• শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ নয়

অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ

ছবি : সংগৃহীত

স্বাস্থ্য

প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ নয়

  • প্রকাশিত ২০ ডিসেম্বর ২০১৮

মানুষ অসুখ হলে চিকিৎসকের কাছে যায়। চিকিৎসক রোগীর ইতিহাস শুনে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ওষুধের ব্যবস্থাপত্র বা প্রেসক্রিপশন দেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রেসক্রিপশনে চিকিৎসক যে ওষুধের নাম লিখে দেন, ওগুলোই বিক্রেতা বা ফার্মাসিস্টের সরবরাহ করা উচিত। এ নিয়ম না মেনে অনেকে রোগীর চাহিদা অনুযায়ী প্রেসক্রিপশন ছাড়া ইচ্ছেমতো ওষুধ বিক্রি করছেন।

চিকিৎসকের নির্দেশনা ছাড়া ওষুধ খেয়ে রোগীদের রোগ ভালো না হয়ে বরং তা আরো জটিল হতে পারে। এমনকি ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মারাত্মক স্বাস্থ্যহানির ঘটনাও ঘটছে। এভাবে অবাধে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বিক্রি অব্যাহত থাকলে দেশের জনস্বাস্থ্য চরম হুমকির মধ্যে পড়বে। এমনকি এক রোগের ওষুধ খেতে গিয়ে অন্য আরেকটি রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও অস্বাভাবিক নয়। নিয়মমাফিক ওষুধ না খেলে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। অনেক সময় দেখা যায়, ভুল ওষুধ সেবন করে ভুক্তভোগীর কিডনি, হূৎপিণ্ড, পাকস্থলী, মস্তিষ্ক এমনকি অন্য যে কোনো অঙ্গহানির মতো জটিল সমস্যাও হতে পারে। ওষুধ বিক্রেতা আর ক্রেতা, দুই পক্ষেরই উপলব্ধি করা দরকার যে ওষুধ কোনো ভোগ্যপণ্য নয়। বরং বলা যায়, ওষুধ একধরনের রাসায়নিক দ্রব্য, যা সঠিকভাবে ব্যবহার করলে যেমন জীবন বাঁচাতে পারে, তেমনি অপব্যবহারে মারাত্মক বিষে পরিণত হতে পারে। এমনকি ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠতে পারে। প্রেসক্রিপশন ছাড়া যাতে কোনো ওষুধ বিক্রি না করা হয়, সে ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। ওষুধ বিক্রিসংশ্লিষ্ট বিষয়াদির ওপর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। আইন লঙ্ঘনকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। অপচিকিৎসা, কুচিকিৎসা, তাবিজ-কবচ, ঝাড়ফুঁক ইত্যাদি অবৈজ্ঞানিক পন্থায় সব রকমের চিকিৎসার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ কথা ঠিক যে, কিছু কিছু সাধারণ ওষুধ পৃথিবীর অনেক দেশেই প্রেসক্রিপশন-বহির্ভূতভাবে ক্রয়-বিক্রয় করা যায়। এ-জাতীয় ওষুধগুলোকে বলে ‘ওভার দ্য কাউন্টার বা ওটিসি ড্রাগ’। শুধু ওই জাতীয় ওষুধগুলো বিক্রেতারা বিক্রি করতে পারেন। জনগণকেও অবশ্যই এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে যেন তারা অপচিকিৎসাকারীদের কাছে ছুটে না যান। শুধু চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে ওষুধ কিনে সেবন করবেন না। শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি এবং গর্ভাবস্থায় অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ আরো জরুরি।

বাংলাদেশের চিকিৎসাবিদ্যায় মেডিকেল শিক্ষায় শিক্ষিত চিকিৎসক যেমন আছেন, তেমনি আছেন অর্ধশিক্ষিত কিংবা অশিক্ষিত তথাকথিত চিকিৎসক, কবিরাজ ও ওঝা। এ ছাড়া আছে তাবিজ-কবচ বা ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে চিকিৎসার নানা রকম ফন্দিফিকির। আবার অনেক ওষুধ বিক্রেতাও চিকিৎসকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে নিজের ইচ্ছেমতো ওষুধ বিক্রি করেন। নিজেরাও চিকিৎসাবিষয়ক পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এর ফলে ভুক্তভোগী হতে হচ্ছে অনেক সাধারণ মানুষকে। পাশাপাশি ফুটপাতেও ওষুধ বিক্রি হয় ফেরি করে। সাধারণ ওষুধ থেকে শুরু করে অ্যান্টিবায়োটিকও সহজলভ্য সেখানে। অ্যান্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্সের প্রকোপও আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে।

রোগ আর ওষুধের সঙ্গে মানুষের বাঁচা-মরার সম্পর্ক। যে কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা জটিলতা থাকতে পারে, যা একজন চিকিৎসকই বলতে পারবেন।

 

অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ

ডিন, মেডিসিন অনুষদ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads