৯ মে ২০২০

করোনার সাথে স্বল্প মেয়াদে বসবাসের সিদ্ধান্ত পৃথিবী ইতোমধ্যে অপ্রত্যাশিতভাবে নিয়ে ফেলছে। ক্ষমতাধরদের ক্ষমতা ম্রীয়মান হয়ে যাবে ভেবে কোন বিশ্বনেতা এটা মুখে না বললেও বিশ্বের সকল প্রান্তের আমজনতা তা বুঝতে শিখেছে। খুব সহজে স্বল্পতম সময়ে আমাদের মুক্তির কোন সম্ভাবনা দেখছি না । করোনা মোকালোয় ভ্যাকসিন সহজলভ্য হবার আগ পর্যন্ত যতটা শারীরিকভাবে প্রতিরোধের লক্ষ্যে ইমিউন সিস্টেম বাড়ানোর প্রতি সবাইকে গুরুত্ব দিতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে তা ভালো পরামর্শ নিঃসন্দেহে। সেই সাথে আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভাবনাটিতে আমরা ভাসাভাসা আলাপ রাখছি সবাই কিন্তু যতটুকু গুরুত্ব দিয়ে ভাবা প্রয়োজন তা করছি বলে সরকারী অথবা বেসরকারীভাবে খুব একটা দৃশ্যমান চেষ্টার কোনো নজির আমরা দেখতে পাচ্ছি না। হয়তো কিছু প্রস্তুতি নেয়া ইতোমধ্যে চলমান রয়েছে। আমাদের স্বভাব হলো বিপদের মুখে না পড়া পর্যন্ত আমরা কোনো কিছুকেই গুরুত্ব সহকারে আমলে নিতে অভ্যস্ত নই। আবার কারো কারো কাছে ভার্চুয়াল ইনটেলেকচুয়ালকে অলিক বা কাল্পনিক বলে হেয় প্রতিপন্ন করবার মনোভাব আমাদের দেশে খুব লক্ষণীয়। কারণ সকল কিছুতেই আমরা নিজেদের চেষ্টাকে অব্যাহত রেখে ভাগ্যবিধাতাকেস্মরণ করা আর তাঁর সাহায্য চাওয়ার চেয়ে নানা রকম ভাবে সেটা শুধুমাত্র সৃষ্টিকর্তার উপর ছেড়ে দিতে খুব গর্ব অনুভব করি। অথচ ধর্মমতেও আমরা জানি, যে জাতি তার নিজের ভাগ্য পরিবর্তনে চেষ্টা করে না স্বয়ং  মহান সৃষ্টিকর্তাও তাদের ভাগ্য পরিবর্তনে এগিয়ে আসেন না । যে কোন সংকটে কিছু মানুষ মনুষ্য চেষ্টাকে রীতিমত নিরুৎসাহিত করে কিছু ধর্মভীরু সরল মানুষকে তাদের সমর্থনের পুঁজি বা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সেটি থেকে মুক্তির একমাত্র পথ ধর্মের ব্যাখ্যায় রয়েছে সেদিকে মানুষকে তাড়িত করে থাকে। মানুষের কোন চেষ্টা দ্বারা সেটি সম্ভব নয়, এটা বিজাতীয়দের উপর গজব নানা রকম ব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে কর্ম চেষ্টায় ধর্মের বিপরীতে দাঁড় করানোর প্রানান্তকর প্রচেষ্টা চালায়। কি দূর্ভাগ্য আমাদের একজন মানুষের সফলতা যা সৃষ্টিকর্তার বিশেষ আশির্বাদ ও অমূল্য দান যা কেবলমাত্র তার ধর্মমতের মানুষের হাত ধরে আসেনি বলে তাকে অধর্ম বলে ব্যাখ্যা করে মানুষকে বিভ্রান্ত করায় কি ধর্মীয় প্রশান্তি লাভ করা যায় তা আমার এই ক্ষুদ্রজ্ঞানে জানা নেই। যেখানে সৃষ্টিকর্তা নিজে কোন জাতি গোষ্ঠির কাতারে তাঁকে কখনই একিভূত করেননি বরং তিনি সকলের এবং কোন খন্ডের না সমগ্র বিশ্ব-ধ্রম্মান্ডের শ্রষ্টা। আর কোন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষকেও তিনি সৃষ্টির সেরা জীব ঘোষনা না করে বরং সমগ্র মানবজাতিকে সৃষ্টি সেরা জীব হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

দুই থেকে পাঁচবছর সময়ের মধ্যে অনিবার্যভাবে যদি আমাদের করোনার সাথে বাস করতেই হয় সেক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভাবনাটিতে বিশ্বের সকল মানুষকেই একমতে পৌছাতে হবে আমরা কি মানষিক রোগী হয়ে বেঁচে থাকতে চাই কি না? কিংবা জনসংখ্যার একটি বড় অংশ যারা ক্ষুধা দারিদ্রতা বিষাদ অবষাদ অপুষ্টির শিকার হয়ে চিত্তে বিকারগ্রস্ত হবেন তাদেরকে নিয়ে একসাথে পরবর্তী পথ চলতে চাই কি না? আসলে আমরা কেউই এটা চাই না। দিনের পর দিন মাসের পর মাস কিংবা বছর জুড়ে যদি এভাবে বাস করতেই হয় তাহলে এ শঙ্কাকে উড়িয়ে না দিয়ে বরং বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে শারীরিক ইমিউন সিস্টেম বাড়ানোর পাশাপাশি মনস্তত্ব বিকাশে করণীয় ঠিক করতে হবে এবং বাস্তবায়নের জন্য সঠিক পরিকল্পনা নিতে হবে।কাজটি সহজ নয়  বলেই একটু অগ্রিম ভাবার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি। চিত্ত সুন্দর সরল সুস্থ্য সবল ও অধিক কার্যকরি রাখার জন্য করনীয় ঠিক করে কাজ শুরু করতে হবে। খাবার দাবার বেশ খানিকটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এক্ষেত্রেও তবে কেবল খাওয়া দাওয়া পুষ্টিকর করাটাই যথেষ্ট নয় সেই সাথে যা প্রয়োজন-

পরিবার চর্চায় একদম আমাদের উচিত হবে কেউ যেন কাউকে ছোট করে না দেখি। মনে কষ্ট পায় এমন আচরন সম্পূর্ণভাবে পরিহার করতে হবে। নিজের চেয়ে অন্য সদস্যদের গুরুত্বকে প্রাধান্য দিতে হবে। শিশুদের ক্ষেত্রে খুব সতকর্তার সাথে তাদের মন মেজাজ বুঝে আচরন করতে হবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখার ক্ষেত্রে কোন রকম ভীতিকর  পরিবেশ, আচরন না করে সম্পূর্ণ বিপরীত সুন্দর আচরণ দিয়ে ছাত্র শিক্ষক প্রকৃত বন্ধু হতে হবে এটি অনিবার্য ও অবিকল্প। প্রত্যেককে শ্রেণী শিক্ষার মধ্য দিয়ে সুন্দর সুস্থ স্বাভাবিক মানবিক  মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে হবে।

সমাজ চরিত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আনার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। অমূলক অন্যায্য সবকিছুকে পরিত্যাজ্য করতে হবে। সমাজ শাসনে বর্তমান চিত্র পরিবর্তন করে ভালো মানুষের হাতে সমাজকে তুলে দিয়ে তাদেরকে দায়িত্বপালনে দল মত নির্বিশেষে সকল নাগরিক একাত্ম হয়ে সহায়তা করতে হবে। অশিক্ষিত বর্বর অযোগ্য  সন্ত্রাসী সাম্প্রদায়িক এরকম চরিত্রের মানুষের কাছ থেকে সমাজকে মুক্ত করে নতুন দিগন্ত উন্মোচন বরই প্রয়োজন ।

এভাবে রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গে ব্যাপক পরিবর্তনের কথা ভাবা দরকার, এমন নীতিমালা তৈরী করা দরকার  যাতে অযোগ্য লোক দ্বারা যোগ্য নাগরিক
সেবা আর প্রত্যাশা করার প্রয়োজন না হয়। যারা জন প্রতিনিধির দায়িত্বপালন করবেন সেটি যে স্তরেই হোক সেটার নীতিমালা এমন হওয়া দরকার যেন অসম্মানীও লোক দ্বারা সম্মানীত ও সাধারণ নাগরিকের কোন সেবা গ্রহনের প্রয়োজন না হয়।

শুধুমাত্র দূর্ব্যবহার করার যথাযথ শাস্তির আইনগত ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে  যাতে করে মানুষ খারাপ আচরণ করতে গেলেও উপযুক্ত শাস্তি, জরিমানা গুনতে হয় বা জেল খাটার প্রয়োজন হয়।

আইন মানার প্রতি সকলকে উৎসাহিত করতে হবে সকল নাগরিকের কাছে এটি একটি পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে মানুষের মধ্যে নৈতিক বোধের জন্ম দিতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের চেতনায় ও ব্যাপক পরিবর্তন আনতে যা যা করনীয় তা করতে হবে তারা যেন নাগরিকদের সাথে অতি চমৎকার একটা আচরণ করতে বাধ্য থাকে এবং এ রকম একটি সংস্কৃতি নিজেদের মধ্যে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে POLICE  শব্দটির বিশেষণ গুলোকে আয়ত্ব করে দ্রুত সেটি কার্যকর করা গেলেই ভালো। কারণ পরবর্তী সময়টাতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো বেশি জটিল পরিস্থিতিতে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে।

মালিক কর্মচারী তথা শিল্পক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা গুলো খুব নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে সেখানেও আর্থিক ও ব্যবহারিক আচরণকে খুব বেশি মানবিক করার প্রয়োজন হবে।

শ্রম খাতের সকল স্তরে বিশেষ করে যে সকল সেকটরে অশিক্ষিতি বা স্বল্প শিক্ষিত লোকের সংখ্যা বেশি সেখানেও ব্যবহারিক আচরণে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে। যেমন পরিবহন সেকটর।

সেই সাথে পুরো মানব সমাজের মনস্তাত্বিক পরিবর্তন আনায়নের লক্ষে সংস্কৃতি কর্মীদের খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকরি পদক্ষেপের আশু প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে ইতোমধ্যেই।

ভুলে গেলে চলবে না এ রকম অংশদারিত্ব যাদের আছে সকলেই কম বেশি নাগরিক দায়িত্ব মাথায় রেখেই এগুতে হবে। নাগরিক দায়িত্ব নিয়ে উন্নত বিশ্বে গর্বের সাথে মাথা উচু করে হাটতে যে শাখাটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে পারে তা হল একটি দেশের সামাজিক সাংস্কৃতিক অঙ্গ।

আজকের শিল্প সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যারা দেশের জন্য নিবেদিত তাদের উচিৎ হবে খুব শিঘ্রই বাংলা নিজস্ব সংস্কৃতি ২০৪০ এ গিয়ে কেমন ভাবে উপস্থাপিত হবে বিশ্বদরবারে সে লক্ষে সরকারের সাথে এমন কি সরকারের বাইরেও যারা কাজ করছে অর্থাৎ যারা নাগরিক তৈরীতে এবং কল্যানমুখী সমাজ গঠনে প্রকৃত অর্থে কাজ করছেন  তাদেরকে অন্তর্ভূক্তির মাধ্যমে ২০২০-২০৩০ পর্যন্ত সংস্কৃতিকর্মিরা কোন্ পরিকল্পনা অনুযায়ী কিভাবে এ পথ পরিক্রমা বিচরণ করে কাঙ্খিত একটা সাফল্যে পৌঁছুবে  আবার ত্রিশ এ গিয়ে সাফল্য ব্যর্থতার হিসেব কষে পরবর্তী দশ বছরে যেন কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে সে রকম একটা খসড়া রুপরেখা তৈরী করা। সে অনুযায়ী  যদি দেশের সকল সাংস্কৃতিক কর্মীকে অবগত করা যায় তাহলে সকলের প্রচেষ্টায় একটি কাঙ্খিত সাংস্কৃতিক চেতনায় উদ্দীপ্ত নাগরিক সমাজ উপহার দেয়া যেতে পারে; উন্নত বিশ্ব  যাতে সাংস্কৃতিক সুবোধ সম্পন্ন সুন্দর নাগরিক সমাজ উপহার পান।

চরম বাস্তবতায় সরকারি ব্যবস্হাপনায় কিছু শক্ত সিদ্ধান্ত নেবার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে এবং তার সম্ভাবনাও রয়েছে।  নতুন ও সুন্দর আগামীর কল্যানে আমাদেরকে সহনশীল থেকে সরকার কে সাধুবাদ জানিয়ে তা সকলের মঙ্গলে প্রতিটি নাগরিক কে কায়মনবাক্যে সহযোগিতা করতে হবে। কেননা করোনা  শিক্ষায় যে কোন একজন নাগরিকের অবহেলাই যথেষ্ট, নতুন করে সবার প্রতি আঘাত করা। সম্ভাব্য যা চিন্তা করা যেতে পারে-

নতুন করে জন্ম নিয়ন্ত্রণে সাময়িক আদেশ নামা জারি। যৌতুক শব্দই নতুন সংস্কৃতিতে থাকবেনা।বয়স্ক বাবা মা ছেলের বেতনের একটা অংশ সরাসরি বাবা মা' র তহবিলে চলে যাবে সরকারি ভাবেই। শিক্ষা ব্যবস্হা ভীতিকর না হয়ে ছাত্র ছাত্রিদের জন্য মানসিক উৎকর্ষ বিকাশে একটু গুরুত্ব বেশি রেখে সিলেবাস তৈরি এবং তা বন্ধু বৎসল পরিবেশে সুখকর পাঠদানের ব্যবস্হা করা। এ রকম বেশ কিছু সিদ্ধান্ত আংশিক হলেও নতুন করে ভাবতেই পারে কারণ করোনা পরবর্তি পথচলার ক্ষেত্রে সব ভাবনা কেবলমাত্র মানুষের কল্যান মাথায় রেখেই ভাবতে হবে।

ধর্মকর্ম পরিপালনেও কিছু দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনা জরুরী । যারা এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবেন তারা পরিবর্তিত পরিস্থিতিকে মাথায় নিয়ে নতুন করে সকলের কল্যাণ সাধিত হয় এমন বিষয় গুলোকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেবেন। মাইনাসে মাইনাসে প্লাস কে বাদ দিয়ে কেবলমাত্র প্লাসে প্লাসে প্লাস কে অধিক গুরুত্বপূর্ন বিবেচনায় নিয়ে  চর্চা করাটাই বেশি যুক্তিসংগত হতে পারে।কোনভাবেই ধর্মের নামে কোন অধর্ম সমর্থন করার চিন্তাও করা যাবে না। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও সুন্দর মনস্তত্ব গঠনে ধর্মীয় অমিয় বানী অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ এটি মানুষের বিশ্বাসের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।

পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাত্র ছাত্রী বা সন্তানদের কাদা মাটির আদলে পায় বলে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে  অবিভাবক এবং শিক্ষকগণ বাচ্চাদের  সম্ভাবনা ও প্রতিভার বিচারে এবং রাষ্ট্রের প্রয়োজন বিবেচনা করে যে অঙ্গনে যা লাগবে সেইভাবে পরিকল্পিত সুনাগরিক গড়ে তোলার কাজটি নিজের পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে নিতে হবে।

সাংস্কৃতিক কর্মীরা সুনাগরিক এবং সুস্থ ও সুন্দর মানসিক উৎকর্ষ সহায়ক আধারগুলোকে একটু বেশি বিবেচনায় নিয়ে তাদের কর্মকাণ্ডকে প্রজন্মের চলার পথের দিশারী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে উপস্থাপন করবেন সেটা খুবই কার্যকরি হবে। সর্বোপরি সম্প্রীতির উৎকর্ষ সাধনে জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে একাত্ব হয়ে অনুসরণ করার মত উদাহরণ তৈরি করতে হবে। সকলের সমবেত স্বতস্ফূর্ত এগিয়ে আসার চেষ্টা দিয়ে সুস্থ মানুষের আগামী নিশ্চিত করতে হবে; তেমন প্রত্যাশা ও নিবেদন রাখছি।


লেখক - এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার পিপিএম

পুলিশ সুপার, গীতিকবি কন্ঠশিল্পী ও প্রাবন্ধিক। 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads