• শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ৪ বৈশাখ ১৪২৮

মুক্তমত

নদী রক্ষায় আমাদের যা ভাবা দরকার

  • প্রকাশিত ১৭ জানুয়ারি ২০২১

সিরাজুল হোসাইন

 

 

 

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এ দেশের আনাচে-কানাচে রয়েছে অসংখ্য নদী-নালা এবং খাল-বিল। রয়েছে আরো আন্তর্জাতিক নদীসমূহ। প্রত্যেকটি দেশের জন্য নদীগুলো তার দেশের গৌরবের, ঐতিহ্যের। এটি পৃথিবীর ইতিহাসে বৃহত্তম ব-দ্বীপ খ্যাত দেশ, যার অধিকাংশ ভূমি গঠিত হয়েছে পলিমাটি থেকে। আর এই পলিমাটির উর্বরতা শক্তি অনেক বেশি। যা তার উর্বরতা শক্তি  ধরে রাখতে পারে শতাব্দীর পর শতাব্দী। আর পলিমাটি গঠনে প্রধান ভূমিকা পালন করে এ দেশের নদ-নদী। নদীতে পলিমাটি বহন করে উর্বর ভূমিতে রূপান্তর করে। শুধু তাই নয়, বরং এ দেশের  নদীগুলো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রধান ভূমিকা পালন করে আসছে। আদিকাল থেকেই মানুষের প্রধান জীবিকা ছিল কৃষি, যেখানে মূল ভূমিকায় ছিল নদ-নদী। নদী এ দেশে জালের মতো বিস্তৃত।  দেশের অর্থনীতি, শিল্পনগরী, রাজধানী, শহর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আইন-আদালত গড়ে উঠেছিল নদীকে কেন্দ্র করে। এক সময় বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলকে বলা হতো ‘শস্যভান্ডার’, বিশেষ করে বাংলাদেশের বরিশাল অঞ্চলকে। একটি প্রবাদ বাক্য আছে বরিশাল সম্পর্কে-‘ধান-নদী- খাল, এই তিনে বরিশাল।’ এখানেও নদীর ভূমিকাকে বুঝিয়েছেন। এ দেশের উত্তরের নদীগুলো দিন দিন পানিশূন্য হয়ে যৌবন হারিয়ে ফেলছে। কিন্তু এই স্বল্প পানি বহন করে পলিমাটি, যা মাটির উর্বরতাকে বৃদ্ধি করে যৌবন বৃদ্ধি করে বাংলার কৃষি ভূমিকে। যে পানি অব্যবহূত থেকে যায় তা গিয়ে মিশে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের মোহনায় এবং তৈরি করে নতুন নতুন ভূমি।

নদীর অপার উপাদান হলো ইলিশ। যা রপ্তানি করে দেশের অনেক সুনাম ও প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে। এ ছাড়া রয়েছে নানা প্রজাতির মাছ এবং সম্পদ। কৃষি তথ্যমতে, এ দেশ চাল উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ, সবজিতে তৃতীয়, মাছে চতুর্থ ইত্যাদি। এসব সফলতার পেছনে রয়েছে এদেশের নদ-নদী। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, আমাদের নদ-নদীগুলো এত গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও, বিভিন্ন মহলের অপব্যবহার এবং অযত্নে-অবহেলায় মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে‌। এদিকে সরকারের মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন জায়গায় খাল ভরাট করে রাস্তা ফোর-লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। উন্নয়নমূলক প্রকল্পের নাম দিয়ে নদী ও খাল-বিল ভরাট করা হচ্ছে এবং অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিশেষজ্ঞরা আরো কয়েকটি বিষয়কে দায়ী করেন। যেমন, নদীর গতিপথ পরিবর্তন, নদীর ওপর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ, শিল্প-কারখানার বর্জ্য, নদী ভরাট করা ইত্যাদি। জাতীয় নদী কমিশনের একটি তথ্য অনুযায়ী, এক সময় দেশে ১২শ’র বেশি নদ-নদী ছিল। বর্তমানে সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৫০টিতে। এর মধ্যে আবার ১৫৩ মরে যাওয়ার পথে।

জাতির এই সংকটলগ্নে এসে আমাদের দেশের নদীগুলো নিয়ে ভাবতে হবে। যেহেতু  এই দেশ নদীমাতৃক  এবং কৃষিনির্ভর, তাই এ দেশের নদনদীকে রক্ষা করা সরকার এবং প্রশাসনের পাশাপাশি সকলের একান্ত কর্তব্য। তাই সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। শিল্প-কারখানা ও মানুষ সৃষ্ট বর্জ্য থেকে নদীকে রক্ষা করতে হবে। নদীর সীমানা রক্ষায় সার্ভে গঠন করে কার্যকর ভূমিকা পালন করা এবং নদীবান্ধব অর্থনীতি ও যোগাযোগ চালু করা। নদীগুলোকে অবৈধ স্থাপনা থেকে রক্ষা করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় কাজে নদী ভরাট না করা এবং এ বিষয় জনসচেতনতামূলক কেম্পেইন করা। যার ফলে এ দেশের নদীর প্রাণ ফিরে আসবে। আর এ দেশ গড়ে উঠবে সমৃদ্ধিশীল দেশ হিসেবে।

 

লেখক : শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা কলেজ, ঢাকা

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads