• শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬
ads
প্রতিরোধে প্রয়োজন সচেতনতা

ফাইল ছবি

স্বাস্থ্য

বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ

প্রতিরোধে প্রয়োজন সচেতনতা

  • এস এম মুকুল
  • প্রকাশিত ১৮ জুলাই ২০১৯

এখন ভর বর্ষাকাল। রাজধানীতে হঠাৎ বেড়ে গেছে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ। সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গু। প্রতিদিনই হাসপাতালে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত ধরন পাল্টে জটিল হয়ে উঠছে ডেঙ্গু। এজন্য সচেতনতার অভাবকেই দায়ী করছেন নগরবাসী। অসচেতনতার কারণেই ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটছে। আবার আমরা একটু সচেতন হলে ডেঙ্গুর প্রকোপ এড়ানো সম্ভব। চিকিৎসকরা জানান, বর্ষার সময় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে। এ সময় একদিনের বেশি জ্বর থাকলেই চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ডেঙ্গুর ভাইরাসবাহী মশা কামড়ানোর চার থেকে সাত দিন ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গ স্পষ্টভাবে দেখা দেয়। এ রোগের কিছু সাধারণ উপসর্গ হলো জ্বরের তাপমাত্রা সাধারণ ভাইরাস জ্বরের তুলনায় অনেক বেশি। ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। বিরামহীন মাথাব্যথা, হাড় ও হাড়ের জোড়পেশিতে তীব্র ব্যথা, বমি ভাব, বমি হওয়া, গ্রন্থি ফুলে যাওয়া, সারা শরীরে ফুসকুড়ি, চোখের পেছনে ব্যথা ইত্যাদি। চিকিৎসকদের মতে, জ্বর ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটের নিচে থাকলে ৬ ঘণ্টা পরপর প্যারাসিটামল খান, ১০২-এর উপরে গেলে প্যারাসিটামল সাপোজিটরি দিন। বেশি বেশি ডাবের পানি, খাওয়ার স্যালাইন ও ফলের জুস খান। এ সময় খাওয়ার রুচি অনেক কমে যাবে, তবু জোর করে হলেও খেতে হবে। প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোনো ব্যথার ওষুধ খাবেন না। কারণ ব্যথানাশক খেলে রক্তক্ষরণ হতে পারে, এমনকি মৃত্যু হতে পারে। প্যারাসিটামল জ্বর এবং শরীর ব্যথায় কার্যকর ওষুধ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি প্রথমবার আক্রান্ত হন এবং এটি যদি তরুণ বয়সে অথবা শিশুদের হয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোনো উপসর্গ থাকে না। এমনকি তেমন জ্বরও থাকে না। টিপিক্যাল ডেঙ্গু/ ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গুতে জ্বরের সঙ্গে সর্দি-কাশি থাকতে পারে।

ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের উপসর্গ হলো শ্বাস-প্রশ্বাসে অসুবিধা হওয়া কিংবা শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বেড়ে যাওয়া। ত্বক শীতল হয়ে যাওয়া, ত্বকের ভেতরের অংশে রক্তক্ষরণের কারণে ত্বকের ওপর লাল ছোপ সৃষ্টি হওয়া। বমি, মল কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া, প্রচণ্ড পেটব্যথা ও অনবরত বমি হওয়া, নাক ও দাঁতের মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণ ও অবসাদ। সাধারণত এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে ডেঙ্গু সেরে যায়। তবে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়তে পারে। এসব ক্ষেত্রে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এই জটিল পরিস্থিতিগুলো হলো ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার ও ডেঙ্গু শক সিনড্রোম।

ডেঙ্গু হলে খাদ্যতালিকায় রাখুন প্রচুর পানি ও তরল খাবার

কামান দিয়েও যখন মশা নিধন করা যাচ্ছে না, তখন নিজেদেরই উদ্যোগী হতে হবে; সতর্ক হতে হবে। মশার আবাসস্থল ধ্বংস করতে হবে। কারণ ডেঙ্গু হলে কী পরিণতি হতে পারে সেটা আমরা সবাই জানি। প্রয়োজন ডেঙ্গু জ্বরের মারাত্মক উপসর্গগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা। তাহলেই প্রাণহানির আশঙ্কা শূন্যে নামিয়ে আনা যেতে পারে।

ডেঙ্গু হলে রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা কমে যায়। সেই সঙ্গে ডায়রিয়ার কারণে ডিহাইড্রেশন হয়। এই রোগে শরীরে প্রচুর পানির প্রয়োজন। ডেঙ্গু হলে তাই শিশু, প্রাপ্তবয়স্ক সবারই খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণ পানি বা তরল খাবার রাখা প্রয়োজন। জেনে নিন কী কী তরল খাবার রাখবেন খাদ্যতালিকায়-

১. শুধু যে ডায়রিয়া হলে ডিহাইড্রেশন হয় তা নয়, ডেঙ্গু জ্বর হলেও ডিহাইড্রেশনের মাত্রা বেড়ে যায়। তাই জ্বর হলে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।

২. বমি বমি ভাব থাকলে বাচ্চারা পানি খেতে চায় না। সে ক্ষেত্রে তাদের অল্প অল্প করে বার বার পানি দিতে হবে।

৩. পানির পাশাপাশি লেবুর শরবত, টাটকা ফলের রস, স্যুপ, হালকা লিকার চা, ডাবের পানিসহ পর্যাপ্ত লিকুইড ডায়েট প্রয়োজন।

৪. বাড়িতে রান্না করা টাটকা ও হালকা সব ধরনের খাবারই খাওয়া যায়।

৫. প্রতিটি ছোট-বড় খাবারের সঙ্গে পানি বা শরবত খেলে ভালো হয়।

৬. পানি পানের ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটা নির্দেশিকা আছে। শরীরের প্রতিকেজি ওজন পিছু একজন ডেঙ্গু আক্রান্তের প্রত্যেক ঘণ্টায় ৭ মিলিলিটার লিকুইড গ্রহণ করা উচিত।

৭. এই নির্দেশিকা অনুযায়ী একটি ২০ কেজি ওজনের বাচ্চার প্রত্যেক ঘণ্টায় ন্যূনতম ১৪০ মিলিলিটার পানি বা জলীয় খাবার খেতে হবে।

৮. ৫০ কেজি ওজনের প্রাপ্তবয়স্কের মানুষের ৩৫০ মিলিলিটার পানি, শরবত বা স্যুপ খাওয়া জরুরি।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads