• শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ঝুঁকি কমাবে, জীবন বাঁচাবে

প্রতীকী ছবি

স্বাস্থ্য

প্রাথমিক চিকিৎসা

ঝুঁকি কমাবে, জীবন বাঁচাবে

  • এস এম মুকুল
  • প্রকাশিত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

প্রাথমিক চিকিৎসা হচ্ছে ডাক্তারি চিকিৎসার আগে রোগী বা আহত ব্যক্তির অবস্থা যাতে খারাপের দিকে না যায় বা তার অবস্থার অবনতি না ঘটে, তার জন্য ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে যে চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার গুরুত্ব অপরিসীম। প্রত্যেক মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে কিছু জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। সাধারণত  ছোটখাটো কাটাছেঁড়া, ক্ষত, আঘাত, হাড় ভাঙা, আগুনে পুড়ে ফোস্কা পড়া ইত্যাদি দ্বারা আঘাত বা অসুস্থতাকে সন্তোষজনকভাবে  মোকাবেলা অথবা পরিচর্যা বা চিকিৎসার পরবর্তী লেভেল/ স্টেজে পৌঁছানোর জন্য প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়। যখন-তখন অসাবধানে ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা। বড়রা সচেতন থাকলেও শিশুরা খেলতে খেলতেই ঘটিয়ে ফেলে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। মাথা ঠান্ডা করে পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। প্রাথমিক চিকিৎসায় ব্যবহূত উপকরণাদি যে নির্দিষ্ট বাক্সে থাকে, তাকে ফার্স্ট এইড বক্স বলে। ফার্স্ট এইড বক্স একটি অতি দরকারি জিনিস। প্রয়োজনের সময় দৌড়াদৌড়ি না করে হাতের নাগালে ফার্স্ট এইড বক্স থাকলে খুব সহজেই রোগীকে কিছুটা সামলানো যায়। এতে রোগীসহ আশপাশে লোকজনের অস্থিরতাও অনেকটা কমে। তাই একটা ফার্স্ট এইড বক্স থাকা ও প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে সবার মোটামুটি জ্ঞান থাকা দরকার। প্রয়োজনে তা খুব কাজে দেয়। ফার্স্ট এইড বক্স বহনযোগ্য। ফার্স্ট এইড বক্স স্কুল-কলেজে, অফিস-আদালতে, কলকারখানায় এমনকি বাসাবাড়িতে বা গাড়িতেও রাখা যায়। বাসায় ও গাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য খুব অল্প সময়ের মধ্যে ফার্স্ট এইড বক্স থেকে প্রয়োজনের জিনিসটা তুলে নেওয়া যায়। ছোটখাটো দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য সতর্কতার পাশাপাশি ফার্স্ট এইড কিট বা প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নম্বর, জরুরি অ্যাম্বুলেন্স নম্বর, পারিবারিক চিকিৎসকের ফোন ও সেলফোন নম্বর রাখা দরকার। এ ছাড়া পরিবারের মাসিক বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে কিছু টাকা বরাদ্দ থাকা উচিত। এগুলো বিপদকালে অনেক কাজে লাগে।

বিজ্ঞানসম্মতভাবে ফার্স্ট এইড বা প্রাথমিক চিকিৎসা করতে পারলে বহুক্ষেত্রে জীবন বাঁচানো সম্ভব। এ জন্য জানতে হবে কোন দুর্ঘটনার চিকিৎসা কী এবং কীভাবে দিতে হবে। আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার সময় তিনটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখবেন- ব্যক্তি কী কারণে আহত হয়েছে, কতটুকু প্রাথমিক চিকিৎসা তার প্রয়োজন এবং দ্রুত নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া।

কেটে বা ছিলে গেলে : রক্তক্ষরণ বন্ধ করা বা রক্তপাত কমানোই প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া দরকার। ক্ষতস্থান ধুয়ে নিন। প্রয়োজনে সাবান পানি দিয়ে যত্নের সঙ্গে ক্ষতস্থানে ময়লা পরিষ্কার করুন। পরিষ্কার কাপড় দিয়ে সাবধানে ক্ষতস্থান মুছুন।

পরিষ্কার গজ বা ব্যান্ডেজ দিয়ে ক্ষতস্থান চেপে ধরুন। বিটাডিন বা এন্টিসেপটিক দিয়ে স্থানটি পরিষ্কার করে অ্যান্টিবায়োটিক ক্রিম লাগিয়ে ড্রেসিং করুন।

পুড়ে  গেলে : আগুনে বা গরম পানিতে পুড়ে গেলে দ্রুত আক্রান্ত স্থানটি পরিষ্কার ঠান্ডা পানির নিচে ধরুন। আক্রান্ত স্থানে সিল্কক্রিম লাগালে উপকার পাওয়া যায়। অ্যান্টিবায়োটিক ক্রিম লাগানো যেতে পারে। পোড়ার পরিমাণ বেশি হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ভাঙলে বা মচকালে : আঘাতের স্থান ও পরিমাণ নিরূপণ করে হাতে বা পায়ে ফুলে গেলে সেখানে বরফ সেঁক দিন।  আক্রান্ত স্থান ম্যাসাজ করবেন না ক্রেপ ব্যান্ডেজ দিয়ে মুড়িয়ে রাখুন। অতিরিক্ত ফুলে গেলে বা চামড়ার নিচে কালো হয়ে গেলে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে এক্স-রে করে নিশ্চিত হোন ও যথাযথ চিকিৎসা নিন।

মাথায় আঘাত পেলে : মাথার আঘাত পাওয়া বলতে গেলে আমরা সাধারণত মাথার ভেতরে মস্তিষ্কে আঘাত পাওয়াকে বুঝে থাকি। মাথায় আঘাত কতটা গুরুতর সেটা বুঝতে হলে রোগীকে ভালোভাবে নিরীক্ষণ করতে হবে। মুখে কিছু খেতে দেওয়া যাবে না।  আঘাতের পর বমি, অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব, প্রচণ্ড মাথাব্যথা ইত্যাদি উপসর্গ থাকলে হাসপাতাল বা চিকিৎসকের সাহায্য নিতে হবে।

বিশ্ব ফার্স্ট এইড ডে : হাতের নাগালে থাকুক ফার্স্ট এইড বক্স

বিশ্ব রেড ক্রস ও  রেড ক্রিসেন্টের উদ্যোগে ২০০০ সাল  থেকে পালিত হয় বিশ্ব ফার্স্ট এইড দিবস। ফার্স্ট এইড মানে বলা যায় প্রাথমিক চিকিৎসা। আর প্রাথমিক চিকিৎসায় ব্যবহূত উপকরণাদি যে নির্দিষ্ট বাক্সে থাকে তাকে ফার্স্ট এইড বক্স বলে। ফার্স্ট এইড বক্স অতি দরকারি জিনিস। প্রয়োজনের সময়  দৌড়াদৌড়ি না করে হাতের নাগালে ফার্স্ট এইড বক্স থাকলে খুব সহজেই  রোগীকে কিছুটা সামলানো যায়। এতে রোগীসহ আশপাশে লোকজনের অস্থিরতাও অনেকটা কমে। ফার্স্ট এইড বক্স বহনযোগ্য। ফার্স্ট এইড বক্স স্কুল-কলেজে, অফিস-আদালতে, কলকারখানায় এমনকি বাসাবাড়িতে বা গাড়িতেও রাখা যায়। বাসায় ও গাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য খুব অল্প সময়ের মধ্যে ফার্স্ট এইড বক্স থেকে প্রয়োজনের জিনিসটা তুলে নেওয়া যায়। সংকট মুহূর্তে প্রাথমিক সেবা যাতে মানুষকে বাঁচাতে পারে, সে বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিই দিবসটির উদ্দেশ্য। সংস্থাগুলো মনে করে, প্রত্যেকেরই ফার্স্ট এইড প্রশিক্ষণ থাকা উচিত।

ফার্স্ট এইড বক্সে সাধারণত যেসব উপকরণ থাকে তা নিম্নরূপ : যেকোনো দুর্ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বাড়িতে একটি ফার্স্ট এইড বক্স থাকা খুব জরুরি। ফার্স্ট এইড বাক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার উপকরণ গুছিয়ে রাখা হয়। বাজারে ফার্স্ট এইড বক্স কিনতে পাওয়া যায়। আবার চাইলে আলাদা করে বিভিন্ন উপকরণ কিনে নিজেই বানিয়ে নিতে পারেন ফার্স্ট এইড বক্স। যেকোনো সময় প্রয়োজনে হাতের কাছেই পাওয়া যায় এমন জায়গায় ফার্স্ট এইড বক্স রাখুন।

জীবাণুমুক্ত গজ পিস : ক্ষত থেকে রক্ত পড়া বন্ধ করে ও জীবাণু সংক্রমণ কমায়। ওটা ক্ষতস্থানকে নিরাপদে রাখে, তাতে ময়লা হতে দেয় না এবং ক্ষত থেকে নিঃসৃত তরল পদার্থ শুষে নেয়।

রোলার ব্যান্ডেজ : ড্রেসিংকে তার জায়গায় ভালোভাবে আটকে রাখার জন্য বা অতিরিক্ত রক্তপাত হলে, ব্যান্ডেজের ওপর চাপ দিয়ে পেঁচিয়ে রক্ত বন্ধ করতে, রোলার ব্যান্ডেজ ব্যবহূত হয়। হাতে প্লাস্টার করা হলে তা জায়গামতো রাখতে, স্লিং বানাতে রোলার ব্যান্ডেজ প্রয়োজন হয়।

কাঁচি : ক্ষতের পাশে প্রয়োজনে পরনের কাপড় কাটা, গজ, ব্যান্ডেজ, মাথার চুল ইত্যাদি কাটার জন্য কাঁচি দরকার।

লিউকোপ্লাস্ট : ব্যান্ডেজ ক্ষতের ওপর আটকানোর জন্য দরকার।

অ্যান্টিসেপটিক লোশন বা ক্রিম : ক্ষত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করতে দরকার হয়। যেমন- স্যাভলন, হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, পভিসেভ ইত্যাদি।

ট্যুইজারস বা চিমটি : শরীর থেকে কাঁটা, কোন ক্ষুদ্র বস্তু বা স্প্লিনটার, পোকামাকড়ের শূল ইত্যাদি সরাতে বেশ ফলদায়ক। তা ধাতু বা প্লাস্টিকের তৈরি ও বিভিন্ন ধরনের হতে পারে।

ক্রেপ ব্যান্ডেজ : হাড় ফেটে গেলে বা কোথাও মচকে গেলে ক্রেপ ব্যান্ডেজ ব্যবহারে ব্যথা কমে, ফোলাও ক্রমশ হ্রাস পায়।

সেফটিপিন : কাঁটা বা ক্ষত থেকে কোনো স্প্লিনটার সরাতে, ব্যান্ডেজ আটকাতে ও স্লিং জায়গামতো ধরে রাখার জন্য সেফটিপিন একটি কাজের জিনিস। এটি হালকা, শক্ত ও নিরাপদ।

অ্যান্টিহিস্টামিন : যেমন হিস্টাসিন, ফেক্সোফেনাডিন ইত্যাদি। এগুলো সর্দি, হাঁচি, কাশি, চুলকানি ও পোকার কামড়ের চিকিৎসায় সহায়ক।

ব্যথার ওষুধ : যেমন প্যারাসিটামল, আইবপ্রুফেন ইত্যাদি।

বার্ন ক্রিম : পোড়া জায়গায় ব্যথা কমাতে ও ঘা শুকাতে ব্যবহূত হয়। যেমন— বার্নল বা সিলভারজিন ক্রিম। অ্যালোভেরা জেল পোড়া, চুলকানি ও চামড়ায় র্যাশ হলে বেশ কার্যকর। ক্যালেন্ডুলা ও আরটিকা ইউরেন্স বার্ন ক্রিম দ্রুত ব্যথা কমায়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads