• শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭
ads
৩৮তম বিসিএসের ফলাফল ও আমাদের ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থা

ফাইল ছবি

মুক্তমত

৩৮তম বিসিএসের ফলাফল ও আমাদের ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থা

  • প্রকাশিত ০২ জুলাই ২০২০

৩৮তম বিসিএসে এবছর ২ হাজার ২০৪ জন প্রার্থীকে ক্যাডার পদের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া নন-ক্যাডারের জন্য আরও ৬ হাজার ১৭৩ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। ঘোষিত ফলাফল অনুসারে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কতজন ক্যাডার হয়েছে, তার পরিসংখ্যান দেখা যাক:-

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩২০+

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২১০+

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৬০+

শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৭০+

বুয়েট থেকে ৬৩+

রুয়েট থেকে ৬২+

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৬০+

কুয়েট থেকে ৪৩+

চুয়েট থেকে ৪১+

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩৮+

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩৭+ 

হাবিপ্রবি থেকে ২৫+

পবিপ্রবি থেকে ২৩+

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৬+

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৬+

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১০+

সরকারী মেডিকেল কলেজগুলো থেকে স্বাস্থ্য ক্যাডার বাদে অন্যান্য টেকনিক্যাল ক্যাডার থেকেই ৩৮+

উল্লেখ্য, পররাষ্ট্র ক্যাডারের ২৫ টি পদের মধ্যে বুয়েট থেকে ৯ জন, মেডিকেল থেকে ৭ জন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২ জন সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

প্রশাসন ক্যাডারসহ প্রায় সবগুলো ক্যাডারেই এ বছর ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিকেল ও কৃষিবিদ ছাত্র-ছাত্রীদের জয়জয়কার।

এই ফলাফল দেশ ও জাতির জন্য অশনি সংকেত বলেই মনে করেন দেশের প্রথিতযশা চিন্তাবিদগন। তাদের মতে, একজন ডাক্তার তৈরি করতে, একজন প্রকৌশলী তৈরি করতে সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে। অথচ পাশ করার পর সেই ছাত্র নিজ পেশায় যুক্ত হবার পরিবর্তে বাংলা, ইংরেজি, সাধারণজ্ঞান পড়ে বিসিএসের জোয়ারে গা ভাসাচ্ছে। এটা দেশের ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শিক্ষার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের সমন্বয়হীনতাকেই নির্দেশ করে।

এভাবেই যদি চলতে থাকে, তবে অদূর ভবিষ্যতে হাসপাতালগুলো ডাক্তারের অভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। দেশের বিভিন্ন কনস্ট্রাকশনের জন্য বিদেশ থেকে প্রকৌশল ভাড়া করে আনতে হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশের রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা।

একজন ছাত্র কেন চিকিৎসা, প্রকৌশল পেশা বাদ দিয়ে বিকল্প অপশন বেছে নিচ্ছে, সরকারকে এখনই তার পেছনের কারণগুলো খুঁজে বের করতে হবে মনে করছেন সবাই। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা খাতে বাজেট না বাড়ালে এবং ছাত্র ছাত্রীরা তার পড়ালেখা অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে না ঢুকতে পারলে, সুযোগ সুবিধা না পেলে বিসিএস সহ অন্য সরকারী চাকরির জোয়ারে গা ভাসানো বন্ধ হবেনা বলেই মনে করেন অধিকাংশ শিক্ষাবিদ। তাদের পরামর্শ, পিএসসিকে এখনই নতুন আইন করে মেডিকেল এবং প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্রছাত্রীদের বিসিএসের টেকনিক্যাল পদগুলোতে ক্যাডার হবার সুযোগ বন্ধ করে দিতে হবে।

লেখক: মোহাম্মদ আহসান হাবীব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads