• সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

মুক্তমত

করোনা সংকট এবং আজকের বাংলাদেশ

  • প্রকাশিত ২২ অক্টোবর ২০২০

খায়রুজ্জামান খান

 

রঙিন মলাটের বই আর কলম হাতে স্কুলে যাওয়ার এই বয়স বিবর্ণ হয়েছে জীবন বাস্তবতার মলাটে। দারিদ্র্যের হার কোন পর্যায়ে নেমে এলে দুবেলা আহারের জন্য এক দুয়ার থেকে অন্য দুয়ারে পাততে হয় হাত! দেশের উন্নয়নে কীভাবে বাধা দূর হবে এমন দেশে?  প্রশ্ন রয়ে যায়।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে দারিদ্র্য নিরসন সম্ভব হয়ে উঠছে না বাস্তবিক অর্থে। তবে উন্নয়নশীল দেশ অনুযায়ী দেশের দারিদ্র্যের হার অনেকাংশে কমে এসেছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতালাভের পর দেশের প্রেক্ষাপট আর বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে কমেছে দরিদ্রতার হার। মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে অর্থনীতিতে চলমান বিপর্যয়ে বাংলাদেশের দারিদ্র্যের হার ১৫ বছর আগের অবস্থানে ফিরে যেতে পারে বলে এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। যেখানে ২০০৫ সালে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪০ শতাংশ। বর্তমানে বাংলাদেশে দারিদ্রে‍্যর হার ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধি যেন না পায় সেজন্য কাজ করে যাচ্ছেন দেশরত্ন শেখ হাসিনা। কোভিড-১৯ বিশ্বের চেনামুখ অচেনা করে ফেলেছে। মানুষ হারিয়েছে তার দৈনন্দিন জীবনের চলাচল। ১১ লক্ষাধিক মানুষ হারিয়েছে প্রাণ। হারিয়েছে চাকরি। অনেকে আবার ফিরতে পারছে না কর্মস্থলে। বেকারত্বের গ্লানি টানতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত লক্ষাধিক মানুষকে। বেকারত্বের হার যেখানে কমতেই চায় না সেখানে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সবকিছু যেন স্তব্ধ। এমন অবস্থায়ও বাংলাদেশের জিডিপিতে প্রবৃদ্ধির হার থেমে নেই। থেমে নেই অর্থনীতির চাকাও। সচল আছে ব্যবসা-বাণিজ্যের চাকাও।

লকডাউন যেখানে নিয়ে এসেছে সব কিছুতে স্থবিরতা, তালা লেগেছে কলকারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। পূর্বেই যেখানে বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ। বর্তমানে কোটি কোটি মানুষের চাকরিহীনতা দেখা দিয়েছে, সেখানে থেমে নেই রেমিট্যান্স যোদ্ধারা। মূলত বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতেই প্রবাসে গমন করে থাকেন লক্ষাধিক মানুষ। বেকারত্বের গ্লানি মুছতেই পাড়ি জমান প্রবাসে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৭ দশমিক ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের নতুন রেকর্ড ছুঁয়েছে বাংলাদেশ। পুনরায় বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পেলে দারিদ্র্য নিরসন কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠবে। এখনই সময় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার। সরকার কর্তৃক কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করতে হবে। মহামারীর সময় দারিদ্র্য নিরসন যেমন প্রশ্ন রয়ে যায়, তেমনই অনাহারে মৃত্যু একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য লজ্জাজনক ব্যাপার হয়ে দাঁড়াতে পারে। যুবসমাজ বেকারত্বের গ্লানি টেনে আত্মহত্যাও করছে।

অনাহারে থেকে অনেক শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। অপুষ্টিজনিত রোগে মারা যাচ্ছে অনেকে। দেশের উন্নয়নে বর্তমান করোনা সংকটকালীন সময়ে পোশাক শিল্প, রেমিটেন্স যোদ্ধা, ওষুধ শিল্পের পাশাপাশি ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পে জোর প্রদান করতে হবে। রেমিটেন্স যোদ্ধাদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। লক্ষাধিক মানুষ ফিরতে পারছেন না কর্মস্থলে, আবার অনেকে চাকরিচ্যুৎ হয়েছেন। এদের জন্য ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশে যেন একটা কর্মস্থল গড়ে তুলতে পারেন। আকামা, ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধিতে জোর দিতে হবে। পোশাক শিল্পে কর্মীদের সঠিক বেতন ও ভাতা প্রদানের নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে। এ দিকে বন্ধ হয়ে গিয়েছে পাট কারখানা। এই চাকরিচ্যুৎ পাট-শ্রমিকদের শুধু দেনা-পাওনা বুঝিয়ে দিলেই চলবে না; বরং বেকার, চাকরিচ্যুৎ হাজার হাজার শ্রমিকের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।

পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিংহভাগ শিক্ষার্থী টিউশনির মাধ্যমে তাদের পড়ালেখার খরচের পাশে পরিবারকেও আর্থিক সহায়তা করে থাকেন। দীর্ঘ সাত মাস বন্ধ থাকায় তারাও টিউশনি করাতে পারছেন না। যার ফলে তাদের দেখা দিয়েছে আর্থিক অসচ্ছলতা। অনেকে না পেরে ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করছেন। সেখানে যদি স্বল্পমূল্যে ঋণ প্রদান করা হয় তাদের কষ্টটা লাঘব হবে অনেকাংশে।  বেকারত্বের গ্লানি টানতে হবে না অনেকের। এখনই সময় দারিদ্র্য নিরসনের। সঠিক পরিকল্পনা, সঠিক মূল্যায়ন, প্রণোদনা সহায়তা দিতে হবে। দারিদ্র্য নিরসনে বাজেট  প্রদান করে যথোপযুক্ত বণ্টন করতে হবে।

সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্যোগে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে একত্রিত করে নাগরিক আন্দোলনের মাধ্যমে দারিদ্র্য ও বৈষম্যকে রুখে দিতে হবে। আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে একটি ক্ষুধা ও দরিদ্রমুক্ত দেশ, সেই প্রত্যাশা নিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণে এখনই কাজ করার উপযুক্ত সময়। এখন আমাদেরকে সেদিকেই দৃষ্টি দিতে হবে।

 

লেখক : শিক্ষার্থী , ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads