• সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬
ads
মাথাব্যথা ও দাঁতের সমস্যা

ছবি : সংগৃহীত

স্বাস্থ্য

মাথাব্যথা ও দাঁতের সমস্যা

  • প্রকাশিত ০১ আগস্ট ২০১৯

কথায় বলে যার মাথা আছে তার ব্যথাও আছে। অর্থাৎ মাথা থাকলে ব্যথাও থাকবে। বিজ্ঞানীদের মতে, মাথার ব্যথা অন্যান্য কারণেও হতে পারে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে বেশির ভাগ মাথাব্যথার কারণ শুধু মাথার অসুস্থতার কারণেই হয় তা সঠিক নয়। শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অসুস্থতার কারণেও মাথাব্যথা হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ নাক, কান, গলা অথবা মুখের ভেতরের বিশেষ কোনো রোগের কারণে মাথাব্যথা হতে পারে।

মুখের ভেতরের যেসব কারণে মাথাব্যথা হতে পারে সেগুলোর মধ্যে মাড়ির প্রদাহ বা পেরিওডেন্টাল ডিজিজ ও দন্তক্ষয় বা ডেন্টাল ক্যারিজ-এর প্রদাহজনিত রোগ পালপাইটিস ও আক্কেল দাঁত বা উইজডম দাঁতের অসমান অবস্থানের কারণে জটিলতা, মুখের ভেতরের বিভিন্ন ধরনের ক্ষত বা ঘা, আঘাতজনিত কারণে চোয়ালের বা দাঁতের ফ্র্যাকচার, বিভিন্ন ধরনের মিছ এবং টিউমার। দাঁতের ও মুখের এই ধরনের রোগ বা অসুস্থতা অনেক সময় কানে বা গলার ব্যথার কারণ হতে পারে। তবে বিশেষ যে একটি রোগের কারণে মাথার ব্যথা বেশি হয় সেটি হলো উইজডম দাঁত বা আক্কেল দাঁতের বেয়াক্কেল অবস্থানের কারণে। অর্থাৎ আক্কেল দাঁত তার সঠিক অবস্থানে না থেকে বাঁকা হয়ে কখনো পাশের দাঁতের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, কখনো বা বাঁকা অবস্থানের কারণে ওপরের দিকে বেরিয়ে আসতে না পেরে স্থানীভাবে প্রদাহ সৃষ্টি করে। এছাড়া বাঁকা বা অসমান অবস্থানের কারণে পাশের দাঁতে দন্তক্ষয়জনিত প্রদাহ (পালপাইটিস) থেকেও মাথাব্যথা হতে পারে। আরো একটি বিশেষ কারণে মাথাব্যথা হতে পারে সেটা হলো, ট্রাইজিমিনাল নিউরেলজিয়া, যা স্নায়ুরোগ হিসেবেই চিহ্নিত, কিন্তু এক্ষেত্রেও প্রচণ্ড মাথাব্যথা হতে পারে যদিও তা কয়েক সেকেন্ডের জন্য। তাছাড়াও মাথাব্যথার আরো কিছু কারণ আছে যা অন্যান্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ব্যবস্থাপত্র দিয়ে থাকেন।

এ প্রসঙ্গে একজন রোগীর কথা বলা প্রয়োজন, তার দীর্ঘদিন যাবৎ মাথাব্যথা নিয়ে বিখ্যাত বিশেষজ্ঞ সব ডাক্তারের কাছে পরামর্শ নিয়েই চলছেন কিন্তু মাথাব্যথা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যায় না।

এমনকি এমআরআই আর সিটিস্ক্যান পর্যন্ত করা হয়েছে, কিছুতেই কমছে না। ব্যথার ওষুধ খেয়ে খেয়ে তিনি ইতোমধ্যে দেহের অনেক ক্ষতি করেছেন, বিশেষত লিভারের সমস্যা দেখা দিয়েছে। কোনোভাবেই যখন তার মাথাব্যথা কমছে না তখন প্রতিবেশী একজনের পরামর্শে দাঁতের ডাক্তারের কাছে আসেন, কারণ সেই প্রতিবেশী ভদ্রলোক একই কারণে একজন ভুক্তভোগী। পরবর্তীতে তার দাঁতের ডাক্তার এক্সরের মাধ্যমে শনাক্ত করেন একটি আক্কেল দাঁতের অসমান অবস্থানকে।

আক্কেল দাঁতের এই বাঁকা অবস্থানের কারণে পার্শ্ববর্তী দাঁতের ওপর ক্রমাগত একটি চাপ সৃষ্টি, সেই সঙ্গে ঐ স্থানে দীর্ঘদিনের ডেন্টাল ফ্লক জমা থাকার কারণে সৃষ্ট ডেন্টাল ক্যারিজজনিত পালপাইটিসই ছিল তার দীর্ঘদিনের মাথাব্যথার মূল কারণ। পরবর্তীতে তার সেই আক্কেল দাঁতের উৎপাটন ও ডেন্টাল ক্যারিজ আক্রান্ত দাঁতের রুট ক্যানেল চিকিৎসাই তাকে মাথাব্যথা থেকে মুক্ত করে। এমন অনেক ঘটনাই মানুষকে মাথাব্যথা থেকে রেহাই দিতে পেরেছে। তাই মাথাব্যথার কারণ বের করতে একজন রোগীর সম্পূর্ণ ইতিহাস যেমন জরুরি তেমনি মুখের ভেতরকার সকল দাঁতের সুস্থতা ও সেই সঙ্গে মাড়ি ও পারিপার্শ্বিক স্বাভাবিক অবস্থাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে বলা প্রয়োজন, আমরা অনেক সময়ই মুখের ভেতরের অবস্থা খালি চোখে দেখে নিরূপণ করতে পারি না তাই প্রয়োজন হয় একে সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষার-নিরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা। তবে সাধারণ এই মাথাব্যথা থেকে মুক্ত থাকতে আমাদের নিয়মিতভাবে দাঁতের যত্ন যেমন নিতে হবে তেমনি বছরে অন্তত ২ বার একজন ডেন্টাল সার্জনকে দিয়ে মুখ ও দাঁত পরীক্ষা করাতে হবে এবং ক্যারিজ, মাড়ির প্রদাহ ও মুখের ক্ষত বা ঘায়ের মতো রোগকে গুরুত্ব সহকারে ফিলিং, স্কেলিং ও কারণসমূহকে নির্মূল করতে হবে। তাহলে মাথাব্যথা যেমন থাকবে না, তেমনি অন্যান্য সমস্যাও থাকবে না।

 

অধ্যাপক ডা. অরূপ রতন চৌধুরী

লেখক : বিশেষজ্ঞ দন্ত চিকিৎসক

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads