• বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫
ads
সরকার স্বাস্থ্য খাতের দায়িত্ব নিতে অক্ষম

বাজেটে কমছে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ

সংগৃহীত ছবি

স্বাস্থ্য

চার সংগঠনের মূল্যায়ন

সরকার স্বাস্থ্য খাতের দায়িত্ব নিতে অক্ষম

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৬ জুন ২০১৮

বাজেটে প্রায় সব খাতে বরাদ্দ কম-বেশি বাড়লেও কমছে স্বাস্থ্য খাতে। কারণ যারা এ খাতের বরাদ্দ নির্ধারণ করেন তারা দেশে চিকিৎসা করান না। একযুগ আগে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ০৩ শতাংশে। এ খাতে সরকার বছরে মাথাপিছু ব্যয় করে ৮০০ টাকা, কিন্তু রোগ নিরাময়ে প্রয়োজন ৪৮০০ টাকা। সবদিক বিবেচনায় এটাই পরিলক্ষিত হয় যে, সরকার এ খাতের দায়িত্ব নিতে এখনো অক্ষম। এ বাজেটে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা সম্ভব নয়।

 গতকাল প্রস্তাবিত বাজেট প্রতিক্রিয়া জানাতে স্বাস্থ্য খাতের চার সংগঠন এমন মূল্যায়নের কথা জানিয়েছে। সংগঠনগুলো জানায়, প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের মাথাপিছু বরাদ্দের পরিমাণ ১ হাজার ৪৬১ টাকা, যা আগের সময় ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তুলনা করলে খুবই কম।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ওই সংবাদ সম্মেলনের যৌথ আয়োজক ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), জাতীয় স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলন ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট (ডব্লিউবিবি)। যার সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য ও জাতীয় স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই মাহবুব।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার যে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার কথা বলে আসছিল তা পূরণ কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এ খাতের বাজেট এত কম কেন? তারও একটা কারণ রয়েছে। কারণ এটা কোনো প্রোডাকটিভ খাত নয়। সরকার এ খাতে যা বরাদ্দ দেয় সবই ওয়েস্টেজ মনে করে। এমনভাব থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, যারা এ খাতের বরাদ্দ নির্ধারণ করেছে তারা তো দেশে চিকিৎসা করেন না। তারা বুঝবেন কীভাবে? তাদের কারণে চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে প্রতিদিন কত পরিবার যে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে তার হিসেব নেই।

রশিদ-ই মাহবুব বলেন, এ দেশের চিকিৎসকরা অদক্ষ নয়। কিন্তু সুবিধার অপ্রতুলতার কারণে তাদের বিদেশ গিয়ে অন্যের সেবা করতে হচ্ছে।

সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের সভাপতি অধ্যাপক এম আবু সাঈদ। তিনি বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে অসুস্থতা নিরসনে সরকারের ভূমিকা দিন দিন কমছে। স্বাস্থ্য খাতে সরকার বছরে মাথাপিছু ব্যয় করে ১০ ডলার বা ৮০০ টাকার কিছু বেশি। কিন্তু জনপ্রতি বর্তমানে রোগ নিরাময়ে ৬০ ডলার বা ৪৮০০ টাকা প্রয়োজন। আমাদের দেশের মানুষ নিজে থেকে আরো ৩০ ডলার খরচ করতে পারে। বাঁকি ২০ ডলারের জন্য ৫ কোটি দরিদ্র মানুষকে দেনাগ্রস্ত হয়ে জীবন যাপন করতে হচ্ছে। এ দায় সরকারের। তিনি বলেন, চিকিৎসা করতে গিয়ে যত মানুষ দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে বাজেটে তা উত্তরণের কোনো নির্দেশনায় নেই।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বাপার সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন, ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, জাতীয় স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের সদস্য সচিব নিতাই দাস প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সমাধানে ১৯ দফা সুপারিশ পেশ করা হয়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads