• বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬
ads
এডিস মশা থেকে মুক্তির প্রাকৃতিক উপায়

ফাইল ছবি

স্বাস্থ্য

এডিস মশা থেকে মুক্তির প্রাকৃতিক উপায়

  • প্রকাশিত ২৯ আগস্ট ২০১৯

কিছু কিছু রোগ আছে যাদের বেলায় প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। ডেঙ্গু সেরকম একটি রোগ। অসচেতনতায় যেকোনো রোগই ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে। ডেঙ্গু যেহেতু মশার মাধ্যমেই ছড়ায় আর সে মশা সাধারণত ঘরেই থাকে, তাই নিজের ঘর-দুয়ার নিজেকেই পরিচ্ছন্ন রাখতে হয়।

এডিস মশা জমে থাকা অতি অল্প পানিতে বাসা বাঁধে, ডিম পাড়ে এবং বংশ বিস্তার করে। সে হিসেবে বলা যায়, ঘরের অ্যাকোয়ারিয়াম, ফুলের টব, ছাদে গাছের টব, এসির পানি, ফ্রিজের নিচে জমা পানি, ছোট পাত্রে জমা পানি খুবই উপযোগী এডিস মশার বংশ বিস্তারে। তাছাড়া ঘরের পাশের ছোট নালাতে সে বাসা বাঁধে। এডিস মশার ডিম ফুটে যে বাচ্চা এডিস বের হয় তার নাম লার্ভা। এসব লার্ভা পাত্রের পানিতে চ্যাংদোলা বা ল্যাজদোলা হয়ে ঝুলে থাকে। তাদের লেজ থাকে ওপরে, মাথা থাকে নিচে। লেজের ওপরে থাকে ছিদ্র এবং ছিদ্র দিয়ে পানির উপরিতল থেকে সে শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়। সুতরাং ভালো হলো এসব জমে থাকা পানি ফেলে দেওয়া এবং পুনরায় এসব স্থানে জমতে না দেওয়া। আর যদি তা সম্ভব না হয় তবে ইনসেক্টিসাইড স্প্রে করা। তবে গৃহস্থালির কিছু উপায় আছে যার মাধ্যমে লার্ভাকে সাময়িক ধ্বংস করা যায়।

অয়েল : তৈল পানির চেয়ে হালকা। তাই সামান্য তেল পানিতে ছেড়ে দিলে তা পানির ওপর একটা পাতলা আবরণ তৈরি করে ফলে লার্ভা শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে মারা পাড়ে। অলিভ ওয়েল, ভেজিটেবল ওয়েল, নিমের তৈল, ইউক্যালিপটাস তৈল এতে উপকারী।

ভিনেগার : পরিমিত মাত্রার ভিনেগার সলিউশন এডিস মশার লার্ভাকে ধ্বংস করে। মাত্রা হবে ৮৫ ভাগ পানি ও ১৫ ভাগ ভিনেগার।

লিকুইড সোপ : বাসন ধোবার লিকুইড সোপ অল্প পরিমাণে জমে থাকা পানিতে ছেড়ে দিলে লার্ভা মরে যায়।

ব্লিচিং পাউডার : ব্লিচিং পাউডার যদিও স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ তবে এক চামচ ব্লিচিং পাউডার এক গ্যালন পানিকে এডিস লার্ভা মুক্ত রাখতে পারে।

কেরোসিন তৈল : পূর্বে সচেতন গ্রামের মানুষ বাসাবাড়ির আঙিনায় বা আশপাশে নালা-নর্দমার মশা-মাছি, কীট-পতঙ্গ, সাপ-বিচ্ছি তাড়াতে কেরোসিন ছিটিয়ে দিতেন। তবে সেটাও স্বাস্থ্যসম্মত নয়।

মাছের চাষ : কিছু মাছ আছে যাদের খাদ্য মশার লার্ভা। যেমন, কই মাছ। সুতরাং আশপাশে পুকুর-ডোবা, নালার মশা-মাছি ধ্বংস করতে কই মাছ ছেড়ে দেওয়া যায়। তবে প্রাকৃতিক এসব উপায় কয়েকটি পরিবেশবান্ধব হলেও দীর্ঘমেয়াদি হিসেবে খুব একটা কার্যকর নয়।

কিছু কিছু রোগ আছে যাদের বেলায় প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। ডেঙ্গু সেরকম একটি রোগ। অসচেতনতায় যেকোনো রোগই ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে। ডেঙ্গু যেহেতু মশার মাধ্যমেই ছড়ায় আর সে মশা সাধারণত ঘরেই থাকে, তাই নিজের ঘর-দুয়ার নিজেকেই পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

ডেঙ্গু ভাইরাস বাহক এডিস মশা দিনে কামড়ায়। তাই লম্বা ঢিলেঢালা পোশাক, মশারি ব্যবহার, স্বাস্থ্যসম্মত মশার কয়েল, স্প্রে ব্যবহার করুন। ডেঙ্গু জ্বর আক্রান্ত রোগীকে যাতে মশা কামড় দিতে না পারে সেজন্য রোগী এবং নিজে উভয়ই মশারি ব্যবহার করা। কারণ, ডেঙ্গু জ্বরের রোগীকে মশা কামড়িয়ে প্রথমে মশা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়, পরে সে সুস্থ মানুষকে কামড়িয়ে তার লালার মাধ্যমে ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়ায়।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads