• মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫
ads
এক ঘণ্টার ব্যায়ামে কাটবে দীর্ঘসময় বসে থাকার ক্ষতি

ছবি : ইন্টারনেট

স্বাস্থ্য

এক ঘণ্টার ব্যায়ামে কাটবে দীর্ঘসময় বসে থাকার ক্ষতি

  • এস এম মুকুল
  • প্রকাশিত ০৮ নভেম্বর ২০১৮

নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বসে থাকার কারণে যে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়, তা হ্রাসে ব্যক্তির শারীরিক সক্রিয়তা বা ব্যায়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১০ লাখেরও বেশি মানুষের ওপর পরিচালিত এ-বিষয়ক ১৬টি গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয় দ্য ল্যানসেট জার্নালে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের শরীরচর্চার মাত্রা অনুযায়ী কয়েকটি দলে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে দিনে ৫ মিনিট ব্যায়াম করেন এমন ব্যক্তি যেমন রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন দিনে ৬০ মিনিট ব্যায়ামে অভ্যস্ত ব্যক্তিও। এক্ষেত্রে মধ্যম মাত্রার ব্যায়ামে অভ্যস্তদেরই শুধু বিবেচনায় নেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, মধ্যম মাত্রার ব্যায়াম বলতে এ গবেষণায় ঘণ্টায় সাড়ে তিন মাইল বেগে হাঁটা বা ঘণ্টায় ১০ মাইল বেগে সাইকেল চালনাকে বোঝানো হয়েছে। এতে দেখা যায়, দৈনিক ৬০-৭৫ মিনিট মাত্রার ব্যায়ামে বসে থাকার কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুলাংশে হ্রাস পায়। অনেক ক্ষেত্রে এটি এই ঝুঁকি সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করে।

গবেষকদের মতে, অক্রিয় ব্যক্তিদের মধ্যে আগাম মৃত্যুঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। সক্রিয়দের তুলনায় এ ধরনের মানুষের মৃত্যুঝুঁকি ২৮ থেকে ৫৯ শতাংশ বেশি। আগাম মৃত্যুঝুঁকির দিক থেকে এটি ধূমপান ও স্থূলতার মতোই ভয়াবহ।

প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী অন্তত পাঁচ লাখ মানুষ মারা যায় শুধু প্রয়োজনীয় কায়িক শ্রমের স্বল্পতা থেকে সৃষ্ট রোগের কারণে। উন্নত বিশ্বে পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এসব দেশের প্রাপ্তবয়স্কদের অধিকাংশই দিনের বেশির ভাগ সময় বসে কাটান। উচ্চ আয়ের একজন ব্যক্তি দিনের বেশির ভাগ কাজই করেন বসে। গড়পড়তা সবার প্রাত্যহিক রুটিন হচ্ছে গাড়ি চালিয়ে অফিস যাওয়া, সেখানে বসে কাজ করা, তার পর গাড়ি চালিয়ে ঘরে এসে সোফায় বা আরামদায়ক কোনো কিছুতে শুয়ে-বসে টিভি দেখা। অর্থাৎ উন্নত বিশ্বের অধিকাংশ ব্যক্তিই দিনের বেশিরভাগ সময় কাটান কায়িক শ্রম ছাড়াই। বিষয়টি বাংলাদেশের উচ্চমধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। অথচ শরীরচর্চা-বিষয়ক গাইডলাইনের হালনাগাদ তথ্য বলছে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শরীরচর্চা করা উচিত।

গবেষক দলের সদস্য ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের এপিডেমিওলজির অধ্যাপক উলফ একেলান্ড বলেন, অক্রিয় জীবনযাপনের কারণে বহু ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির সৃষ্টি হয়। আমরা এক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক বার্তা দিতে চাই, আর তা হচ্ছে এ ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এমনকি সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলাও যেতে পারে। এমনকি জিম বা কোনো খেলাধুলায় অংশ না নিয়েও দৈনিক কিছু ব্যায়ামের মাধ্যমে এটি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

— সায়েন্সডেইলি অবলম্বনে এস এম মুকুল

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads